• শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

শাওমির বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীর তথ্য পাচারের অভিযোগ

প্রকাশ:  ০২ মে ২০২০, ১৯:৪৩ | আপডেট : ০২ মে ২০২০, ১৯:৫০
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক

চীনের মোবাইল প্রস্তুতকারী সংস্থা শাওমির ব্যবহারকারীদের তথ্য পাচারের অভি‌যোগ উঠেছে। ইন্টারনেট সুরক্ষা নিয়ে কাজ করে ভারতের এক ইন্টারনেট সুরক্ষা প্রতিষ্ঠান শাওমির বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। শাওমির ফোন যারা ব্যবহার করেন তাদের ব্যক্তিগত তথ্য আলিবাবার সার্ভারে পৌঁছে ‌যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এমনকি গ্রাহকদের ব্রাউসিং ডেটা পাচার করা মত গুরুতর অভি‌যোগ করা হয়েছে শাওমির বিরুদ্ধে। তবে এই সমস্ত অভি‌যোগ খারিজ করে শাওমি কর্তারা জানিয়েছে গ্রাহকদের কোনো রকম তথ্য চিনে পাঠানো হচ্ছেনা। তবে তারা গ্রাহকদের ব্রাউসিং হিস্ট্রি তাদের পরিচয় ছাড়া সংগ্রহ করলেও অন্য সংস্থার কাছে তা কোনোভাবেই ‌‌যায় না বলে জানায় শাওমি কর্তৃপক্ষ

অভিযোগে বলা হয়েছে, চীনে আলিবাবার সার্ভারে গ্রাহকের ব্রাউজিং ডেটা পাঠায় বেজিংয়ের কোম্পানিটি। স্মার্টফোনের সঙ্গে থাকা ওয়েব ব্রাউজারের তথ্যের সঙ্গেই ‘ইনকগনিটো' মোডের ব্রাউজিং ডেটাও চিনে পাঠাচ্ছে শাওমি। যদিও এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে শাওমি জানিয় গ্রাহকের পরিচয় গোপন রেখে ব্রাউজিং ডেটা সংগ্রহ করা হলেও তা অন্য কোম্পানির সঙ্গে শেয়ার করা হয় না।

ইন্টারনেট সুরক্ষা গবেষক গাবি সার্লিগ ও অ্যান্ড্রু টিয়ের্নি শাওমি ফোনের সুরক্ষা গাফিলতি সামনে এনেছেন। তারা জানিয়েছেন গ্রাহকের সম্মতি না নিয়েই ব্রাউজিং ডেটা সংগ্রহ করছে চীনের কোম্পানিটি।

সম্প্রতি জনপ্রিয় ফোর্বস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত রিপোর্টে এই কথা জানানো হয়েছে। সার্লিগ জানিয়েছেন তার রেডমি নোট এইট ফোনের ব্রাউজিং ডেটা আলিবাবার সার্ভারে পাঠিয়েছে শাওমি।

গবেষকরা জানিয়েছেন শাওমি ফোনে সুরক্ষায় গাফিলতির জন্য ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয় তথ্য ফাঁস হয়ে গিয়েছে। মি রেডমি ফোনে এই জন্য অতিরিক্ত ফিচার যোগ করেছে শাওমি।

সার্লিগ আরও বলেন, ব্রাউজিং ডেটা ছাড়াও স্মার্টফোনে কোন ফোল্ডার ওপেন করেছেন সেই তথ্য সংগ্রহ করেছে কোম্পানিটি। এছাড়াও স্মার্টফোনের কোন কোন স্ক্রিন ব্যবহার হচ্ছে সেই তথ্য চুপিচুপি পাচার করেছে শাওমি। রাশিয়া ও সিঙ্গাপুরের সার্ভারে এই সব তথ্য পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ।

যদিও এটা নির্দিষ্ট কোন মডেলের সমস্যা নয়। রেডমি নোট এইট ছাড়াও একাধিক শাওমি ফোন থেকে তথ্য পাচারের হদিস পেয়েছেন সার্লিগ।

মি টেন, রেডমি কে ২০, মি মিক্স ৩ মডেলগুলোর সুরক্ষায় গাফিলতি দেখিয়ে দিয়েছেন এই গবেষক।

এছাড়াও সার্লিগ ও টিয়ের্নি জানিয়েছেন গুগল প্লে স্টোর থেকে শাওমি ব্রাউজার ডাউনলোড করলেও একই সমস্যা থেকে যাচ্ছে। প্লে স্টোর থেকে প্রায় দেড় কোটি বার এই ব্রাউজার ডাউনলোড হয়েছে।

গ্রাহকের স্মার্টফোন ব্যবহারের অভ্যাস বোঝার জন্য এই ডেটা সংগ্রহ করে থাকতে পারে বেজিংয়ের সংস্থাটি। সম্প্রতি এই জন্য স্টার্ট আপ ডেটা অ্যানালিটিক্স কোম্পানি সেন্সর অ্যানালিটিক্স-এর সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল শাওমি। সার্লিগ ও টিয়ের্নি যে সার্ভারের খোঁজ পেয়েছেন সেখানে সেন্সর অ্যানালিটিক্স-এর যোগ রয়েছে।


পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

শাওমি,চীন,ইন্টারনেট
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close