• বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯
  • ||

'বাবার স্মৃতি আঁকড়ে ধরে মা আজও টিনের ঘরে থাকেন'

প্রকাশ:  ১৯ জুন ২০২২, ১৫:২৭
সানজিদা জান্নাত পিংকি
(বাঁ থেকে) ইফফাতুল জান্নাত, পলাশ চন্দ্র রায়, আরাফাতুন নেছা সোনালী ও নাঈম হোসেন ইমন

আপাতগম্ভীর খোলসের আড়ালে পরম নির্ভরতার রূপের ধারক ব্যাক্তিটিকে আমরা বাবা বলে ডাকি। বাবা একাই যেনো একটা প্রতিষ্ঠান। যিনি একাধারে আগলে রাখেন,পাশে থাকেন,নির্ভরতা দেন। সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য নিজের বর্তমানকে হাসিমুখে উৎসর্গ করা এই বাবাদের আজ আলাদাভাবে স্মরণ করার দিন। আজ বাবা দিবস।

দ্বিধা-সংকোচে এই পরম আপন মানুষটির প্রতি ভালোবাসা অপ্রকাশিতই থেকে যায়। বাবা দিবসে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাবাকে ঘিরে স্মৃতি,গল্প ও ভাবনা তুলে ধরেছেন সানজিদা জান্নাত পিংকি।

সম্পর্কিত খবর

    বাবা নেই বলেই রোদের প্রখরতা টের পাই

    পৃথিবীর অন্যতম এক মহানায়কের নাম ‘বাবা’।একটি সন্তানের ভবিষ্যতের সকল সম্ভাবনা গুলো তিল তিল করে গড়ে তুলেন বাবা।বাবার থেকেই আমরা শিখি কিভাবে বাস্তব জীবনের দিনগুলো পারি দিতে হয়।শুধু বাবা'ই পারেন সব কিছুর উর্ধ্বে গিয়ে নিজের সর্বস্ব দিয়ে সন্তানের মুখে এক টুকরো হাসি ফোটাতে,এই হাসিতেই তার সুখ। প্রতিটা মানুষের বাবা তার জন্য আইডল।যাকে দেখে সে অনুপ্রেরণা পায়। জীবনের যে কোন পরিস্থিতিতে, উত্থান-পতনে ভরসার হাতটা বাড়িয়ে দেন বাবা। যার বাবা নেই সেই জানে রোদের খরতাপ কতটা প্রখর। বাবার হাত যার মাথার উপর নেই তার মতো কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন আর কেউ হয়না। পৃথিবীতে একমাত্র বাবাই এমন এক ব্যক্তি যে নিজের চেয়ে সন্তাকে এগিয়ে যেতে দেখতে চায়।ঘামতে দেখেছি তোমায় কিন্তু কাঁদতে দেখিনি।বেঁচে থাকতে কখনো বাবাকে বলা হয়নি 'অনেক ভালোবাসি আব্বু'। তবে মহান আল্লাহর দেয়া উপহারে বাবাই ছিলেন সেরা। তিনিই আমার পৃথিবী,প্রিয় প্রশান্তি। বাবা ওপারে ভালো থাকবেন এই কামনা করি সবসময়।

    ইফফাতুল জান্নাত শিক্ষার্থী, ৫ম বর্ষ,ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগ।

    এখন বুঝি রোজগার করা কতটা কঠিন

    'বাবা' শব্দটা উচ্চারিত হওয়ার সাথে সাথে হৃদয়ে শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার এক অনুভব জাগ্রত হয়। এক জন বাবার মূল্যবোধ, চিন্তা-চেতনা তার সন্তানের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

    বাবাকে হারানোর মানে মাথার উপরে ছাদ হারিয়ে ফেলা।সেই ছাদ আমি হারিয়েছি অনেক আগেই। ২০১৪ সালে বাবা আমাদের থেকে সকল মায়াজাল ছিন্ন করে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। বিদায় বেলায় বাবাকে শেষ দেখাটাও দেখতে পারিনি,সেই কষ্টে আজও হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। বাবা বলতেন যেদিন নিজে আয় করবে বুঝবে টাকা রোজগার করতে কত কষ্ট। এখন সেটা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছি। বাবা ছিলেন আমার দেখা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা। শাসন করতেন, মারতেন, পরক্ষণেই আবার আদর করতেন। সেই শাসন-আদর থেকে বঞ্চিত হয়েছি ৮ বছর। বাবার স্মৃতি আঁকড়ে ধরে মা আজও টিনের চালা ঘরটিতেই থাকেন, পাকা ঘরে থাকতে চান না। আমার হৃদয়ের স্মৃতিপটে শুধুই বাবার স্মৃতি বিরাজ করে। সবসময় মনে হয় বাবা কি পারে না আমাদের মাঝে ফিরে আসতে? আজ ‘বাবা দিবসে' সকল বাবাকে জানাই আমার বিনম্র শ্রদ্ধা।

    পলাশ চন্দ্র রায়, শিক্ষার্থী, ২য় বর্ষ, ফার্মেসি বিভাগ

    বাবা হলেন আবদার মেটানোর মেশিন

    'বাবা' দুইটি অক্ষরের ছোট একটি শব্দ।বাবা বলতেই আমরা বুঝি কঠিন চেহারা,শক্ত ভাবমূর্তির একজন মানুষ যিনি সহজে হাসেন না। কিন্তু আমি জন্মের পর থেকেই বাবাকে চিনেছি অন্য রূপে,বাবাকে পেয়েছি বন্ধু হিসেবে।আমার একমাত্র প্রিয় বন্ধু আমার বাবা।তিনি আমার কাছে ছায়ার মতো, যে ছায়াতলে আমি অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারবো আমার সারাজীবন। বাবা আমাকে বটগাছের মতো আগলে রেখেছে।সব বাবারা বোধহয় এমনি হয়।বাবার হাসি মুখটাই আমার পথচলার অনুপ্রেরণা। আমি আমার পথ চলার প্রতিটি মূহুর্তে বাবাকে অনুভব করি। দিনশেষে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনা, ভালো-মন্দ সবটা বলার, কখনো অভিমান কখনো বায়না করার একমাত্র জায়গাটার নাম বাবা।আমার কাছে প্রতিটা দিনই বাবা দিবস। হয়তো কখনো বলা হয়ে উঠে না,কিন্তু খুব বলতে ইচ্ছে করে, 'তোমাকে অনেক ভালোবাসি বাবা।'

    আরাফাতুন নেছা সোনালী শিক্ষার্থী, ৩য় বর্ষ, আইন বিভাগ।

    পৃথিবীর সেরা যোদ্ধার নাম বাবা

    বাবা,শব্দটি যতটাই ছোট তার গাম্ভীর্য ততটাই বড়। যার ছায়ার নিচে আমার আশ্রয়।যার হাত ধরে আমার প্রথম হাঁটা শেখা,যার কোলে বসে আমার প্রথম আকাশ দেখা,যার কাছ থেকে আমার ভালো-মন্দ শেখা।আমার চোখে সবথেকে পরিশ্রমী মানুষটি হচ্ছে আমার বাবা।যিনি নিঃস্বার্থভাবে শুধুই আমাদের ভালো রাখার জন্য দিনরাত্রি কঠোর পরিশ্রম করছেন।আমি আমার বাবার মতোই পরিশ্রমী হতে চাই।এই মানুষটার প্রতি ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়।যেই মানুষটি তার সন্তানের আনন্দে আনন্দিত হয়,সন্তানের দুঃখ-কষ্টে পাশে এসে বলে 'কিছুই হয়নি বাবা,আমিতো আছি তোমার পাশে'। হাজারো কষ্ট নিজে সহ্য করে কিন্তু তার পরিবারের গায়ে একটি আঁচ আসতে দেয় না।যাদের বাবা নেই তারাই বোঝে জীবনযুদ্ধে বাবা নামক বটগাছ থাকা কতটা প্রয়োজন।পরিশেষে একটি কথাই বলতে চাই,বেঁচে থাকুক হাজার বছর পৃথিবীর সকল বাবারা।বাবারাই হোক প্রত্যেকের জীবনের রোল মডেল।

    নাঈম হোসেন ইমন শিক্ষার্থী, ১ম বর্ষ,কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।

    পূর্বপশ্চিম- সানজিদা/ এনই

    বাবা দিবস
    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close