Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬
  • ||

শেষ পর্যন্ত অনলাইন প্রেজেন্টেশনে স্বান্তনা খুঁজবে ‘অলীক’

প্রকাশ:  ২০ জুলাই ২০১৯, ১৯:৩৩ | আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৯, ২১:০৮
সাদ আমান
প্রিন্ট icon

সারাবিশ্ব যখন এগিয়ে চলেছে বিজ্ঞানের সাথে তালমিলিয়ে ঠিক তখনই বাংলাদেশ চলছে উল্টো পথে। এ যেন কবি শামসুর রাহমানের ‘অদ্ভুত উটের পিঠে চলছে স্বদেশ’। আমরা ক্রিকেটে ভারতকে হারিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ি, পাশের দেশে নোবেলের গান গাওয়া নিয়ে গর্বে বুক ফুলিয়ে চলি। অথচ যে বিষয়টা নিয়ে আমরা আরো অনেক গর্ব, অহংকার করতে পারতাম তা আমাদের দেশের বেশিরভাগ জনগণই জানেন না। শাহজালালের পূণ্য ভূমি সিলেটে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো শাহজালালের নামানুসারে ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বা সাস্ট’। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু স্বপ্নবাজ তরুণ গঠন করেছিলো একটি দল যার নাম ‘অলীক’।

তাদের ফেসবুক পেজে গিয়ে দেখা যায় একটি গেম পাবলিশার গ্রুপ এটি। অথচ তাদের হাত ধরেই সূচনা হতে যাচ্ছিলো নতুন একটি স্বপ্নের। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ বিষয়ক সংস্থা নাসার উদ্যোগে আয়োজিত ‘নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ’ এ অংশ নিয়ে প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিযোগীতার ছয় ক্যাটাগরির মধ্যে ‘বেস্ট ইউজ অব ডাটা’ ক্যাটাগরিতে ক্যালেফোর্নিয়া, কুয়ালালামপুর ও জাপানের তিনটি দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম সাস্ট ‘অলীক’।

যারা বিশ্বের দুই হাজার ৭২৯টি দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে চ্যাম্পিয়ন হলো এখন তারাই সেখানে যেতে পারছেন না। ভিসা জটিলতায় আটকে গেছে তাদের আমেরিকা সফর। সাস্ট অলিকের কেউ না যেতে পারলেও বাংলাদেশ সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা ইতিমধ্যেই চলে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। যাদের প্রতিনিধিত্ব করার কথা দেশকে তারা যখন ভিসা জটিলতায় আটকে গেলো তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে সেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের কাজ কি? তারা গিয়ে কি করবেন?

টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রীর সাথে সাস্ট অলীক

বাংলাদেশ সরকার কি পারেনি ‘অলীক’ সদস্যদের ভিসার ব্যবস্থা করতে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে কথা হয়েছিলো ‘সাস্ট অলীক’ টিমের উপদেষ্টা ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তীর সাথে। আমেরিকা তো যাওয়া হলো না, এখন কি করবে বা ভাবছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্রেজেন্টেশন রেডি করছেন তারা। অনলাইনে প্রেজেন্টেশন দেয়ার জন্য অলীক প্রস্তুতি নিচ্ছে’। সরকারি কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন ‘কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন অনুষ্ঠানে। সেই অনুষ্ঠানে অলীক অনলাইন প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তাদের প্রজেক্ট উপস্থাপন করবে’। প্রশ্ন ছিলো অলীকের যেতে না পারার খবর জানার পরেও সরকারি কর্মকর্তারা কেন গেলেন যুক্তরাষ্ট্রে এবং সেখানে তাদের কাজ কি? এই ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সাস্ট অলীক

টিমের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতার ব্যাপারে তিনি বিশ্বপ্রিয় বলেন, তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে ব্যক্তিগত ভাবে কথা বলেছেন এবং আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে একটি ‘জিও বা গভমেন্ট অর্ডার’ নিয়ে গেলেও ভিসা পেতে ব্যর্থ হয় টিম অলীক।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া তো সহজ না এ কথা আমাদের দেশের সবাই জানে। এই ভিসার জটিলতা নিয়ে যদি অলীকের ঝামেলা পোহাতে হয় তবে তারা তৈরি হবে কিভাবে? দেশের প্রতিনিধিত্ব করে কিভাবে বয়ে নিয়ে আসবে সম্মান? অলীকের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের কি আর কিছুই করার ছিলো না? অথচ প্রায়ই শোনা যায়, অমুক শিল্পী, অমুক অভিনেতা যুক্তরাষ্ট্রে পারফর্ম করে এলেন। অভিনেতা, শিল্পীরা যেতে পারলে, ভিসা পেলে অলীক কেন পেলো না এর উত্তর কে দিবে?

সাস্ট অলীকের মেন্টর বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী

অলীক যখন যেতেই পারলো না তখন সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দই বা কেন গেলেন যুক্তরাষ্ট্রে? সেখানে তাদের কাজ কি এর উত্তরই বা কে দিবে? যুক্তরাষ্ট্র সফরে না গিয়ে সরকারী অর্থ বাঁচানো যেতো না? এই উত্তর গুলো জানা সবার জরুরী।

পূর্বপশ্চিমবিডি/ এসএ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,সাস্ট অলীক,আইসিটি,নাসা,যুক্তরাষ্ট্র
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত