Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬
  • ||

প্রতিদিন খাবারের তালিকায় রাখুন ৫/৬টি খেজুর

প্রকাশ:  ১৩ মার্চ ২০১৯, ০০:১৫
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট icon

খেজুর বেশ প্রচলিত পুষ্টিকর একটি খাবার। খেজুরের গুণের বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানে কথা বলেছেন স্কয়ার হসপিটাল লি. এর পুষ্টিবিদ নুজহাত মঞ্জুর।

তিনি বলেন, খেজুর অত্যন্ত ক্যালরিবহুল একটি খাবার। এটি বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেলস ও আঁশ সমৃদ্ধ। এই ভিটামিনগুলোর মধ্যে রিবোফ্লাবিন, নায়াসিন, থায়মিন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

পুষ্টিবিদ নুজহাত মঞ্জুর বলেন, মিনারেলসগুলোর মধ্যে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম উল্লেখযোগ্য। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি আমাদের সবাইকে দৈনন্দিন ২০ থেকে ৩৫ গ্রাম আঁশ জাতীয় খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে। এটি আমরা খেজুর থেকেই গ্রহণ করতে পারি। এছাড়া সারাদিনে একটি খেজুর খাওয়া আমাদের চোখের সুস্থতা দান করে।

তিনি বলেন, খেজুর উচ্চমাত্রার সলিউবল ফাইবার সমৃদ্ধ। এটি প্রাকৃতিক ল্যাক্সাটিভ হিসেবে কাজ করে আমাদের বাউয়েল মুভমেন্টে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

খেজুরে প্রচুর পরিমাণ মিনারেলস রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যেমন: সেলেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিংক ইত্যাদি থাকায়, এটি হাড়ের গঠন ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। বিভিন্ন ধরনের হাড়ের অসুখ, অস্টিওপরোসিস থেকে রক্ষা করে। নিকোটিন নামক উপাদান খেজুরে থাকায় এটি আমাদের অন্ত্রের বিভিন্ন অসুখ থেকে রক্ষা করে।

এছাড়া রক্তস্বল্পতা দূর করতে খেজুরের জুড়ি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, খেজুরে প্রচুর আয়রন রয়েছে। এছাড়া একটি উপাদান খেজুরে রয়েছে, যেটি সচরাচর অন্যান্য খাবারে আমরা কম পাই। আর সেটি হলো অর্গানিক সালফার। এটি আমাদের বিভিন্ন সিজনাল অ্যালার্জি থেকে রক্ষা করে।

পুষ্টিবিদ নুজহাত মঞ্জুর বলেন, ওজন বাড়াতে খেজুরের জুড়ি নেই। একটি খেজুর থেকে আমরা ২৩ কিলোক্যালরি পেয়ে থাকি। ১০০ গ্রাম খেজুর থেকে আমরা ২৮২ কিলোক্যালরি পাই। এই থেকে আমরা বুঝতে পারি যে অল্প পরিমাণ খাবার থেকে যথেষ্ট ক্যালরি পেতে পারি। যারা ওজন বাড়াতে চান বা পেশি বৃদ্ধি করতে চান, তারা খেজুর খেতে পারেন।

তিনি বলেন, খেজুরে রয়েছে প্রাকৃতিক সুগার। যেমন : গ্লুকোজ, ফ্রুকটোজ, সুক্রোজ। এটি কম সময়ে আমাদের শক্তি যোগাতে সাহায্য করে। এছাড়া ডায়রিয়া হলে খেজুর একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। খেজুরে প্রচুর পটাশিয়াম রয়েছে। এটি আমাদের ডায়রিয়া-পরবর্তী সমস্যা দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

রমজান মাসে সারাদিনের ক্যালরির ঘাটতি খেজুর দিয়েই পূরণ করতে পারি জানিয়ে তিনি বলেন, ডায়াবেটিসের রোগীরাও অনায়াসে দুটো খেজুর খেতে পারেন। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় খেজুর রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

যে সকল রোগের ওষুধ হতে পারে একমাত্র খেজুর:

অনেকেই বিশ্বাস করেন মিষ্টি খাবার মানেই তা শরীরের জন্য ভালো নয়। এই ধারণা কিন্তু ঠিক নয়। কারণ খেজুর একটা মিষ্টি ফল, তবু এর মধ্য কোনও ক্ষতিকর উপাদান নেই বরং এটি খেলে সার্বিকভাবে শরীর অনেক চাঙ্গা থাকে। খেজুরের মধ্য বিপুল পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, ক্য়ালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম এবং ফাইবার থাকার কারণে শীতকালে এই ফলটি খাওয়া খুব জরুরি।

সর্বোপরি এর খাদ্যগুনের জন্য রমজান মাস চলাকলীন মুসলমানরা ইফতার করেন এই ফল দিয়েই। কারণ রোজার কারণে শরীরের বিপুল পরিমাণ শক্তির দরকার পরে, আর খেজুর সে সময় এই কাজটিই করে খুব সুন্দরভাবে। এখানেই শেষ নয়, যারা নিজের ওজন কমাতে ইচ্ছুক তাদের জন্যও এই ফলটি খাওয়া জরুরি। কারণ খেজুর ওজন কমাতে দারুণ কাজে আসে।

খেজুরের আরো কিছু গুনাগুন আমরা জানি:

১. শরীর গরম রাখে: খেজুরে বিপুল পরিমাণে ফাইবার, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এবং ম্য়াগেনশিয়াম থাকার কারণে এটি শরীর গরম রাখতে খুব সাহায্তা করে। সেই কারণেই তো শীতকালে এই ফলটি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।

২. ঠান্ডা কমায় : ঠান্ডায় খুব হাঁচি-কাশি হচ্ছে। চিন্তা নেই। এখনই ২-৩টা খেজুর, কিছুটা মরিচ আর ১-২ টো এলাচ নিয়ে গরম পানিতে ফেল সেদ্ধ করে নিন। দাঁড়ান দাঁড়ান, এখনই খাবেন না। শুতে যাওয়ার আগে ওই পানি খেয়ে নিন। দেখবেন ঠান্ডা কেমন দূরে পালাচ্ছে।

৩. অ্যাজমা সারায়: শীতে যে যে রোগ খুব মাথাচারা দিয়ে ওঠে তার মধ্যে অন্যতম হল হাঁপানি বা অ্যাস্থেমা। প্রতিদিন সকালে আর বিকালে নিয়ন করে ১-২ টো খেজুর খান। দেখবেন শীতকালে আর হাঁপানি হচ্ছে না আপনার।

৪. শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করে: খেজুরে যেহেতু অনেক পরিমাণে প্রাকৃতিক মিষ্টি থাকে, তাই এই ফলটি খেলে নিমেষ শরীরের শক্তি বেড়ে যায়।

৫. কোষ্ঠকাঠিন্য সারায়: কয়েকটা খেজুর নিয়ে সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালে খেজুরটা ফাটিয়ে পানিতে মিশিয়ে সেই পানি পান করুন। দেখবেন কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যা কেমন কমতে শুরু করেছে। আসলে খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার কারণে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে দারুণ কাজে আসে।

৬. হার্টের জন্য ভালো: হার্টকে ভালো রাখে। আর এ কথা তো সকলেরই জানা যে খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। তাই এই ফলটি খেলে হার্ট যেমন ভালো থাকে, তেমনি হার্টরেটও নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে কমে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা।

৭. আর্থারাইটিস কমায়: শীতে যারা আর্থ্রারাইটিসের সমস্য়ায় খুব ভোগেন তারা আজ থেকেই খেজুর খাওয়া শুরু করুন। এতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ থাকার কারণে আর্থ্রারাইটিসের ব্যথা কমাতে এটা দারুণ কাজে দেয়।

৮. উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে: ম্যাগনেশিয়াম আর পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্তা করে। আর এই দুটি খনিজ খেজুরে প্রচুর পরিমাণে থাকায় এই ফলটি খেলে রক্তচাপ একেবারে নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্য়া আছে, তারা প্রতিদিন ৫-৬টা খজুর খেতে ভুলবেন না যেন!

/অ-ভি

apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত