• মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

‘সব ডেঙ্গু জ্বরে হাসপাতালে ভর্তির দরকার নেই’ 

প্রকাশ:  ০৩ আগস্ট ২০১৯, ১২:২১
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক

এটা বলা বাহুল্য যে বিগত বছর গুলোর থেকে এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। তবে ডেঙ্গুর প্রকোপের চেয়ে যেন এর আতঙ্কই বেশি। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে এখন শুধু ডেঙ্গুর সিজনই নয়, এখন কিন্তু নানা ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জারও সিজন। তাই জ্বর জ্বর ভাব হলেই হাসপাতালে ভিড় করার প্রয়োজন নেই। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন ঘটছে। সুস্থ মানুষদেরও অসুস্থ বা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। তাই মানুষকে এদিকে সচেতন হতে হবে। উপসর্গ না দেখেই পরীক্ষা করতে ছোটাছুটির দরকার নেই।

ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে অবশ্য পরীক্ষায় ডেঙ্গু পজিটিভ হলেই যে হাসপাতালে ছুটতে হবে, বিষয়টি তেমন নয়। প্লাটিলেট কী পর্যায়ে আছে, অন্য কোনো জটিলতা বা একাধিক রোগ আছে কি না সেগুলো বিবেচনায় নিতে হবে। সাধারণ ডেঙ্গু হলে হাসপাতালে ভর্তি জরুরি নয়। তবে এখন যেহেতু ডেঙ্গুর প্রকোপ চলছে তাই জ্বর হলে এবং সঙ্গে ডেঙ্গুর উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।

এবার অবশ্য ডেঙ্গুর জটিলতাও বেশি দেখা যাচ্ছে। ধরন পাল্টে যাচ্ছে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া হয় এডিস মশার কামড়ে। এ ব্যাপারে ভয় না পেয়ে চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষের আরো সতর্কতা প্রয়োজন। ডেঙ্গুর সঠিকভাবে চিকিৎসা করা হলে সাধারণ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত প্রায় শতভাগ রোগীই ভালো হয়ে যায়। তবে ডেঙ্গুর সঙ্গে অন্য জটিলতা থাকলে সেটা কিন্তু আবার বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, সব ডেঙ্গু জ্বরে হাসপাতালে ভর্তির দরকার নেই। ডেঙ্গুর প্রকোপের চেয়ে যেন আতঙ্কই বেশি। নরমাল জ্বরেও সবাই ছুটছেন হাসপাতালে। ফলে রাজধানীর সব হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে। তাই জ্বর হলেই হাসপাতালে ভিড় জমানোর প্রয়োজন নেই। প্লাটিলেট অতিরিক্ত কমে না আসলে এবং রক্তক্ষরণ না হলে বাসায় বসে ডেঙ্গুর ট্রিটমেন্ট নেওয়া সম্ভব।

তিনি জানান, যদি ডায়াবেটিস, প্রেসার, কিডনি, হার্ট ও স্ট্রোকের রোগীদের ডেঙ্গু জ্বর হয় তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবা নিতে হবে। এক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হতে পারে।

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ সম্পর্কে জানান-

- কোন কোন ক্ষেত্রে জ্বর কম হতে পারে, আবার বেশিও হতে পারে।

- জ্বর তিন/চার দিন পর ভালো হয়ে যায়। তবে প্লাটিলেট কম হতে থাকে। এরপর মাঝখানে একটি বিরতি দিয়ে আবার জ্বর আসে।

- জ্বরের সঙ্গে প্রচণ্ড মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা এবং চোখের পেছনে ব্যথা করবে।

- জ্বর সাধারণত দুই দিন থাকার পর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় র‌্যাশ দেখা যায়।

- জ্বর যদি জটিল পর্যায় হয়, তাহলে মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়তে পারে, রক্তবমি হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে পায়খানার সঙ্গে রক্ত যেতে পারে।

- শ্বাসকষ্টও হতে পারে।

- আপার অ্যাবডোমিনে বা ওপরের পেটে পানি চলে আসতে পারে।

- এই জ্বরে যেহেতু পানিশূন্যতা বেশি হয়, তাই প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যেতে পারে। এতে কিডনি বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

- ঘাম হতে পারে।

- বমি বমি ভাব হতে পারে, খাবারে অরুচি হতে পারে।

করণীয় :

- জ্বর হলে শুধু প্যারাসিটামল ওষুধ খাবে।

- এসপিরিন বা অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়া যাবে না।

- প্রচুর পানি ও তরল খাবার খেতে হবে।

তিনি জানান, অন্যান্য ভাইরাস জ্বরের যে লক্ষণ, সেগুলো প্রায় সবই ডেঙ্গু জ্বরে থাকবে। ডেঙ্গু জ্বর হলে নিয়মিত প্লাটিলেট পরীক্ষা করাতে হবে। অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, ডেঙ্গুর চিকিৎসা আছে। এক্ষেত্রে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।


পূর্বপশ্চিম বিডি/লা-মি-য়া

ডেঙ্গু জ্বর
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত