• মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

‘ট্রাম্পের করোনা সঙ্কট অস্বীকার ছিলো ভয়ঙ্কর, এখন মানুষ মরছে’

প্রকাশ:  ০৪ এপ্রিল ২০২০, ০৭:২০ | আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২০, ০৭:৪১
নিউইয়র্ক থেকে রওশন হক
রওশন হক। ফাইল ছবি

মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি সিএনএনকে বলেন, ‘শুরুতে ট্রাম্প যেভাবে সংকট অস্বীকার করেছেন, তা ছিল ভয়ঙ্কর। এখন মানুষ মরছে।’

প্রশাসনের কর্মকর্তারাই বলছেন, শুরুর গা-ছাড়া ভাবের কারণেই এখন সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ভেন্টিলেটর থেকে শুরু করে চিকিৎসা সরঞ্জামের ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবাকর্মীদেরই ঝুঁকিমুক্ত রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আমেরিকায় এখন এমন কোনো অঞ্চল নেই, যা ঝুঁকিমুক্ত। প্রতিটি অঞ্চলে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এমন পরিস্থিতির আশঙ্কা শুরু থেকেই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দিক থেকে প্রকাশ করা হলেও ট্রাম্প ছিলেন নির্বিকার। বরং বরাবরের মতোই দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়ে সবাইকে বিভ্রান্ত করে গেছেন এই টুইটার প্রেসিডেন্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন সচেতন হয়ে কথা বলছেন। কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে। ১ এপ্রিল যখন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নীতি ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করার ঘোষণা দেওয়ার সময় তিনি বললেন, ‘এই ভয়াবহ ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমেরিকা সর্বাত্মক যুদ্ধ চালিয়ে যাবে’, তখন তিনি নিজের বিরুদ্ধেই যেন কথা বললেন। নিজের পূর্ববর্তী অবস্থানের জন্য এখন পর্যন্ত দুঃখও প্রকাশ করেননি তিনি। নিজের গোঁয়ার্তুমি ধরে রাখতেই তিনি এখনো তৎপর। এমনকি সংকটকে রাজনৈতিক চেহারা দেওয়ার চেষ্টাও করছেন। ব্রিফিংয়ে তিনি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স দুজনের কেউই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর উত্তর দেননি। এমনকি সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়ানোর ক্ষেত্রে পেন্সের দক্ষতায় নিজের মুগ্ধতাও তিনি লুকাতে পারেননি।

এত কিছুর পরও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের নেতৃত্বকে ‘যথার্থ’ বলা হচ্ছে। যদিও হোয়াইট হাউসে গঠন করা করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সের এক বিশেষজ্ঞ বলছেন, ট্রাম্প এই মহামারি নিয়ে জুয়া খেলেছেন। তিনি সব বিশেষজ্ঞের কথা শুনেছেন। এরপর তিনি একজন বিশেষজ্ঞকে নিয়ে আলাদা হয়ে কিছুক্ষণ কথা বলেছেন। ওই বিশেষজ্ঞ ‘তাপমাত্রা বাড়লে প্রকোপ কমতে পারে’ বলে একটি সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। ট্রাম্প এটিকেই অকাট্য ধরে নিয়েছেন যে, বসন্তে উত্তাপ বাড়লে এমনিতেই ভাইরাস হাওয়া হয়ে যাবে। কিন্তু আদতে তা হয়নি।

আরও পড়ুন: মোবাইলে ইমার্জেন্সি এলার্ট: নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়েছে, ডাক্তার নার্স অসুস্থ

এত কিছুর পরও ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে রাজনীতির বর্মটিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। তিনি ও তাঁর রিপাবলিকান সমর্থকেরা বলছেন, প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করতে ডেমোক্র্যাটরা যা করেছে, তাই প্রশাসনকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় বাধার মুখে ফেলেছে। সিনেটে রিপাবলিকান দলের নেতা মিচ ম্যাককোনেল সরাসরি বলেছেন, অভিশংসন প্রক্রিয়া নিয়ে ওয়াশিংটন এতটাই ব্যস্ত ছিল যে, তাদের পক্ষে এই বিষয়টির দিকে নজর দেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি তাঁরা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) ঘাড়ে দায় চাপাতেও পিছপা হচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য, সিডিসি নাকি শুরুতে পরিস্থিতি এতটা বাজে হবে—এমন কোনো পূর্বাভাস দেয়নি।

কিন্তু তাঁদের এই বক্তব্যের কোনোটিই যে ধোপে টিকবে না, তা একটিমাত্র তথ্যেই পরিষ্কার। আর তা হলো, করোনাভাইরাসের কারণে যেকোনো ঝুঁকিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়ার কাজটি প্রথমেই করেছিলেন প্রেসিডেন্ট স্বয়ং। তিনি এই পুরো সময় ধরেই শুধু তাঁর পুনর্নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এখনো তিনি নভেম্বরের দিকেই তাকিয়ে আছেন। এই দুর্যোগে অর্থনীতি সচল করতে চাওয়ায় অন্তত তা-ই প্রকাশ পায়। আর এমন চাওয়া ও লক্ষ্যই প্রেসিডেন্টের আত্মকেন্দ্রিক রূপটি আরও নগ্নভাবে প্রকাশ করে দিয়েছে, যা তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: মহাপ্রতাপশালী হোয়াইট হাউজ অসহায়, প্রশ্নবিদ্ধ ট্রাম্প প্রশাসন

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

করোনাভাইরাস,নিউইয়র্ক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close