• শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

ঘরবন্দি সময়ে শরীর-মন  সুস্থ রাখার উপায়

প্রকাশ:  ০৩ মে ২০২০, ২০:০৫
ডাঃ ফারুক আজম

সেবা প্রত্যাশী অনেকে এসে বলেন , ‘আমি ভয়ানক আশংকায় ভুগছি ,যেন প্যানিক অ্যাটাক হচ্ছে কি করব? এক মানসিক অবসাদ আমাকে আচ্ছন্ন করেছে।’ আমি তার আশঙ্কার বা ভীতির কারণ জানতে চাই। তাদের প্রধান আশঙ্কা যদি সে করোনায় আক্রান্ত হয় তবে নির্ঘাত মৃত্যু । তার পরিবারের আর কাউকে কি সে সংক্রমণ ছড়িয়েছে? তাদের কি হবে?

একটু কাশি হলে বা গা টা একটু গরম লাগলে মনে হয় বুঝি এই মারণ ব্যাধি আমাকে আক্রমন করল! তার একটা প্রধান কারণ অতিমাত্রায় করোনা সংক্রান্ত খবর শোনা ।

সম্পর্কিত খবর

    নিশ্চয় এ নিদারুণ বাস্তব যে করোনার অতিমারিতে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর মিছিল । কিন্তু আমরা সম্পূর্ণ অসহায় নই। আমরা কিভাবে এর প্রতিকার করতে পারি ? অবশ্যই সব সব সতর্কতা মেনে চলা। এই ভাইরাস ভীষণ ভাবে সঙ্গ চায় , আপনি যদি তাকে সঙ্গ না দেন তাকে এড়িয়ে যান তবে সে আপনার কাছে আসবেনা। সে জন্য ঘরে থাকুন। এই ভাইরাস এক অবিশ্বাসী আততায়ী।

    - সতর্কতা মেনে চলার পর ও তো কোন গ্যারান্টি নেই যে আমি আক্রান্ত হব না।

    - তা ঠিক ,কোন গ্যারান্টি নেই । প্রত্যেক মানুষের জীবনে, ব্যক্তিগত বা সামাজিক ভাবে বা বিশ্বব্যাপী একটা দুর্যোগ আসে । আমি কি করে ভাবব আমার জীবনে তা আসবেনা? কিন্তু সব বিধিনিষেধ মানার পর এর কবলে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কতটুকু? আক্রান্ত হলে দেখা গেছে শতকরা আশি জনের উপসর্গ হল ‘মাইল্ড’ বা মৃদু। তারা নিজেদের চিকিৎসা নিজ বাড়িতে করতে পারে, শতকরা বারো জনের উপসর্গ হয় ‘গুরুতর; বা সিরিয়াস , তাদের শ্বাস কষ্ট হয় , আর শতকরা ৮ জনের পরিস্থিতি হয় ভয়ানক বা ‘ক্রিটিকেল’ যখন তাদের ফুসফুস কাজ করেনা ভেন্টিলেটর তখন অত্যাবশ্যক। সেটা নির্ভর করছে বয়েসের উপর সেই সাথে স্বাস্থ্য সঙ্ক্রান্ত পূর্ব উপসর্গের উপর . তারপরেও মানুষ রোগমুক্ত হচ্ছে , ভেন্টিলেটর থেকে ফিরে আসছে সুস্থ হয়ে । - এই সার্বক্ষণিক আতঙ্কে আমি কিছুতেই সহজ হতে পারছিনা । সব কিছুতে ভয়।

    - Mindfulness নামক একটি পদ্ধতি সাইকোলজিস্ট রা প্রয়োগ করেন । অল্প কথায় , আমরা বিশ্বাস করি বাইরের ঘটনা বা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে আমাদের সুখ শান্তি , তখন আমরা ‘বাইরের’ পরিবর্তন করতে চাই , কিন্তু সেটা সম্ভব নয় । আমাদের সৌম্যতা আনতে হবে মানসিক চর্চায়। আমদের ব্রেন অদ্ভুত ভাবে শক্তিশালী, আমাদের চিন্তা কে আমরা সেভাবে প্রস্তুত করতে পারি, আমরা হয়ত দুশ্চিন্তায় ভেসে যাব অথবা মনের ভেতর একটা স্থিতি সৃষ্টি করব । মৃত্যু এক অবধারিত পরিণতি , তা বলে আমরা সব কিছু ছেঁড়ে ছুঁড়ে মৃত্যুর অপেক্ষায় কালাতিপাত করবোনা । মনের ভেতর সে শক্তি জোগানোর ধ্যান এই ‘মাইন্ড ফুলনেস’ পদ্ধতি।

    ব্রেইনের ‘প্রি ফ্রন্টাল কর্টেক্স’ যার কাজ হল আমাদের যুক্তি সঙ্গত ভাবে চলতে সাহায্য করা , কিন্তু অতি ভীতি , আশঙ্কা ,উদ্বেগ তার থেকে আমাদের বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সেই ‘প্রি ফ্রন্টাল কর্টেক্স’ পুনঃ সংযোগ স্থাপন করা ‘ ‘mindfulness’ পদ্ধতির লক্ষ্য।

    এমন একটা পরিস্থিতি যার নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতের বাইরে। তবু এই রুঢ় বাস্তবকে মেনে নিয়ে, এই দুঃসময়ে আমাদের শরীর-মন কি ভাবে চাঙ্গা রাখব।

    মারাত্মক করোনা ভাইরাসের ভরকেন্দ্র এখন আমেরিকা । কোভিড ১৯ যে নির্মম তাণ্ডবলীলা হাজার হাজার মানুষের প্রাণ ছিনিয়ে নিচ্ছে তা রুখতে বিশ্বের শক্তিশালী দেশ গুলো কাবু । পৃথিবী জুড়ে মৃত্যু ছাড়িয়েছে দুই লাখ। আমেরিকা সংক্রমণের নিরীক্ষায় এখন শীর্ষ স্থানে। এই লকডাউন , সামাজিক বিচ্ছিন্নতা সমাজ বিজ্ঞানীর মতে ‘বিশ্বঅর্থনীতির বিধ্বস্ত অবস্থা, মৃত্যুমিছিল, কর্মহীনতা এবং সেই কারণে উদ্ভুত পরিস্থিতি— এ সব এড়ানো প্রায় অসম্ভব। করোনা-পরিস্থিতির পর এই সমস্যা ভয়ঙ্কর হয়ে দেখা দেবে পৃথিবীতে। সংকীর্ণ রাজনীতির বাইরে গিয়ে রাষ্ট্র আন্তরিক প্রচেষ্টা চালালে সেই অবস্থা থেকেও বেরিয়ে আসা যাবে হয়তো। কিন্তু মানুষের মন, তার শরীর, তার স্বাস্থ্য, তার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম— কী হবে এ সবের? ভাবতে হবে এখন থেকেই। না হলে দেরি হয়ে যাবে’।

    শিশুদের মানসিক দিকের প্রতিও আমাদের সজাগ থাকতে হবে। তাদের মনে যে প্রভাব এবং চাপ পড়েছে তার প্রতিক্রিয়া দীর্ঘদিন থাকতে পারে।

    নিউ ইয়র্কে প্রতি আড়াই মিনিটে একজনের মৃত্যু করোনা ভাইরাসে। এই সব ভয়াবহ সংবাদ মানুষের মনে ভীতি , উদ্বেগ , দুশ্চিন্তা, অবসাদ , বিষণ্ণতার উদ্রেক করবে তা স্বাভাবিক। এই দুশ্চিন্তা পরিবেশ ও সময় জনিত। কিন্তু উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা যদি এমন পর্যায় যায় যেখানে জীবন যাত্রা ব্যাহত হয় সেইটে পরিণত হয় মনবৈকল্যে। তখন আপনাকে কাউন্সেলিংয়ের ও মনোবিদের সাহায্য দরকার হবে।

    এই মুহূর্তে জীবন যাপন স্বাভাবিক নয়। এক কৃত্রিম , অস্বাভাবিক, প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে মানুষ দিনাতিপাত করছে। বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ সত্ত্বেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেড়ে যাচ্ছে হু হু করে । রাশ টানা যাচ্ছেনা এই ভয়ঙ্কর মারণ ভাইরাসকে । প্রিয়জন থাকতে পারছেনা প্রিয়জনের অন্তিম মুহূর্তে ।শেষ কৃত্য পালন হচ্ছেনা যথাযথ ভাবে, যথাযথ মর্যাদায়। কালো ব্যগে বস্তা বস্তা মৃতদেহ জড়ো হচ্ছে হিমশীতল ট্রাকটারে।

    এ সব খবরে, ঘটনায়, চাক্ষুষ প্রমাণে মানুষ কেবল ভীতসন্ত্রস্তই নয় , তারা মানসিক ভাবে ভয়ানক পর্যুদস্ত। বিপর্যয় নেমেছে , ব্যক্তিগত , সামাজিক, আর্থিক এবং কর্মজীবনে।

    এই সময় বাড়ছে বিষণ্ণতা , আত্মহত্যা এবং মাদকদ্রব্য আসক্তি। এমন বিপন্ন সময়ে এই অতিমারিতে মানসিক ঋজু বদ্ধতা চাই।

    এমন কোন ঔষধি নেই যা সেবন করলে সব সমস্যা যাবে দূরীভূত হয়ে । মানসিক ভাবেই এই মানসিক বিপর্যয় ঠেকাতে হবে। উদ্বেগ এবং আতঙ্কের সচরাচর কারণ সনাক্ত করেছে আমেরিকার ন্যশনাল আলিয়ান্স অফ মেন্টাল ইলনেস (NAMI).

    করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত উদ্বেগ স্বাভাবিক। ফেব্রুয়ারি মাসে চীনে সমীক্ষায় দেখা গেছে ৮২.৬% দুশ্চিন্তাভোগী ছিলেন করোনা ভাইরাস নিয়ে।‘কাইসার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন ‘ জরিপে করোনা ভাইরাস অতিমারি সংক্রান্ত দুশ্চিন্তার প্রধান কারণ গুলো হচ্ছে -

    নিজে অথবা পরিবারের অন্য কেউ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবে।

    পূঁজি বিনিয়োগ হারানোর আশংকা, যেমন অবসর ভাতা , কলেজ ফান্ড।

    উপার্জন হারানোর আশংকা , কর্মস্থল বন্ধের কারণে।

    প্রয়োজনে চিকিৎসা বা নমুনা পরীক্ষা করায় অসমর্থ।

    ভাইরাস সংক্রমণের শিকার হওয়া যদি কাজে যেতে বাধ্য হয়।

    অবসেশন বা অনুক্ষণের চিন্তা: যে চিন্তা আপনাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। এই রকম পরিস্থিতিতে প্রতিক্ষণের চিন্তা কি করে রোগ প্রতিরোধ করা যায়।বিশেষ করে যারা এমনিতেই শুচিবাই রোগে ভুগছেন তাঁদের অবস্থা আরও গুরুতর হচ্ছে। . একাকীত্ব সামাজিক বিচ্ছিন্নতা , লকডাউন , সামাজিক দূরত্ব বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ, কোভিড ১৯ ছড়ানো প্রতিরোধের উপায়। এই বিচ্ছিন্নতা , একাকীত্ব ও বিষণ্ণতার সৃষ্টি করছে।

    ট্রামেটিক (Traumatic) অভিজ্ঞতা বা মানসিক ধকল : যারা কোয়ারাইনটিন হয়েছেন সমীক্ষায় দেখা গেছে ২০০৩ সারস (SARS) মহামারিতে প্রায় ২৯% এরকম মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। যার দুঃস্বপ্ন বইতে হয়েছে বহুদিন।

    আপনার কি করনীয়

    এই সব মানসিক বিপত্তির ঝুঁকি নিয়ে আমরা সম্মিলিত ভাবে এমন পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করে এবং মানসিক চাপ রুখতে পারি এমন কিছু কৌশল বিশেষজ্ঞরা রপ্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন, এই অতিমারি প্রতিরোধ সংক্রান্ত সংবাদ উপযোগী। কিন্তু নিশিদিন খবর নিয়ে পড়ে থাকলে দুশ্চিন্তাই বাড়বে।

    কতটা সংবাদ গ্রহণ করছেন । এই সময় ইন্টারনেট , ওয়েবসাইট এ বিবিধ সংবাদে পূর্ণ। তার মধ্যে সব তথ্যভিত্তিক নয় , নানা রকম ভিত্তিহীন সংবাদ যা কেবলই ঊদবিগ্নতা বাড়ায়। কোনটা আবার কুমন্ত্রনাদায়ক, যেখানে তারা স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ভুল তথ্য পরিবেশন করছে। নির্দিষ্ট করুন সংবাদের উৎস। যেমন CDC নির্ভরযোগ্য । আর অন্য সংবাদ মাধ্যম যা আপনার মধ্যে অযথা মানসিক বিপর্যয়ের উদ্রেক করে না।

    যদি আপনার কম্পিউটার বা ফোনে কোন খবর পড়েন তাহলে ডিস্টারবিং ছবি/খবর এড়িয়ে আপনি যা জানতে চেয়েছিলেন শুধু সে অংশ টুকু পড়ুন।

    এটা মেনে নিন যে সংবাদ মিডিয়া বা কাগজ পত্র আপনার সব প্রশ্নের উত্তর দেবে না। মেনে নিন যে এটা এমন এক দুঃসময়, পৃথিবী ইতিপূর্বে যার সম্মুখীন হয়নি। মেনে নিন এ এক অভূতপূর্ব , অনিশ্চিত সময়। সতর্কতা যা যা বিধি নিষেধ আছে যা পালন করলে কোভিড-১৯ এর ভয়াবহ প্রকোপ কমবে তা আপনি মেনে চলবেন। যেমন সামাজিক দূরত্ব।

    সংবাদ শোনা বা পড়া সীমিত রাখবেন। হয়ত দিনে একবার কি দুইবার।

    দেখুন কোনটি বিশ্বের কোনটি স্থানীয় । হতে পারে দুটোর আলাদা ধারা , সে হিসেবে খবর যাচাই করুন।তাতে আপনার বিচলিত হবার মাত্রাটা হয়ত কমবে।

    যদি আপনার মনে হয় সরাসরি সংবাদ গ্রহণ আপনার দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিচ্ছে তাহলে সংবাদ গুলো থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করুন। বা আপনি আপনার বন্ধু বা পরিবারের কাউকে বলবেন আপনাকে কেবল প্রাসঙ্গিক খবর গুলো জানাতে। অনেকটা খবরগুলো ছেঁচে নেয়ার মত।

    করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কে অভিহিত হওয়া। আপনার ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিন আপনার স্বাস্থ্য সঙ্গত কি কি সতর্কতা অবলম্বন করবেন এবং যদি হয় তখন আপনার কি করনীয় হবে । এক কথায় সম্ভবপরের জন্য প্রস্তুত থাকা। CDC থেকে তথ্য সমৃদ্ধ হোন। জরুরী অবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকুন। যোগাযোগ রাখুন বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে, skype,facetime, email, messenger, WhatsApp, textএর মাধ্যমে বিশেষ করে যারা বিচ্ছিন্ন । তাঁদের উদ্বেগের বিষয় গুলো এবং নিজের গুলোও শেয়ার করুন। Reflective Listening পদ্ধতি শিখুন। সেটা হল , আপনি শুনলেন অপরজন কি বলছে এবং তাই তার কাছে পুনরাবৃত্তি করবেন । তাঁদের উদ্বেগ ‘ওটা কিছু না’ বলে উড়িয়ে দেবেন না। তাঁর দুশ্চিন্তা গুলো শুনুন । অন্যের কাছে নিজের ভয় বা চিন্তা জানালে এবং জানলে যে তাঁরাও একই দুশিন্তায় ভুগছে তাতে ভারটা কিছুটা লাঘব হয়।

    সবার পছন্দ মত একটি বিষয় নিয়ে গ্রুপ করুন। সেটা নিয়ে প্রত্যেকদিন বা সপ্তাহে একদিন একটা নিদিষ্ট সময়ে গ্রুপ চ্যাট করতে পারেন।

    সামাজিক সংযুক্ততা বিষণ্ণতা এবং একাকীত্ব দুর করতে ভীষণ সাহায্য করে। ইন্টারনেটে অনেক গ্রুপ আছে একাকীত্ব ঘোচাতে কাজে দেয়। যারা মানসিক প্রতিবন্দী তাদের জন্যও। যেমন ForLikeMinds, 7 cups, Emotions Anonymous,support groups central, Therapy Tribe,18percent, PsychCentral প্রভৃতি ।

    নিজের যত্ন নিন এই সময় নিজ স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নেয়া সর্বপ্রধান কাজ। একান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো হচ্ছে ,পর্যাপ্ত নিদ্রা , ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবার।

    চাপ প্রশমিত করার পন্থা বের করুন , যেমন হাঁটতে যাওয়া , জার্নাল লিখা, প্রিয়জনকে ফোন করা। একটি প্রাত্যহিক নিয়ম রাখা। যেমন কাজে যেতেন সেই রকম প্রস্তুতি নেয়া , সে রকম পোশাক পরা।

    মনোযোগ নিবিষ্ট করা । ভবিষ্যৎ সংকটময় মুহূর্ত নিয়ে ভাববেন না। অনলাইনে বহু দ্রষ্টব্য আছে , যেমন কিন্ডেল বই, YouTube এ ধ্যান শেখা, ইওগা করা,apps যেমন Headspace।

    এমন কিছু বের করুন যাতে মনটা অন্যদিকে যায় ঘরের কাজ , বাগান করা এসব সম্পন্ন হলে আপনি পরিতৃপ্ত হতে পারেন। ফ্রি অনলাইন ভার্সিটি কোর্স , যেমন cousera, Yale বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কোর্স .The Science of Well-Being, সেখানে শেখার অনেক কিছু আছে।

    ছবি দেখা , অনলাইনে , netflix এ ইস্ট্রিমিং করতে পারেন কোন অপেরা বা খেলা NFL, NBA এর।

    ধর্মীয় যোগাযোগ রাখা। নিজের ধর্মগুরুর সঙ্গে , ভার্চুয়াল উপাসনালয়ে যাওয়া।

    আধ্যাত্মিক চর্চা , যার যার ধর্ম অনুযায়ী ধর্ম পালন করা। অন্যকে সাহায্য করা। অন্যের উপকারে এলে নিজের ভাল লাগে। কেউ কেউ অন্যের গ্রোসারি করে দিচ্ছে। কানাডায় একটা আন্দোলনের সৃষ্টি হয়েছে ’caremongers’ নামে। তারা অন্যদের দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করছে।

    UNICEF এর কর্মকর্তা হেনরিটা ফোর কিছু মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন যেমন :গান, কবিতার চর্চা করা যায় এই সময় মানসিক সঙ্কট কাটাতে উদ্বিগ্নতার একটা জানালা রাখুন। এবং একটা নিদিষ্ট সময়ে আপনার কি কি দুশ্চিন্তা আছে সেগুলো ভাববেন শুধু একটি নির্ধারিত মুহূর্তে , হয়ত ২০-৩০ মিনিট বা একটু বেশি সময়ের জন্য। কিন্তু তা নিয়ে পড়ে থাকা নয়।

    কৃতজ্ঞতার একটা দলিল করুন। প্রত্যহ তিনটি কৃতজ্ঞতার কথা লিখুন। অর্থাৎ, আপনার কৃতজ্ঞ হবার কি কি আছে সেরকম তিনটি জিনিষ । হতে পারে আপনার সুস্বাস্থ্য , আপনার সুস্থ ছেলেমেয়েরা , আপনার ভাল বন্ধুরা আছেন , এরকম -

    একটা ভাল দিনের জন্য নিজেকে নিজে বাহবা দিন বা অন্যের একটা ভাল দিনের জন্য তাকে বাহবা দিন। যেমন একটা দিন আপনি কাটালেন সম্পূর্ণ দুশ্চিন্তা বিহীন , অথবা একটা দিন আপনার মনে হলনা করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সব উপসর্গ আপনার মাঝে আছে। সেই দিন নিজেকে নিজে অভিনন্দন জানান। এছাড়া করোনা ভাইরাস নিয়ে কৌতুকের ছড়াছড়ি তা উপভোগ করুন ।

    এই বিপদসংকুল অনিশ্চিত সময়ে মানুষ মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হবে , সেটা স্বাভাবিক । কিন্তু কি করে এ বিপর্যয় ঠেকানো যাবে তা একমাত্র লক্ষ্য। রোগ সম্পর্কে জানা , ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা এবং নানা পথ এবং পন্থা সমৃদ্ধ তথ্য আছে অনলাইনে। বিপদ আছে বলে আতঙ্কিত হয়ে গুটি শুঁটি মেরে থাকলে বিপদ তো যাবেনা । সুধীন্দ্রনাথের ‘উঠ পাখি’ কবিতার পঙক্তি ছিল -‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?’

    আশার কথা এই যে করোনার চোখ রাঙ্গানো আর ভয়ঙ্কর হিংস্র ভ্রুকুটিকে উপেক্ষা করে মানুষ মেতেছে করোনার তাণ্ডব লীলা ঠেকাতে। আই,বি, এম এর সুপার কম্পিউটার আট হাজার মলেকুলার কম্পাউন্ড দু একদিনে বিশ্লেষণ করে ৭৭টি মলেকিউল আলাদা করেছে যা দিয়ে এই মারণ জীবাণুর মরণ ঘটাবে, অন্যথায় এর সময় লাগত মাস খানেক। জার্মানির মাইক্রবায়োলজিস্ট ডঃ স্তেফান BCG থেকে নতুন ড্রাগ উদ্ভাবন করছে যা দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টিকারী কোষ গুলো বাড়িয়ে কোভিড ১৯এর আক্রমণ প্রতিহত করবে । এ লড়াই মানুষ আর অদৃশ্য অশুভ মারণ জীবাণুর। যুদ্ধে অবশ্যই মানুষেরই জয় হবে সেটা সুনিশ্চিত। করোনাভাইরাস অতিমারীর একটি গাইডলাইন যা সম্পর্কে আমাদের একটি পরিষ্কার ধারনা দরকার ।

    করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে কীভাবে আবদ্ধ ও প্রশমিত করা যায়।

    মনে রাখা দরকার, আমরা সকলেই অকারণ উদ্বেগের শিকার।

    বিজ্ঞানের প্রযুক্তির যুগে আধ্যাত্মিক চর্চার এক বিশেষ ভূমিকা আছে । আধ্যাত্মিক চর্চা মানসিক উদ্বেগের উপশম ঘটায় ।

    শরীর-মন ভাল রাখাই এই ঘরবন্দি সময়ে সুস্থ থাকার একমাত্র পথ "THE SINGLE MOST IMPORTANT THING THAT CAN HAPPEN RIGHT NOW IN THIS PANDEMIC IS THAT WE FEEL OUR COLLECTIVITY — THAT WE’RE HERE TO HELP EACH OTHER MOVE THROUGH THIS”

    এই দুঃসহ দিনে রবীন্দ্রনাথের এই বানী আকুল প্রার্থনা যেন

    ‘এই রুদ্র , এই ব্যপ্ত , এ নিঃশব্দ দাহ

    নিঃসহ নৈরাশ্যতাপ চাহো নাথ চাহো

    জননী যেমন চাহে সজল নয়ানে

    পিতার ক্রোধের দিনে সন্তানের পানে’।

    লেখক: মনস্তত্ত্ববিদ , নিউ জার্সি, যুক্তরাষ্ট্র

    পূর্বপশ্চিম- এনই

    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close