Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬
  • ||

কুরবানিকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে কামাররা

প্রকাশ:  ০৪ আগস্ট ২০১৯, ১৭:৫৬
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট icon

আগামী ২২ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহা অর্থাৎ কুরবানির ঈদ। ঈদকে সামনে রেখে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন একালার কামাররা। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে তাদের ব্যস্ততা। এই ঈদে গরু, ছাগল, উটকে কুরবানি পশু হিসেবে জবাই করা হয়। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কুরবানির পশু জবাই চলে। এসব পশুর গোশত কাটতে দা-বটি, ছুরি-ছোরা, চাপাতি ইত্যাদি ধাতব হাতিয়ার অপরিহার্য।

যেহেতু কুরবানির পশু কাটাকুটিতে চাই ধারালো দাঁ, বটি, চাপাতি ও ছুরি। তাই কয়লার চুলায় দগদগে আগুনে গরম লোহার পিটাপিটিতে টুং টাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে গোপালগঞ্জের কামার শালাগুলো।

আর সামনে আগুনের শিখায় তাপ দেয়া হাতুড়ি পেটানোর টুং টাং শব্দে তৈরি হচ্ছে দা-বটি, চাপাতি ও ছুরি। পশু কুরবানিতে এ সব অতিব প্রয়োজনীয়। তাই যেন দম ফেলারও সময় নেই কামারদের। নাওয়া-খাওয়া ভুলে কাজ করছেন কামাররা। কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন তারা। সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েকগুণ ব্যস্ততা বেড়ে যায় কামারদের।

কয়েকজন কামারের সাথে আলাপ করে জানা যায়, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১০০ থেকে ২০০, দা ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা, বটি ২৫০ থেকে ৫০০, পশু জবাইয়ের ছুরি ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা, চাপাতি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিন জেলার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখা যায়, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে অনেক ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। পশু জবাইয়ের সরঞ্জামাদি কিনতেও লোকজন ভিড় করছেন তাদের দোকানে। আগে যে সব দোকানে দুজন করে শ্রমিক কাজ করতো, এখন সে সব দোকানে ৫-৬ জন করে শ্রমিক কাজ করছেন।

কামার দোকানদারদের অভিযোগ কুরবানির ঈদ উপলক্ষে কয়লার দাম ও শ্রমিকের দাম বেড়ে গেছে। অপরদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ ঈদ উপলক্ষে দাঁ, চাপাতি ও ছুরির দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে।

এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ শহরের কাঁচা বাজরের কামার সত্য রঞ্জন দাশ বলেন, সারা বছর কাজ কম থাকে। কুরবানির ঈদ এলে আমাদের কাজ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। ছুরি শান দেওয়ার জন্য ৫০ টাকা থেকে শুরু করে কাজের গুণাগুণের উপর ভিত্তি করে ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে অপর কামার প্রভাস চন্দ্র দাশ বলেন, কুরবানির ঈদ উপলক্ষে আমাদের বেচা কেনা দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। তবে ঈদের দুই দিন আগে থেকে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা বেচাকেনা হবে। তখন আমাদের খাওয়ার সময়ও থাকে না।

কামার আনন্দ বলেন, কুরবানির ঈদ উপলক্ষে কয়লা ও শ্রমিকের মূল্য বেড়ে গিয়েছে। দুই মাস আগেও প্রতি বস্তা কয়লার দাম ছিলো ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। সেই কয়লা এখন আমাদের ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তাই আমরা চাপাতি, ছুরি ও দায়ের দাম একটু বেশি নিচ্ছি। তা না হলে আমাদের লাভ হবে না।

দোকানি বাদল মিয়া বলেন, ঈদকে সামনে রেখে কাজের চাপ বেশি। কাজের চাপে কখন খাওয়ার সময় চলে যাচ্ছে আমরা টেরও পাই না। চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে আমাদের বিক্রি তত বাড়ছে।

এ ব্যাপারে ক্রেতা আব্দুল হালিম বলেন, আমি একটি চাপাতি ৫০০ টাকা দিয়ে ক্রয় করেছি। এছাড়া আমাদের এলাকার ছুড়ি, দাঁ, জবাই করা ছুরিসহ প্রায় ১৯টি জিনিস রিপেয়ারিং করার জন্য এসেছি। ঈদ উপলক্ষে কামাররা মজুরি অনেক বেশি নিচ্ছে। অপর ক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে কামাররা তাদের মজুরি, ছুরি, দাঁ, চাপাতির দামও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি একটি চাপাতি ৭০০ টাকা এবং একটি ছুরি ২০০ টাকা দিয়ে ক্রয় করেছি। যা দুই মাস আগেও ছিল ছুরির দাম ১৫০ টাকা ও চাপাতির দাম ৫০০ টাকা।

এদিকে দা, বটি, চাকু, চাপাতি তৈরি ও পুরনগুলোতে শান দিতে ব্যস্ত সোনারগাঁওয়ের কামার শিল্পীরা। সোনারগাঁওয়ের প্রেমের বাজার, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকা ঘুড়ে চোখে পড়ে কামার শিল্পীদের পশু জবাই ও মাংস কাটার যন্ত্রপাতি তৈরি করছে এবং মজুদকৃত কয়লার স্তপ।

প্রেমেরবাজার এলাকার রিপন বলেন, পুরোদমে কাজ চলছে দোকানগুলোতে। সাত দিন আগে থেকেই অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। এই অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে বাইরের এলাকা থেকেও অর্ডার নেওয়া হয়। সাত জন কর্মচারী আমার দোকানে কাজ করছে। যে পরিমাণ মালামাল কিনে রেখেছিলাম, তার দাম এবং কর্মচারী খরচ সবকিছু মিলিয়ে লাভ নিয়ে বিপাকে আছি।

এলাকার মো. রহিম মিয়া বলেন, বাপ-দাদার পৈত্রিক পেশা ধরে রেখেছি। সারা বছর কাজের চাপ থাকে না। যা লাভ এই ঈদ মৌসুমেই। তাই ঈদে সামান্য একটু বেশি নিয়ে থাকি। তবে এবারের ঈদে চাপ বেশি, তাই দুজন কর্মচারী সঙ্গে নিয়েছি।

ঈদে এলে লোহার দাম না বাড়লেও কয়লার দাম বাড়িয়ে দেয় অসাধু কিছু ব্যবসায়ীরা। এছাড়া কুরবানির পশুর দামের ওপর নির্ভর করে কামার শিল্পীদের লাভ লোকসান। গরুর দাম কম হলে লাভ বেশি হবে। আর দাম বেশি হলে লাভ কম হবে।


পূর্বপশ্চিমবিডি/লা-মি-য়া

কুরবানি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত