Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬
  • ||

বৈশাখের উপহার

প্রকাশ:  ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ১৫:৩৬
রবিউল কমল
প্রিন্ট icon

বৈশাখের প্রথম দিন বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব। এদিন বৈশাখের রঙ ছড়িয়ে পড়ে বাংলার মাঠ-ঘাট, অলিগলি আর রাজপথে। সেই রঙে রঙিন হয়ে ওঠে গাঁও-গেরামেন কৃষক থেকে শুরু করে শহরের মানুষও। সববাঙালির মুখে ফুটে ওঠে আলোমাখা হাসি। হালখাতায় মিষ্টি বিলিয়ে পুরনো বছরের হিসাব চুকিয়ে চিরাচরিত নিয়মে নতুন বছরে স্বাগত জানায় দোকানি। রমনার বটমূল থেকে শুরু করে সারাদেশেই জমে ওঠে বৈশাখী মেলা। এই বৈশাখে সবাইকে ব্যতিক্রম কিছু উপহার দিয়ে আরো ঘটা করে জমিয়ে দিতে পারেন বছরের প্রথম দিনটাকে। এই বিশেষ দিনে কী উপহার দেওয়া যায় তা জেনে নিন-

প্রিয়জনের জন্য

নববর্ষ উপলক্ষে এটা-ওটা উপহার দেওয়ার রেওয়াজ বহুদিনের। এই রেওয়াজটার পালে নতুন হাওয়া লাগাতে পারেন দেশীয় পণ্যের চোখে চোখ রেখে। বন্ধু কিংবা একান্ত প্রিয় মানুষটিকে কাঠ, বাঁশ বা বেত দিয়ে বানানো আকর্ষণীয় শোপিস উপহার হিসেবে দিতে পারেন। দোয়েল চত্বর, নিউমার্কেট, গুলশান, ধানমন্ডি-২৭ সহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় কম দামে মৃৎশিল্পীদের দক্ষ হাতে বানানো মাটির জিনিসপত্র পাবেন। এসব সামগ্রী আপনার প্রিয় মানুষটিকে চমৎকৃত করতে পাওে দেশীয় আঙ্গিকে! মাটির ফ্রেমও পাওয়া যায় এসব জায়গায়। সেসব ফ্রেম বাসায় এনে বন্দি করতে পারেন পরিবারকে। মানে, পারিবারিক ছবি ফ্রেমে লাগিয়ে উপহার দিন। এ ছাড়া মাটির ফ্রেমে আটকানো আয়নাও উপহার হিসেবে দিতে পারেন। বাজেট বেশি হলে কারুশিল্প নগরীর বিভিন্ন অভিজাত দোকানেও ঢুঁ মারতে পারেন।

অফিস কলিগদের জন্য

প্রতিটি অফিসের কাছে বাঙালির উৎসবে একাত্মতা প্রকাশের প্রধান মাধ্যম পয়লা বৈশাখ। যেখানে প্রতিটি দিন ীঅফিস করেন তাদের জন্য উপহার একটু আলাদা হোক। একটু ভিন্নতা আনতে এদিনে বেতের ডালা, খেলনা টমটম গাড়ি, চরকা, গুলতি, তিলের খাজা উপহার দিতে পারেন। এসব উপহার আপনার সহকর্মীকে আমাদের মাটির কথা মনে করিয়ে দেবে। কারণ এগুলো তৈরি করে আমাদের মাটির সঙ্গে মিশে থাকা মানুষেরা।

শিশুদের জন্য

শিশুদের খুশি করতেও আমাদের দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যায় এমন কিছু উপহার দিন। যেমন- ডুগডুগি, পালকি, কুলা, ঘুড়ি বানিয়ে উপহার দিন। আজকাল বিভিন্ন এলাকায় এগুলো কিনতেও পাবেন। যদি পারেন সময় কাগজের মন্ড দিয়ে ফুলদানি, পাতিল, ছবির ফ্রেমও বানিয়ে দিতে পারেন।

একটু আলাদা

উপহার তো সবাই দেয়। আপনিও দেবেন। কিন্তু আপনারটা যদি একটু আলাদা রকমের হয় তাহলেই তো সেটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এজন্য আপনি যে কাউকে উপহার দিতে পারেন মুখোশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলাসহ বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যায় নানা রকমের মুখোশ। আমাদের দেশীয় ঢঙে বানানো এই মুখোশগুলো উপহার দিয়ে যে কোন বয়সী মানুষেন মুখে হাসি ফোটাতে পারবেন।

চল না ঘুরে আসি...

বৈশাখের প্রথমদিনে প্রিয় মানুষটার হাতে দেশীয় উপহার তুলে দিয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়–ন। শহরজুড়ে কত কী হয় দিনমান! গ্রাম তো সেই আদ্দিকাল থেকেই রমরমা থাকে বৈশাখে। এরপর শুধুই চরকিপাক! প্রিয় মানুষটাকে সঙ্গে নিয়ে নিজেকে ভাসিয়ে দিন উন্মাদ ডানায়! দেখুন, রঙের খেলা! ফসলের রঙ, হালখাতার রঙ। আর আমাদের মনের রঙের সঙ্গে মিশিয়ে দিন আমাদের চিরচেনা সংস্কৃতির রঙ!

অতিথির জন্য...

নববর্ষেও দিনে বাড়িতে অনেক অতিথি আসতে পারে। আর এসব অতিথির হাতে উপহার তুলে দেওয়া বাংলা নববর্ষের রীতিতে পারিণত হয়েছে। তাই এদিনে অতিথিকে এমন কিছু উপহার দিন যাতে দিনটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে দীর্ঘদিন। কিন্তু কী দেবেন? আজকাল ঢাকাতেও মাটির পুতুল হাতি, ঘোড়া, কলস, কচ্ছপ ফুলদানি পাওয়া যায়। এগুলো তুলে দিতে পারেন অতিথির হাতে। এছাড়া কাঠের চাবির রিং, মাটির, বাঁশ-বেত বা শোলার গয়না, টেরাকোটা, ফ্রেম, হ্যাঙ্গার, শিকা, হাতপাখার পাশাপাশি শীতলপাটিও উপহার দিতে পারেন আপনার অতিথিকে।

পরিবারের জন্য

ইচ্ছা করলে পরিবারের সবাইকে চমকে দিতে পারেন আপনি। যারা হোম ডেলিভারি দেয়, তাদের কাছে আগেই অর্ডার করে রাখতে পারেন পান্তা-ইলিশের। বৈশাখের প্রথম প্রহরে পরিবারের সবাইকে সারপ্রাইজড দিয়ে পান্তা-ইলিশের চিরচেনা রস আস্বাদনের সুযোগ করে দিতে পারেন আপনিও। এছাড়া পরিবারের সদস্যদের জন্য হালকা খাবার বেছে নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে খই, মুড়ি, চিড়া বাঁশের টুকরিতে করে দিতে পারেন। নাড়–, মোয়া, সন্দেশ দেওয়া যেতে পারে। এসব খাবার পরিবারের সদস্যদের বাঁশপাতার কাগজ বা মোটা বাদামি কাগজেই মুড়ে দিতে পারেন। কাঁঠাল পাতা টুথপিকে মুড়ে নিলেও চমৎকার প্যাকেট হয়।

যেখানে পাবেন

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একটু খোঁজ করলেই এসব দেশীয় উপহার সামগ্রী পেয়ে যাবেন। নিউমার্কেটের কাঁচাবাজার, আজিজ মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, হাতিরপুল মোড়, শাঁখারীবাজারের মতো পুরোনো জায়গাগুলোতে পেয়ে যাবেন উপহারের কাগজের প্যাকেট, বাঁশের ঝুড়ি। দাম পড়বে ১০ থেকে শুরু করে ৫০ টাকার মতো। পুতুল পাবেন চারুকলা, শিশু একাডেমী সংলগ্ন মার্কেট ইত্যাদি স্থানে। এগুলোর দাম নেবে ১০ থেকে ৮০ টাকা।

apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত