Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||
শিরোনাম

বিটিআরসির গণশুনানি

ইন্টারনেটে ধীরগতি, অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগ গ্রাহকদের

প্রকাশ:  ১২ জুন ২০১৯, ২০:২৫ | আপডেট : ১২ জুন ২০১৯, ২০:৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon

বিটিআরসির গণশুনানিতে মোবাইল অপারেটরদের সেবা নিয়ে নেটওয়ার্ক সমস্যা, ইন্টারনেটে ধীরগতি, প্যাকেজের নামে প্রতারণা, অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া, রেডিয়েশন ও অহেতুক এসএমএস’র অভিযোগ তুলে ধরেছেন গ্রাহকরা।

বুধবার (১২ জুন) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (আইইবি) অডিটরিয়ামে ‘টেলিযোগাযোগ সেবা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম’ বিষয়ে গণশুনানিতে অংশ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

গণশুনানিতে উপস্থিত থেকে গ্রাহকেরা মোট ১৭টি প্রশ্ন করেন। এ ছাড়া আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছ থেকে ৩০-৩৫টি প্রশ্ন আসে। বিটিআরসি জানায়, সব প্রশ্ন ও অভিযোগের সুরাহা করে ১৫-২০ দিনের মধ্যে ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে।

২০১৬ সালের পর এ গণশুনানির আয়োজন করে বিটিআরসি। এতে গ্রাহকের অজান্তে টাকা কেটে নেওয়া, বাণিজ্যিক খুদে বার্তা ও কল করে বিরক্ত করা, নেটওয়ার্কের নিম্নমান, দ্রুতগতির ইন্টারনেট না থাকা, গ্রামে নিম্নমানের সেবা, কলরেট ও ইন্টারনেটের দাম নিয়ে নানা অভিযোগ করেন গ্রাহকেরা।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হকের উপস্থিতিতে কর্মকর্তারা এসব অভিযোগের জবাব দেন, বিভিন্ন বিষয়ে সুরাহার পদক্ষেপের কথা জানান এবং ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। বিটিআরসি জানায়, গণশুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য ২৪ মে আবেদন আহ্বান করা হয়। ২০২ জন নিবন্ধন করেন। তাঁদের মোট প্রশ্ন ছিল ১ হাজার ৩১৯টি। গণশুনানি কমিটির সভাপতি ও বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হকের সভাপতিত্বে গণশুনানি পরিচালনা করেন সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক এবিএম হুমায়ুন কবির।

রবিউল ইসলাম নামের এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, মুঠোফোনে ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস নিয়েছিলেন তিনবার। তাঁর ব্যালান্স থেকে টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে সাতবার। অভিযোগ করার পরও তিনি টাকা ফেরত পাননি।

এখানেই শেষ নয়, ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনতে না পারার বিষয়ে রবিউল ইসলাম ২৪ এপ্রিল অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট মুঠোফোন অপারেটরের কাছে। ২৮ মে পর্যন্ত নিয়মিত যোগাযোগ রেখে গ্রাহক সেবাকেন্দ্রে গিয়ে বিষয়টি সুরাহা হয়নি। সবশেষে তিনি সিম নিবন্ধন বাতিল করার হুমকি দিলে অপারেটর সমস্যাটি সমাধান করে।

অভিযোগকারীদের একজন ছিলেন আতাউর রহমান। তিনি বলেন, তাঁর মা গ্রামে থাকেন। মায়ের ফোনটি ফিচার ফোন, স্মার্টফোন নয়। ফোনের ব্যালান্স থেকে ৪৮ টাকা কেটে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে অপারেটর জানিয়েছে, ইন্টারনেটে গেম খেলার কারণে এ টাকা কাটা হয়েছে। আতাউরের প্রশ্ন, তাঁর মা কখনোই ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না। গেম খেলারও প্রশ্ন ওঠে না। এভাবে অসচেতন মানুষের কাছ থেকে মোবাইল অপারেটররা টাকা কেটে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আতাউর রহমানের আরেকটি অভিযোগ হলো, নতুন সিমের সঙ্গে ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস চালু করা থাকে। মোবাইল কোম্পানির অ্যাপ ব্যবহার করে সেটা চাইলেও বন্ধ করা যায় না। তিনি এর প্রতিকার চান।

একজন গ্রাহক অভিযোগ করেন, মোহাম্মদপুরে তাঁর বাসার চারতলার নিচে কোনো নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। বাসা থেকে বেরিয়ে ধানমন্ডিতে যাওয়ার সময় প্রায়ই তাঁর কলড্রপ হয়।

মো. আবদুস সালাম নামে একজন গ্রাহক অভিযোগ করেন, অযাচিত কল ও খুদে বার্তার কারণে তিনি বিরক্ত। এর একটা প্রতিকার চান।

মাফি ইসলাম নামের এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালে অনলাইনে তিনি সিম রিপ্লেসমেন্টের অর্ডার দেওয়ার পর ১৯০ টাকা মাশুল নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেই সিম পাওয়া যায়নি। তিনি কল করে দেখেছেন সিমটি অন্য কেউ ব্যবহার করছেন। অথচ সেটি তাঁর বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত সিম। এ নিয়ে তিনি অপারেটর ও বিটিআরসির কাছে অভিযোগ করে প্রতিকার না পেয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে গেছেন। অধিদপ্তর বলেছে, রবির রিটের কারণে তারা এখন আর ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

মাফি ইসলাম বলেন, ‘তাহলে আমরা কোথায় যাব?’

উম্মে কুলসুম নামের একজন গ্রাহক বলেন, এক ওয়াইম্যাক্স অপারেটর তাঁর সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু সংযোগে ৫০ হাজার টাকার মতো ব্যালান্স ছিল। এ নিয়ে বিটিআরসিতে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, সুরাহা হয়নি।

গ্রামে ইন্টারনেটের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরেন একজন গ্রাহক। তিনি বলেন, তিনি একজন কনটেন্ট ডেভেলপার। ফেনীর ছাগলনাইয়ায় গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তিনি ইন্টারনেট ব্যবহারে ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েন। সেখানে থ্রি–জি তো দূরের কথা, টু–জি নেটওয়ার্কও ঠিকভাবে পাওয়া যায় না। কিন্তু তাঁর দুটি সিমে প্রায় ১২ গিগাবাইট ইন্টারনেট ছিল, যার মেয়াদ এর মধ্যে শেষ হয়ে যায়।

বিটিআরসির কর্মকর্তারা প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দেন। কয়েকটি অভিযোগ সুরাহা না হওয়ায় তা আবার জানানোর অনুরোধ করে সুরাহার আশ্বাস দেন।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, বিটিআরসি একটি গ্রাহকবান্ধব সরকারি সংস্থা হিসেবে সুপরিচিত। অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশ্নকারী রাজকুমার সাহা জানতে চান, ইন্টারনেটের মূল্য কমানো ও ন্যূনতম মেয়াদ ৮ দিন করা যায় কিনা? জাকির হোসেন নামে একজন গ্রাহক ইন্টারনেটের মূল্য কমানোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে বিটিআরসির এবিএম হুমায়ুন কবির বলেন, অপারেটররা আশা করি বিবেচনায় নেবেন। ইন্টারনেটের মূল্য কমানো নিয়ে পর্যবেক্ষণে আছে। পর্যবেক্ষণ শেষে মূল্য ও সীমা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

আব্দুস সালাম নামে একজন গ্রাহক অযাচিত নম্বর থেকে কল আসা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ডিএনডি (ডু নট ডিস্ট্রাব) অপশন কাজ করছে, এছাড়া অপারেটররাও ব্যবস্থা নেবে।

ডি-অ্যাক্টিভেটেড নম্বর দিয়ে ইমো, ভাইবারের মতো অ্যাপস ব্যবহার বন্ধের দাবি জানান জাহিদুল ইসলাম এবং ইমরান আহমেদ নামে গ্রাহক। এ বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করছে আইটিইউ, আমরাও কাজ করছি। আশা করি দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটকের সেবার মান নিয়ে এক গ্রাহকের প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা বলেন, টেলিটক সরকারি প্রতিষ্ঠান। সৌদি টেলিকম আসছে, টেলিটক যাতে আরো উন্নতর হয়।

যত্রতত্র টাওয়ার বসানো নিয়ে টাওয়ার শেয়ারিং বিষয়ে এক গ্রাহকের প্রশ্নে বিটিআরসির মহাপরিচালক মাহফুজুল করিম মজুমদার বলেন, টাওয়ারের রেডিয়েশনের যে ফলাফল পেয়েছি তা আন্তর্জাতিকমানের চেয়ে অনেক নিচে। আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। টাওয়ারের চেয়ে মোবাইল ফোনের রেডিয়েশনের ঝুঁকিটা বেশি, এটাও মাথায় রাখতে হবে। টাওয়ার শেয়ারিং নিয়ে অপারেটর ও টাওয়ারকো কাজ করছে।

মহাপরিচালক শহিদুজ্জামান বলেন, টাওয়ারের জন্য ক্ষতি হচ্ছে- এটা অমূলক ধারণা। যদি ক্ষতি হতো তাহলে উন্নত দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহার করত না। সারা দেশে বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও জনবহুল এলাকায় রেডিয়েশন পরীক্ষা করে হাইকোর্টকে জানাবো।

আব্দুস সালাম নামে এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, তিনি প্রতি সেকেন্ড পালসের প্যাকেজ কিনে কথা বললেও অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে মহাপরিচালক শহিদুজ্জামান বলেন, সুস্পস্ট অভিযোগ দিন। যথাযথ ব্যবস্থা নেবো। অপারেটররাও সতর্ক থাকবেন, ভবিষতে যাতে এ ধরনের অভিযোগ না আসে।

তিনি বলেন, আমরা সেন্ট্রাল মনিটরিং সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছি। এ বছরেই চালু করবো। এ সিস্টেম চালু হলে অভিযোগ করলে পরীক্ষা করে দেখবো কোনো ধরনের ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কিনা এবং করে থাকলে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারবো।

বিটিআরসির হুমায়ুন কবির জানান, শুনানিতে প্রায় ২২টি প্রশ্ন এসেছে। অভিযোগের সমাধানের তথ্য আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিটিআরসির কমিশনার মো. আমিনুল হাসান, মো. রেজাউল কাদের, মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, সংস্থাটির মহাপরিচালকেরা এবং মোবাইল অপারেটর ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদাতাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পিপিবিডি/জিএম

বিটিআরসির গণশুনানি,মোবাইল অপারেটর,রাজধানী,রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত