• বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদান ভোলার নয়: হাইকমিশনার

প্রকাশ:  ১২ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৪৮
আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলাম বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি হচ্ছেন প্রবাসীরা। তাদের অবদান ভোলার নয়। প্রবাসীরা দেশ ছেড়ে থাকলেও তারা সবসময় দেশ ও দেশের মানুষের কল্যান নিয়ে ভাবেন। আপনাদের পাঠানো অর্থে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ। তাই সরকারও প্রবাসীদের সবসময় সম্মান দেখিয়ে থাকে। প্রতিবছর সরকার প্রবাসীদের সিআইপি মর্যাদায় ভূষিত করছে। ১১ অক্টোবর শুক্রবার মালয়েশিয়ার জহুর প্রদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও কমিউনিটির সঙ্গে হোটেল প্যারাগনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের আয়োজনে মত বিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় হাইকমিশনার আরোও বলেন, বাংলাদেশিদের গুণে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে মালয়েশিয়ায়।’ ‘দুটি দেশেরই নেতৃত্বে এখন দু’জন বলিষ্ঠ নেতা। বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সন্তান শেখ হাসিনা। যিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আর আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার তুন ডা. মাহাথির মোহাম্মদ।’

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতাদের এক প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, মালয়েশিয়ায় আপনারা যারা বসবাস করছেন সবাই দেশের আইনকে সম্মান করুন। পাশাপাশি সকলে একসাথে কাজ করা, নিজেদের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে নিজেদের এবং দেশের সুনাম বৃদ্ধি করা।

পরস্পরের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করা, অন্যের প্রয়োজনে এগিয়ে যাওয়া, অপপ্রচার করা থেকে বিরত থাকা এবং অন্যকে বিরত রাখা,নিজ দেশের নাগরিকদের সুপরামর্শ দেওয়া, প্রতারণা থেকে রক্ষা করা, বাংলাদেশি পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি করা, নিজেদের সেবা , ব্যবহার ও সুন্দর উপস্থাপনা দিয়ে অন্য দেশের নাগরিকদের মধ্যে নিজেদের তুলে ধরা, পরবর্তীতে বৃহত্তর আয়োজনের মাধ্যমে কমিউনিটির সদস্যের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ,জহুরবারুতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রয়োজনকে আমলে নিয়ে সরকার জহুর বারুতে কনস্যুলেট স্থাপন করতে যাচ্ছে। এতে সকল সেবা আপনারা হাতের কাছে পাবেন বলে উপস্থিত প্রবাসীদের আশ^স্থ করেন হাইকমিশনার।

হাইকমিনার বলেন, সরকারের ব্যাকফরগুড কর্মসূচির আওতায় মালয়েশিয়ায় প্রবেশের কোন তথ্য নেই বা ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করেছে এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও অবস্থান করছে এমন ব্যক্তিরা সহজ শর্তে মালয়েশিয়া ত্যাগের সুযোগ দিয়েছে।

এ কর্মসূচি ০১ আগস্ট শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত চালু থাকবে। মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট এবং নিশ্চিত (কনফার্মড) বিমান টিকিটসহ আবেদন করতে হবে এবং জরিমানা ও স্পেশাল পাস বাবদ সাকুল্যে ৭০০ মালয়েশিয়ান রিংগিত জমা দিতে হবে। ইমিগ্রশন কর্তৃপক্ষ আবেদনের এক কার্যদিবসের মধ্যেই স্পেশাল পাশ বা বহির্গমনের অনুমতি প্রদান করবে। এই অনুমতি প্রাপ্তির তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই মালয়েশিয়া ত্যাগ করতে হবে। আবেদনকারীদের সুবিধাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন সমগ্র দেশে ৮০ টির অধিক বুথ স্থাপন করেছে।

এ কর্মসূচির কাজ প্রক্রিয়াকরণের জন্য কোন ৩য় পক্ষ বা ভেন্ডর বা এজেন্ট নিযুক্ত করা হয়নি। কোন মাধ্যম ছাড়াই আবেদনকারীকে সরাসরি নিকটস্থ ইমিগ্রেশন অফিসে স্বশরীরে হাজির হতে হবে। হাইকমিশনার বলেন, যদি কেউ ৩য় পক্ষ বা ভেন্ডর বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ভুয়া তথ্য প্রদান করে আর সেটি প্রমাণিত হয় তাহলে আবেদনকারীর জেল- জরিমানা হতে পারে। তাই আবেদনকারি সঠিক তথ্য উপস্থাপনের জন্য হাইকমিশনের পরামর্শ নিতে আহবান জানিয়েছেন তিনি। হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন ইচ্ছুক অবৈধ প্রবাসীদের দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য দীর্ঘসূত্রিতা ও হয়রানিমুক্ত সহজ পদ্ধতি প্রবর্তন এবং জেল জরিমানা ব্যতিরেকে দেশে ফেরার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মালয়েশিয়া সরকারের সাথে দীর্ঘ আলোচনা করে আসছিল। ফলশ্রুতিতে মালয়েশিয়া সরকার বিফোরজি কর্মসূচিটি চালু করেছে। কেননা বিদ্যমান পদ্ধতিতে গ্রেফতার, জরিমানা ও কারাবারণ শেষে ডিপোর্টেশন ক্যাম্পে অবস্থানের পর দেশে ফেরত যেতে হয়; আত্মসমর্পণকারীদের স্পেশাল পাশ বা বহির্গমন অনুমতি পেতে ১৪ দিন অপেক্ষা করতে হয় এবং ৩১০০ রিংগিত বা তার বেশি জরিমানা দিতে হয় যা তাদের জন্য কষ্টকর।

এদিকে এ কর্মসূচির সুফল প্রাপ্তির জন্য হাইকমিশন ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এরই মধ্যে এ কাজকে সুষ্ঠ ভাবে পরিচালনার জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গ্রহণ করা হয়েছে। এ কমিটির অধীনে দূতাবাসের আরও ২০ জন কর্মীকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। যাদের যে তথ্য এবং ডকুমেন্ট প্রয়োজন তা দ্রুত সরবরাহ করার যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মিশনের চলমান প্রবাসীদের কন্স্যুলার সেবা দিতে যেমনি দেশটির প্রতিটি প্রদেশে কাজ করছে ঠিক তেমনি প্রতিটি প্রদেশে ট্রাভেল পারমিট সেবা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাইকমিশনার।

যে সকল অবৈধ অভিবাসী দেশে প্রত্যাবর্তনে আগ্রহী তারা এই কর্মসূচীর সুযোগ গ্রহণ করে উপকৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সেলর (২) মো. হেদায়েতুল ইসলাম মন্ডল, প্রথম সচিব বাণিজ্যিক মো. রাজিবুল আহসান, প্রথম সচিব পলিটিক্যাল রুহুল আমিন। এ ছাড়া ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মো. ফাহিম, মো. জাকির হোসেন, তরিকুল ইসলাম রবিন, শামীম এজাজ, নজরুল ইসলাম বাবু, বাবলু, মো. শারফিন, মো. আশরাফুল আল শামীম, রুহুল আমিন, আব্বাছ উদ্দিন, মো. শাহীন, সিদ্দিকুর রহমান, আবু সালেহ মামুনসহ শতাধিক প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন।

হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সেলর(২) মো. হেদায়েতুল ইসলাম এ প্রতিবেককে বলেন, মান্যবর হাইকমিশনার মহ.শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে দূতাবাসের দুই দিনের ঝাটিকা সফরে জহুর কমিউনিটি ও বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের আগে ১০ অক্টোবর, জহুর প্রদেশের চাইনিজ চেম্বার ও ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন রাষ্ট্রদূত। এ ছাড়া জহুর প্রদেশের ইমিগ্রেশন ক্যাম্প কমান্ডারের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। ক্যাম্পে থাকা বাংলাদেশিদের খোজঁখবর নেন এবং তাদের দ্রুত দেশে প্রেরনে ক্যাম্প কমান্ডারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে করা দূতাবাসের কার্যক্রম তুলে ধরে হেদায়েতুল ইসলাম বলেন ,মান্যবর হাইকমিশনার এর নির্দেশেই দূতাবাসের কাজ এগিয়ে চলেছে। প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে শনিবার ও রবিবার পাসপোর্ট সেবা দেওয়া হয় জহুর বারুতে। যাতে কুয়ালালামপুর যেতে না হয়। জহুর ব্যাবসা বৃদ্ধির জন্য চেম্বারের সাথে সভা । বাংলাদেশ এখন লেবার সোর্স কান্ট্রি। কোম্পানি পরিদর্শন করে অনুমোদন দেয়া, কর্মীদের লেভি না দেওয়া, কাজ ও আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষে দুতাবাস জহুরবারুতে কাজ করছে।

পূর্বপশ্চিম/এসএইচ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত