• শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৬
  • ||

যশোরের ঐতিহ্যবাহী খাবার ছিটেরুটি ও কুকড়োর লাল ঝোল

প্রকাশ:  ০৫ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০৪
যশোর প্রতিনিধি

অতিথি আপ্যায়ন বাঙ্গালীদের একটি কালচার। শত বছর ধরে বাঙালি এই প্রথা মেনে আসছে। যশোর অঞ্চলেও এ আপ্যায়ন প্রথা চলে আসছে যুগ যুগ ধরে।

বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন এলেই যশোরের মানুষ প্রথমে যে খাবারটি দিয়ে তাদের আপ্যায়ন করে, সেটি হচ্ছে ছিটেরুটি আর মুরগির মাংসের লাল ঝোল।

যশোরের ছিটে রুটি খেয়ে জামাই শ্বশুরবাড়ির কথা ভুলতেই পারে না। খুশবুময় ‘আলো’ (আতপ) চালের ছিটে রুটি আর কুকড়োর (মুরগি) মাংসের যেন জবাব নেই। ছিটে রুটি তৈরিতেও গৃহবধূর আছে বিশেষ কারিশমা। ছিটে রুটি নরম হয়। কাগজের মতো পাতলা হয়। এটি ছিটে পিঠা হিসেবেও পরিচিত। যশোরের বাঘারপাড়া ও মণিরামপুর উপজেলার ছিটে রুটি বেশি বিখ্যাত।

আর স্থানীয় ভাষায় মুরগির মাংস রান্নাকে বলা হয়- কুকড়োর ঝোল। কখনও-সখনও শীতকালে মুরগির মাংসের স্থলে হাঁসের মাংসও দেওয়া হয়।

ছিটেরুটি ও মুরগির মাংসের এই খাবারটি এই অঞ্চলের মানুষের কাছে বেশ লোভনীয়। আসুন জেনে নেই এই ছিটেরুটি ও কুকড়োর লাল ঝোলের রেসিপি।

ছিটেরুটি তৈরি করতে হলে ভাল করে আগে চালের গুঁড়ো (ঢেঁকি দিয়ে আতপ চাল ভেঙে তৈরি আটা) মিশ্রণ করতে হয়। যেন মিশ্রণ খুব ঘণ কিংবা পাতলা না হয়। চুলো জ্বালিয়ে প্রথমে কড়াইটা একটু গরম করে তারপরে কলার ডাটি দিয়ে অল্প করে তেল ব্রাশ করে নিয়ে পরে গোলা হাতের আঙুলের মাধ্যমে আস্তে আস্তে ছিটিয়ে দিতে হয় কড়াইয়ে। একটু পরেই খুন্তি দিয়ে সেগুলো তুলে ফের একই কায়দায় গোলা ছিটিয়ে ছিটেরুটি তৈরি করতে হয়। ২ কেজি চালের গুঁড়োয় ৮-১০জন পরিপূর্ণভাবে খেতে পারে।

ছিটেরুটির সাথে যে কুকড়োর মাংস দেওয়া হয়, সেই মাংসে একটু ঝাল বেশি লাগে। সেকারণে মাংসে শুকনো মরিচের পরিমাণ একটু বেশি দিতে হয়। প্রথমে পেঁয়াজ-রসুন আর মসলা দিয়ে কুকড়ো মাংস ভালভাবে কষিয়ে নিতে হয়। মাংস কষানো হলে তারপরে লবণ, দুয়েকটা তেজপাতা ও গরম পানি দিয়ে কিছুক্ষণ ঢাকনা দিয়ে আটকে দিতে হয়। মাংস সেদ্ধ হয়ে এলে আগে থেকে বেটে রাখা গরম মসলা আর ভেজে রাখা জিরার গুঁড়ো দিয়ে মিনিট খানেক পরে নামিয়ে রাখা হয়।

এভাবেই আপনি তৈরি করতে পারবেন কুকড়োর লাল ঝোল।


পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

যশোর,ছিটেরুটি,কুকড়োর লাল ঝোল
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত