• সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬
  • ||

দিনটি আজ বন্ধুদের জন্য

প্রকাশ:  ০৪ আগস্ট ২০১৯, ০৪:২৪ | আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৯, ০৭:১২
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক

বন্ধু ছাড়া কী জীবন চলে? চলার পথে পাশে চাই বন্ধু। একজীবনে কারো যদি কোনো বন্ধু না থাকে, নিশ্চিত সে পাগল নয়তো রবোট। মানুষের জীবনে বন্ধুত্বের প্রয়োজন আছে। এটি এমন এক বন্ধন, যেখানে থাকে নিঃশর্ত ভালোবাসা আর নিখাদ বিশ্বস্ততা। দিনটি আজ বন্ধুদের জন্য, আগস্ট মাসের প্রথম রবিবার সারা বিশ্বে একযোগে বন্ধু দিবস পালন করা হয়।

পাশ্চাত্য থেকে আসা অনেক কিছুর মতোই আমাদের দেশেও গত দুই দশক ধরে বন্ধু দিবস পালিত হচ্ছে । দিন দিন বন্ধু দিবস উদযাপনের ব্যাপকতাও বাড়ছে। এ দিন বন্ধুরা একে অপরকে উপহার দেয়। সবাই মিলে কিছুটা বাড়তি সময় আড্ডায় আনন্দে উচ্ছলতায় পার করে দিনটি।

বন্ধু দিবসের উৎপত্তি কিভাবে, এর সঠিক ইতিহাস নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। ধারণা করা যায় ঊনবিংশ শতাব্দির ত্রিশ থেকে চল্লিশের দশকের মধ্যবর্তী সময়েই বন্ধু দিবস পালন শুরু হয়।

অনেকেই মনে করেন, সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যেই বন্ধু দিনসের প্রচলন হয়েছিল। ১৯৩০ সালে এই কাজটি করেছিলেন বিশ্বখ্যাত উপহারসামগ্রী ও কার্ড বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান হলমার্কের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জয়েস হল। তিনি প্রতিবছর ২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে বন্ধুত্ব দিবস উদ্যাপনের বিষয়টি সামনে আনেন। এদিন কার্ড আদান-প্রদানের মাধ্যমে বন্ধু দিবস পালন করার চল শুরু হয়। অবশ্য তাঁর সে প্রচেষ্টা অতটা সফল হয়নি। ১৯৪০ সাল নাগাদ মানুষ বুঝতে পারে, এটা কোনো মহৎ উদ্দেশ্য নয়, বরং হলমার্কের কার্ড ব্যবসা বাড়ানোর ফন্দি। এরপর থেকে বন্ধু দিবস উদ্যাপন একরকম বন্ধই হয়ে যায়। জয়েস হলের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে হালে পানি না পেলেও ইউরোপ-এশিয়ার বিভিন্ন দেশে একসময় ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে বন্ধু দিবস উদ্যাপনের রেওয়াজ।

১৯৫৮ সালের ২০ জুলাই ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেডের প্রতিষ্ঠাতা ড. আর্তেমিও ব্রেঞ্চে বন্ধুদের সঙ্গে প্যারাগুয়ের পুয়ের্তো পিনাসকোতে এক নৈশভোজে প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সে রাতেই ওয়ার্ল্ড ফ্রেন্ডশিপ ক্রুসেড প্রতিষ্ঠা পায়। এ প্রতিষ্ঠানটি ৩০ জুলাই বিশ্বব্যাপী বন্ধু দিবস পালনের জন্য জাতিসংঘে প্রস্তাব পাঠায়। প্রায় পাঁচ যুগ পর ২০১১ সালের ২৭ জুলাই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৩০ জুলাইকে বিশ্ব বন্ধু দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

সব বয়সে সব সম্পর্কের মধ্যেই আসলে বন্ধুত্ব হতে। বন্ধুত্বের সহজ সরল সম্পর্ক আর একটাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। মনের সঙ্গে মনের মিল হলেই শুধু সত্যিকারের বন্ধুত্ব হয়। বন্ধুত্বে অহংকার ও হিংসার স্থান নেই। ‘বন্ধুত্ব’ এমন একটা বিষয়, যা অনেক ক্ষেত্রে জীবনের চেয়েও দামি হয়ে দাঁড়ায়। এমন নজির পৃথিবীতে বহু আছে। বন্ধুত্ব এমন একটি সম্পর্ক যাতে এক বন্ধু বিপদে পড়লে আরেক বন্ধু না জেনেবুঝেও আগুনে ঝাঁপ দিতে পারে।তবে আজকাল এমন বন্ধুর সংখ্যা খুব বেশি নেই। এ সময়ে সত্যিকারের বন্ধু পাওয়া বা থাকা দুটোই ভাগ্যের ব্যাপার।

বন্ধু
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close