• শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

সৃষ্টিশীল কাজ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন জেরান জুহি

প্রকাশ:  ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০:৩৬ | আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০:৪২
লুতফুল হক খান
জেরান জুহি

এক বড় বোনের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে অর্থহীন ব্যান্ডের গাওয়া ‘চাইতে পারো’ গানটি গেয়েছিলেন জেরান জুহি। সেটির ভিডিও ফেসবুকের মাধ্যমে নজরে এলে তাকে একসাথে মিউজিক ভিডিওতে কাজ করার প্রস্তাব দেন অর্থহীন ব্যান্ডের ভোকালিস্ট, প্রখ্যাত ব্যান্ড শিল্পী সুমন। সেটা ২০১৫ সালের কথা। অতঃপর অর্থহীন ব্যান্ডের ‘এপিটাফ’ গানের মিউজিক ভিডিওতে কণ্ঠ দেন এবং পারফর্মও করেন জুহি। দর্শক-শ্রোতের কাছ থেকে দারুণ সাড়া পায় মিউজিক ভিডিওটি।

ইউটিউবে এই মিউজিক ভিডিও প্রচারের পর সবার নজরে আসলেও, জেরান জুহি আসলে গান করেন অনেক আগে থেকেই। গান শেখায় হাতেখড়ি সেই ছোটবেলায়। পরে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। ‘এপিটাফ’-এর মিউজিক ভিডিওর আগে-পরে প্রচারিত হয়েছে তার বিভিন্ন মিউজিক মিডিও।

সম্পর্কিত খবর

    এরপরও গান করাটাকে পেশাদারীভাবে নেননি। গানের প্রতি ভালোবাসা থেকেই গান করেছেন ও করেন তিনি। তবে, সৃষ্টিশীলতা বা সৃষ্টিশীল কাজে সবসময়ই আগ্রহ তার। সেই জায়গা বা দৃষ্টিকোণ থেকে বছরখানেক ধরে কাজ করছেন ফটোগ্রাফি নিয়ে। এটা করছেন পেশাদারিত্বের সঙ্গেই। তবে, এতেও যে তার ভালোবাসা বা আবেগটা রয়েছে, সেটা বলাই বাহূল্য। গান করা বা ফটোগ্রাফির মতো সৃষ্টিশীল কাজই সবসময় টেনেছে তাকে। মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (মিস্ট) থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন ‘অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মতো অত্যন্ত উচ্চমানের একটা বিষয়ে, কয়েক বছর আগে। একটা এয়ারলাইন্সে দুবছর কাজও করেছেন এরপর। কিন্তু সৃষ্টিশীলতা তাকে তাড়িত করেছে বলে এধরনের কাজেই জড়িত এখন তিনি। এই সৃষ্টিশীল কাজগুলো উপভোগ করছেন, আনন্দ পাচ্ছেন এতে। ভালো লাগছে বলেই এই লাইনে আছেন তিনি।

    গান করার প্যাশনটা সবসময়ই ধরে রাখতে চান জুহি।

    ফটোগ্রাফি নিয়েই এখন বেশি ব্যস্ততা, গানে সময় দিচ্ছেন একটু কম। কিন্তু তবুও গান নিয়ে কাজ, পারফরম্যান্স বা শো কম করেননি এক সময়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪টি বছর কাটিয়ে দেওয়ার সময়কালে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত গান পরিবেশন করেছেন। সেখানকার সংগীত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জিতেছেন বেশ কিছু পুরস্কারও।

    গত কয়েক বছরে ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে তার গাওয়া বেশ কিছু চমৎকার গান। ‘বসন্ত এসে গেছে,’ ‘আয় খুকু আয়’, ‘আহা আজি এ বসন্তে’, ‘যাও পাখি বলো তারে’-এর মতো কাভার সং পেয়েছে দর্শক-শ্রোতাদের প্রশংসা। করেছেন ইংরেজি ভাষার গানও।

    বিশ্বখ্যাত নারী সাহিত্যিক সিলভিয়া প্লাথের ‘ম্যাড গার্ল’স লাভ সং’ কবিতাটি অনুসরণ করে গান করেছেন। সেটার মিউজিক ভিডিওটাও রয়েছে ইউটিউব ও সাউন্ডক্লাউডে। নাফিজ আল আমিন ও পান্নুর মতো রক সংগীত জগতে সুপরিচিত মানুষের সাথে মিলে পারফর্ম করেছেন বেশ কিছুদিন। দর্শক-শ্রোতা ও গান নিয়ে কাজ করেন এমন অনেকেই প্রশংসা করেছেন তার কাজের।

    ‘গান করাটা আমার প্যাশন। যত যাই করি না কেন ভবিষ্যতে, গান করাটাকে ছাড়তে পারব না আমি,’ জানান জুহি।

    জেরান জুহির ক্যামেরায় সমরেশ মজুমদারের ‘সাতকাহন’ উপন্যাসের ‘দীপাবলী’ চরিত্রের সাজে জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিথিলা

    এরপরই, গত দুছর ধরে কাজ করছেন ফটোগ্রাফি নিয়ে। যথারীতি সেখানেও নিজের ব্যতিক্রমধর্মী ও নান্দনিক কাজ দিয়ে অর্জন করেছেন অনেকের সাধুবাদ। অন্য অনেক ফটোগ্রাফারদের সাথে তার পার্থক্যটা হচ্ছে, ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে ‘শিল্প নির্দেশনা’ বা কনসেপচুয়াল’ কাজগুলোর নির্দেশনাও অনেকক্ষেত্রে দিয়ে থাকেন তিনিই।

    শাড়ি নিয়ে ফ্যাশন ফটোগ্রাফিতে দীপাবলি, রেমি, পারু, হৈমন্তি, বিনোদীনি, হেমনলিনীর মতো বাংলা সাহিত্যের চিরায়ত বিভিন্ন চরিত্র বিশ্লেষণ করে সেই অনুযায়ী মডেলদের সাজিয়ে তাদের ফটোশ্যুট করেছেন তিনি।

    এরপর ছবির সাথে যায় বইয়ের এমন লাইন বা প্যারা যুক্ত করে দিয়েছেন সেগুলোর সঙ্গে। স্টোরি বেজড তার কাজগুলোর ‘স্টাইলিং ও ফ্রেমিং’ বেশ নজর কেড়েছে অনেকের। পেয়েছেন অনেক সাধুবাদ ও অনুপ্রেরণা।

    ‘শাড়ি অ্যান্ড আদার সেন্সেস’ ফটোগ্রাফি সিরিজে জেরান জুহির ক্যামেরায় প্রখ্যাত মডেল জেসিয়া ইসলাম।

    বর্তমানে শাড়ি নিয়েই করছেন ফটোগ্রাফির আরেকটা সিরিজ – ‘শাড়ি অ্যান্ড আদার সেন্সেস’ নামে। এখানেই শেষ নয়। ফটোগ্রাফির দুনিয়া থেকে ‘প্রতিবেশী’ ভিডিওগ্রাফির দুনিয়ায়ও আগমন ঘটেছে তার। সম্প্রতি কাজ শুরু করেছেন সেই সেক্টরে।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী, এটা জিজ্ঞাসা করলে জুহি জানান, ‘ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা খুব একটা করি না আমি। যখন যা ভালো লাগে, করি সেটাই। তবে ভবিষ্যতে সময়-সুযোগ পেলে দেশে-বিদেশে করতে চাই প্রচুর ভ্রমন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলতে পারেন এটাকেই।’

    এক সংস্কৃতিমনা পরিবারে বেড়ে উঠেছেন জুহি। টুকটাক কবিতা লেখার অভ্যেস আছে তার। লেখালেখির জগতে আসবেন কিনা, কবিতার বই বের করার ইচ্ছে রয়েছে কিনা, এমনটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঔপন্যাসিক হয়তো কখনো হতে পারব না আমি। তবে ইচ্ছে রয়েছে ফটোগ্রাফির উপর বই বের করার। সেখানে ছবির সাথে থাকবে আমারই লেখা কবিতাগুলো।’

    দেশ ও দেশের বাইরের অনেক শিল্পী ও ফটোগ্রাফারদের কাজ ভালো লাগে তার। যাদের কাজ থেকে নিজেও পেতে চেষ্টা করেন অনুপ্রেরণা। দেশে অর্থহীন, সোলস ব্যান্ডের গান যেমন তার ভালো লাগে, তেমনি দেশের বাইরে কোল্ড প্লে, অমিত ত্রিভেদি, এআর রহমানের মিউজিক টানে তাকে।

    ফটোগ্রাফির দুনিয়ায় ডেভিড বালমার, পিটার লিন্ডবার্গ, ভারতের রিমা চৌধুরি ও অর্জুন কামাথের কাজ ভালো লাগে তার। দেশে লতিফ হাসানের কাজ।

    এভাবে বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীল কাজ নিয়ে সামনে এগোচ্ছেন জেরান জুহি। সৃষ্টিশীল কাজ দিয়েই মানুষের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিতে পারবেন, এমনটাই বিশ্বাস তার।


    পূর্বপশ্চিমবিডি/পিআই

    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close