• রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬
  • ||

মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসীদের কাজের মূল্যায়ন করতে হবে

প্রকাশ:  ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১০:২৪
আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের মূল্যায়ন করতে হবে, বললেন মালয়েশিয়ান নাগরিক কুয়েস্টার ফং। ফং বলছেন, মালয়েশিয়ায় স্ব-সাহসে কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন বাংলাদেশের শ্রমিকরা। তাদের শ্রমের মূল্যায়ন অবশ্যই করতে হবে।

শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) রাতে গ্রাবে করে বাসায় ফিরছিলাম। গ্রাবের চালক মি. ফং আমার পরিচয় যেনে আলাপ শুরু করলেন। এক পর্যায় বাংলাদেশি কর্মীদের কাজের দক্ষতার প্রশংসা করলেন। বললেন ফং, এখানে কিন্তু সবাই ভাল জীবন খুঁজে পায় না। কারণ কখনও কখনও তারা শোষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কাজ করছে। দৃশ্যত দেশের সরকারের কিছু নীতি নির্ধারণের কারণে বাংলাদেশি শ্রমিকরা অনেক ঝামেলায় পড়ছে। ফং কিন্তু গ্রাব চালকই নন। তিনি একজন রিয়েলএ্যাষ্টেট নিগোটিয়েটর। পার্টটাইম গ্রাব চালান।

ফং গর্বের সাথে বললেন, আমি বাংলাদেশি কর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ তিন বছর কাজ করেছি বিল্ডিং কন্সট্রাকশনে। তাদের কাজের দক্ষতা অপরিসীম।

ফং বললেন, আপনি হয়ত ভাবছেন আপনার দেশের শ্রমিকদের প্রশংসা করছি আপনাকে খুশি করতে। না সত্যিই তাদের কাছ থেকে আমি কাজের দক্ষতা অর্জন করেছি। আজ আমি দুইটি কোম্পানির মালিক। আরা দামানসারা তার কোম্পানীতে ১২জন বাংলাদেশি কাজ করছেন। আমি তাদের নিজের আপন ভাইয়েরও বেশি আপন মনে করি। কারণ তাদের শ্রমে ও তাদের দক্ষতায় আজ আমি দুটি কোম্পানীর মালিক।

ফংকে প্রশ্ন করলাম তা হলে আপনি গ্রাব.. বলতেই পুরোটা বলার আগেই হাসিঁ মুখে বললেন, আপনি যে প্রশ্ন করতে চাচ্ছেন আমি গ্রাব কেন চালাই? তাই তো? হ্যাঁ। ফং বললেন, যখন আমি অবসরে থাকি তখন রাস্তায় গাড়ি নিয়ে নেমে পড়ি। তাও বেশির ভাগ যাত্রী বাংলাদেশি।

এ দিকে দেশে থাকা পরিবার পরিজনদের আকাশচুম্বী চাওয়া-পাওয়ার অনেকটাই নির্ভর করে প্রবাসীদের উপার্জনের ওপর। হাসিমুখে তাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে যাচ্ছে দেশ এবং পরিবারকে। কেউ কেউ পরিবারের মুখে হাসি ও স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনলেও অনেকেই প্রবাসে অসহায়ত্বের গ্লানি টানার মধ্যেও তাদের একটাই কথা পরিবার পরিজন ছেড়ে বিদেশে এসেছি টাকা রোজগার করতে।

শনিবার সরেজমিন কুয়ালালামপুর পিএনবি ১১৮ ভবনে গিয়ে দেখা গেছে, অভিবাসী শ্রমিকরা বীরদর্পে কাজ করছেন। কথা হয় তাদের সঙ্গে। মালয়েশিয়াবাসী কিছু অভিবাসী শ্রমিকের দিকে নজর রাখছেন এমন কয়েকজন মালয়েশিয়ান নাগরিকদের সঙ্গেও কথা হয়, তারা বলছেন পরবাসী হয়েও যারা আমাদের দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন, যে চাকরিগুলো আমাদের মালয়েশিয়রা করেন না সেগুলো অভিবাসী শ্রমিকরা করছেন। তারা ফং এর মত একই কথা বললেন, অবশ্যই এসব পরবাসী শ্রমিকদের কাজের মূল্যায়ন করতে হবে।

তারা বলছেন, আমাদের জাতিগত অবস্থার পরিবর্তনের ফলে, আকাশচুম্বী এবং কাঠামোগুলি আকাশমন্ডলকে ডুবিয়ে দিচ্ছে পরবাসীরা। এই আকাশচুম্বি কাঠামোগুলো বেশিরভাগই এই শ্রমিকদের নির্মিত বলে মন্তব্য করলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মালয়েশিয়ান নাগরিক।

সুনামগঞ্জের হারুন মিয়া, নড়াইলের সত্ববাবু, রাজশাহীর সাজু মিয়া, কুষ্টিয়ার রফিজুল চলতি বছরের আগষ্ট মাস থেকে কুয়ালালামপুরের পিএনবি ১১৮তলা বিল্ডিয়ের নির্মাণ প্রকল্পের ইলেক্ট্রিকেল ওয়ারিং সেকশনে কাজ করছেন। যেখানে বৈধপারমিট ও সিআইডিবি কার্ড ছাড়া কাজ পাওয়া খুবই মুশকিল। সেখানে এ চারজন বাংলাদেশি কাজ করছেন। শুধু এ চারজনই নয় বৈধপারমিটসহ শতশত লালসবুজ পতাকাবাহি গর্বিত সোনার ছেলেরা বীরদর্পে কাজ করে চলেছেন।

হারুন মিয়া বলছেন, এ হাইরাজ বিল্ডিংএ কাজ নিতে অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। কাজ পেয়েছি।

হারুন মিয়া বলেন, আমরা যারা বাংলাদেশি এখানে কাজ করছি কাজের দক্ষতা দেখে কর্তৃপক্ষ খুব খুশি। তার সাথে সুর মিলালেন কুষ্টিয়ার রফিজুল। বললেন বিদেশে এসেছি টাকা ইনকাম করতে। শ্রম দিয়ে যাচ্ছি। রফিজুলের একটাই দুঃখ, আগষ্ট মাস থেকে এখানে করছি। ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, মালয়েশিয়ান, চায়নাসহ আরও কয়েকটি দেশের শ্রমিকরা কাজ করছেন, তাদের দেশের দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকতার্রা প্রতি সপ্তাহে এসে তাদের খোজঁ খবর নিচ্ছেন। এতে তাদের কাজের উৎসাহ বাড়ে। শুধু আমরাই অবহেলায় রয়ে গেলাম। আমাদের দূতাবাসের কেউই আমাদের খোজঁ রাখে না। বিদেশে আমরা শ্রমের বিনিময়ে দেশকে দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু দেশের চালকরা আমাদের লোকদেখানো স্মৃতিচারণে ব্যস্ত।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

মালয়েশিয়া
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত