• সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬
  • ||

দক্ষিণ আফ্রিকায় গুলি করে ২ বাংলাদেশিকে হত্যা

প্রকাশ:  ২৭ আগস্ট ২০১৯, ১১:২৪ | আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৯, ১৫:৫৯
শরীয়তপুর প্রতিনিধি

শরীয়তপুরের দুই যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দ‌ক্ষিণ আফ্রিকার সন্ত্রাসীরা। রোববার স্থানীয় সময় রাত পৌনে আটটার দিকে কেপটাউন শহরের মালমাজবেরি এলাকার একটি বিপনি বিতানে হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করা হয়। হত্যাকা‌ণ্ডের খবর শু‌নে প্রিয়জনকে হারা‌নো বেদনায় দিশেহারা স্বজনরা, বা‌ড়ি‌তে চলছে শোকের মাতম। এলাকায় তা‌দের কান্নায় আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠ‌ছে। ‌নিহত‌দের স্বজনরা তা‌দের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারি সহযোগিতা চেয়েছেন।

নিহত ওই যুবকরা হলেন, ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিসার ইউনিয়নের কাইচকুড়ি গ্রামের মৃত শহর আলী মাঝির ছেলে উজ্জল মাঝি (৩২) ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক নড়িয়া উপজেলার বিঝারী ইউনিয়নের কাপাশপাড়া গ্রামের আলম মোল্যা (৩৪)। আলম মোল্যার হানিফা (৩) নামে এক ছেলে, আফসা (৬) নামে এক মেয়ে রয়েছে।

নিহতদের স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাইচকুড়ি গ্রামের উজ্জল মাঝি ২০০৮ সালে সাউথ আফ্রিকা যান। সেখানে তিনি একটি বিপনি বিতান খুলে বসেন। গত ১০ বছরে তিনি চারটি বিপনি বিতান খোলেন। গত রোববার স্থানীয় সময় রাত পৌনে আটটার দিকে কেপটাউন শহরের মালমাজবেরি এলকার বিপনি বিতানে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা উজ্জলের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এসময় তারা ওই দোকানের শ্রমিক নড়িয়া উপজেলার আলম ম্যোলাকেও গুলি করে হত্যা করে। তখন সন্ত্রাসীদের এলোপাথারি গুলিতে ওই প্রতিষ্ঠানের ক্রেতা কালরড নামে এক সাউথ আফ্রিকার নাগরিক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় এবং আরো তিনজন আহত হন।

নিহত উজ্জলের বোন জামাই সুলতান মাহমুদ বলেন, এক যুগ ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করছেন আমার শ্যালক উজ্জল মাঝি। জানুয়ারিতে বাড়িতে এসে বিয়ের পিড়িতে বসার কথা ছিল তার। তার জন্য পছন্দ মতো মেয়ে দেখে আন্টি ও কাবিন করে রাখা হয়েছে। তবে সন্ত্রাসীর গুলিতে কেড়ে নিয়েছে সেই স্বপ্ন। সরকারের কাছে দাবী দ্রুত যেন লাশ আনার ব্যবস্থা করা হয় বাংলাদেশে।

আলম মোলার চাচাতো চাচা ফোরহাদ হোসেন বলেন, আলম দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহরের সুপার মার্কেটের একটি দোকানে চাকরি করতেন। ওই দোকানটিতে পাঁচজন কমর্চারি ছিল। রোববার রাতে কিছু সন্ত্রাসী দোকানে ঢুকে চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা এলোপাথারীভাবে গুলি করতে থাকে। আলম গুলিবৃদ্ধ হয়, পরে মারা যায়।

তিনি বলেন, আলমরা তিন বোন, এক ভাই। ওর মা অনেক আগেই মারা গেছেন । আর বৃদ্ধ বাবা বিছনায় পরে আছেন। তাদের কিছু ফসলি জমি ছিল । সেই জমি বিক্রি করে ও ঋণ করে পরিবার আলমকে দেড় বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠায়।

আলম মোল্যার স্ত্রী রুমা আক্তার কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার ছেলে মেয়ে কাকে বাবা বলে ডাকবে? আমার সংসার কিভাবে চলবে? এদিকে উজ্জল মাঝির বড় ভাই মারুফ মাঝি বলেন, উজ্জল প্রায় ১১ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহরে দোকান চালান।

কয়েক দিন ধরে সেখানকার চাঁদাবাজরা তাদের কাছে চাঁদা দাবি করছিল। চাঁদা না দেওয়ায় উজ্জলকে দোকানে ঢুকে গুলি করে হত্যা করে। একই সময় আলমকে গুলি করে। স্থানীরা তাদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, সেখানকার বাংলাদেশিরা জানিয়েছে তাদের লাশ কেপটাউন শহরের একটি হাসপাতালের হিমাগারে আছে।

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহরে সন্ত্রাসীর গুলিতে শরীয়তপুরের দুই ব্যাক্তি নিহতর সংবাদ লোকমুখে শুনেছি। কিন্তু সরকারিভাবে কোন খবর আমাদের কাছে আসেনি। নিহতের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হ‌বে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/পিএস

দক্ষিণ আফ্রিকা,বাংলাদেশি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close