• শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

মহাপ্রতাপশালী হোয়াইট হাউজ অসহায়, প্রশ্নবিদ্ধ ট্রাম্প প্রশাসন

প্রকাশ:  ০৪ এপ্রিল ২০২০, ০৭:০৯ | আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২০, ০৭:২৫
নিউইয়র্ক থেকে রওশন হক
রওশন হক। ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সামনে রীতিমতো অসহায় হয়ে গেছে মহাপ্রতাপশালী হোয়াইট হাউস। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অক্ষমতা ভীষণভাবে স্পষ্ট করে তুলেছে এই মহামারি। এপ্রিলের প্রথম দিনেই আমেরিকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে প্রায় এক হাজার মানুষের। এক দিনে এত বেশি মানুষের মৃত্যু মহামারি মোকাবিলায় প্রশাসনের কথিত প্রস্তুতির সামনে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। এটি একই সঙ্গে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বকেও।

শুরুতে করোনাভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাবকে কোনো গুরুত্বই দেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেছিলেন, আমেরিকা চীন নয়। পরিস্থিতি মোকাবিলার যথেষ্ট প্রস্তুতি আমেরিকার রয়েছে। কিন্তু এখন এই সময়ে আমেরিকাকেই সবচেয়ে বেশি অপ্রস্তুত মনে হচ্ছে। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, ২ এপ্রিল পর্যন্ত আমেরিকায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ২৬ হাজার ছাড়িয়েছে। মারা গেছেন ৫ হাজার ৩১৬ জনের বেশি। যে নিউইয়র্ককে লকডাউন ঘোষণার প্রয়োজন নেই বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সেই নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা এরই মধ্যে ৯২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আর মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ হাজার ৩৭৩। শুধু নিউইয়র্ক নগরেই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৩৭৪ জন, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে। নিউইয়র্ক নগরে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক আগেই ৪৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

মার্কিন জরুরি বিভাগ প্রশাসনের কাছে লাশ রাখার জন্য এক লাখ ব্যাগ প্রস্তুত রাখার চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে। এই ব্যাগ জোগান দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ। এই যখন অবস্থা, তখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়নি। যদিও জনসমাগমের ওপর আরোপ করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু এটিকে যথেষ্ট বলে মনে করছেন না স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, জনসমাগমস্থলগুলো বন্ধ করা এবং ১০ জনের বেশি জমায়েত হওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মধ্য দিয়ে অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে এরই মধ্যে লকডাউন জারি হয়ে গেছে। আক্ষরিক অর্থেই থমকে গেছে অর্থনীতি। লাখ লাখ মানুষ এরই মধ্যে কাজ হারিয়েছেন। এ সংখ্যা কোথায় গিয়ে ঠেকে তার কোনো ঠিক নেই। লকডাউন ঘোষণা করলে অর্থনীতির অবস্থা এর চেয়ে বাজে হয়তো হবে না। কিন্তু যদি না করা হয়, তবে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ভয়ংকর দিকে মোড় নিবে।

প্রশাসন যে এই হিসাবটি জানে না, তা নয়। কিন্তু খোদ প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে কোনো নির্দেশনা আসছে না। যদিও ২ এপ্রিল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স সিএনএনকে বলেন, আমেরিকার পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে ইতালির ভাগ্য বরণ করতে হবে।

বর্তমানে আমেরিকার পরিস্থিতি আদতে এমন যে, হোয়াইট হাউসের পক্ষে আসলে অসহায় হয় দেখা ছাড়া কিছু করার নেই। ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের লোকেরা এই মুহূর্তে আমেরিকানদের ঘরে থাকার জোর আহ্বানই কেবল জানাতে পারেন। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধির মধ্য দিয়েই শুধু মার্কিন প্রশাসনের অসহায়ত্ব ফুটে উঠছে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ সংকট, যা স্বাস্থ্য খাতের কর্মীদের বড় ঝুঁকিতে ফেলছে।

এই পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস কিছু পদক্ষেপ যে নিচ্ছে না, তা নয়। যেমন ট্রাম্পের অর্থনীতি সচলের প্রস্তাব এড়িয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার নীতি অনুসরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হোয়াইট হাউস। ঘোষণাটি ট্রাম্পের কাছ থেকেই এসেছে। কিন্তু তার আগেই ‘দু সপ্তাহের মধ্যে অর্থনীতি সচলের’ কথা বলে, যা অঘটন ঘটানোর, তা ঘটিয়ে ফেলেছেন ট্রাম্প। আর তা হলো নিজের নেতৃত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দেওয়া।

আরও পড়ুন: ‘ট্রাম্পের করোনা সঙ্কট অস্বীকার ছিলো ভয়ঙ্কর, এখন মানুষ মরছে’

শুরুতে গুরুত্ব না দেওয়া এই মহামারিকে এখন অতি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হচ্ছে প্রশাসনকে। গত ৩১ মার্চ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইক পেন্স জানান, আমেরিকায় এই মহামারিতে ১ লাখ থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার মানুষ মারা যেতে পারে। এমনকি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নীতিসহ অন্য সতর্কতাগুলো অবলম্বনের পরও মৃতের সংখ্যা এমন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন।

এই যখন অবস্থা, তখন রাজনৈতিক পরিসর থেকে শুরু করে জনপরিসরে একটি প্রশ্নই বারবার উঠছে। আর তা হলো— পরিস্থিতি যদি এতটাই বাজে হবে, তবে ট্রাম্প শুরুতে কেন একে কোনো গুরুত্ব দেননি? তিনি এই ঝুঁকিকে কেন লুকাতে চেয়েছিলেন? শুরুতে কেন প্রস্তুতি নেওয়া হলো না? এই অপ্রস্তুতিকেই এখন এত এত মৃত্যুর জন্য দুষছেন সবাই।

আরও পড়ুন: মোবাইলে ইমার্জেন্সি এলার্ট: নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়েছে, ডাক্তার নার্স অসুস্থ

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

নিউইয়র্ক,করোনাভাইরাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close