• শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

সন্তানদের ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত ফোন ব্যবহার করতে দেননি বিল গেটস

প্রকাশ:  ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

কমবয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে দিন দিন প্রযুক্তি-আসক্তি বাড়ছে। স্মার্টফোন আর সোশ্যাল মিডিয়ার জয়যাত্রা কেড়ে নিচ্ছে ছেলেমেয়েদের স্বাভাবিক জীবনযাপন। গবেষণায় দেখে যাচ্ছে, প্রতিদিন পাঁচ থেকে আট ঘণ্টা তারা ডিজিটাল যন্ত্র নিয়ে মেতে থাকছে। বই পড়া, বেড়ানো, খেলাধুলা, মুখোমুখি আড্ডা এসবে কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের একদম আগ্রহ নেই বললেই চলে। এতে ক্রমশই রুদ্ধ হচ্ছে সুকুমার বৃত্তি বিকাশের পথ।

প্রযুক্তি বিকাশের এসব ক্ষতিকর প্রবণতার আশঙ্কা সবারই আগেই জেগেছিল ডিজিটাল জগতের উদ্ভাবকদের মাঝে। যেসব বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদ দীর্ঘ সময় ধরে নানা ধরনের ডিজিটাল যন্ত্র তৈরি করছেন তারা ভালো করেই জানেন, যন্ত্রগুলো কী প্রক্রিয়ায় ছেলেমেয়েদের মস্তিষ্ক গ্রাস করে। এখন তারাই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। নিজের সন্তানদের তারা প্রযুক্তি-আসক্তি থেকে রক্ষায় নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। যেমন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস তাঁর দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত ফোন ব্যবহার করতে দেননি।

কিশোর বয়সেই কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শুরু করেন বিল গেটস। স্কুলে পড়ার সময় টিক-ট্যাক-টো গেমের একটি সংস্করণ তৈরি করেন, যেখানে কম্পিউটারের প্রতিপক্ষ হিসেবে খেলা যেত। পরবর্তী সময়ে অন্যতম সেরা প্রযুক্তির প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট দাঁড় করান সহপ্রতিষ্ঠাতা পল অ্যালেনের সঙ্গে। তার ঘরবাড়ির পরতে পরতে প্রযুক্তির ছোঁয়া আছে । কাজেই বিল গেটসের সন্তানেরা যে বিশ্বসেরা প্রযুক্তি নিয়ে বেড়ে উঠবে, এমনটাই হওয়ার কথা ছিল। তবে ব্যাপারটা ঠিক উল্টো। প্রযুক্তিবিষয়ক অনুষঙ্গ ব্যবহারে তিন সন্তানের প্রতি বাবা বিল গেটসের আছে কঠিন বিধিনিষেধ।

এ বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস বলেন, আমাদের খাবার টেবিলে সেলফোন থাকে না। অন্তত ১৪ বছর বয়স না হলে সন্তানদের হাতে সেলফোন তুলে দেইনি। বিল গেটস জানান, একবার তিনি দেখলেন তার মেয়ে জেনিফার ক্যাথেরিন কম্পিউটারে বেশ আসক্ত হয়ে পড়েছে। ওই কম্পিউটার ঘেঁটে দেখা গেল, তাতে বেশ কিছু গেম রয়েছে, যার পেছনে জেনিফার কাটিয়ে দিচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এর মধ্যে ভিভা পিনাটা নামের একটি গেম খেলেই সে কাটিয়ে দিতো দুই থেকে তিন ঘণ্টা। এমন পরিস্থিতিতে মেয়ের কম্পিউটার ব্যবহার দিনে ৪৫ মিনিটে নামিয়ে আনলেন গেটস ও তার স্ত্রী। তবে আর দশজন সাধারণ মানুষের মতো তাঁর সন্তানেরাও প্রতিবাদ কবে বলে অকপটে স্বীকার করেন তিনি। সন্তানদের ক্ষতির বিষয়টা বুঝিয়ে বলার পর আর প্রতিবাদ করেনি।

সন্তানের পর্যাপ্ত ঘুমের জন্য একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর যেকোনো ধরনের যন্ত্র ব্যবহারেও রয়েছে বিল গেটসের নিষেধাজ্ঞা। তিনি বলেছেন, আমরা প্রায়ই একটা সময় ঠিক করে দিই, যার পরে কোনো ধরনের পর্দা দেখার সুযোগ থাকে না। তাদের ক্ষেত্রে এটা পর্যাপ্ত ঘুমের জন্য সহায়ক। তাই বলে প্রযুক্তির ছোঁয়া থেকেও বঞ্চিত করতে চান না সন্তানদের। শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষা করতে বলেছেন। মুঠোফোনের ভালো দিকের কোথাও উল্লেখ করেন বিল। যেমন হোমওয়ার্ক এবং বন্ধুদের সঙ্গে যুক্ত থাকতে মুঠোফোন দারুণ কাজে দিতে পারে। বিল বলেন, আপনি সব সময়ই এর ভালো ব্যবহার খুঁজে দেখবেন, কীভাবে এটি ভালো কাজে ব্যবহার করা যায়।

পূর্বপশ্চিমবিডি-এনই

বিল গেটস,প্রযুক্তি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত