Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬
  • ||

আকাশপথে টিকেটের দাম তিনগুণ, মালয়েশিয়া প্রবাসীদের ক্ষোভ

প্রকাশ:  ২৮ জুলাই ২০১৯, ১৪:০৪
আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া
প্রিন্ট icon

কুয়ালালামপুর- ঢাকা রুটে আকাশপথে টিকেটের দাম তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রবাসীরা। ঈদে টিকেটের ওপর চাপ পড়বেই-এমনটি নিশ্চিত হয়েই উড়োজাহাজগুলো অপেক্ষায় থাকে। শুরুতেই আকাশপথের বুকিং শুরু হয়ে যায়। শুধু তাই নয় অবৈধ কর্মীদের দেশে ফেরার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে কাক্ষিত তারিখের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ টিকেট। এই সুযোগে উড়োজাহাজগুলো ভাড়া বাড়িয়েছে দুই থেকে তিনগুণ।

খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, যাওয়া আসার ১১শ রিঙ্গিতের টিকেট এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫শ থেকে দুই হাজার রিঙ্গিতে। তাও মিলছে না। আকাশপথের টিকেটের এত দাম বৃদ্ধি কেন- জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি। ট্রাভেল এজেন্টরা বলছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সংশ্লিষ্টদের তদারকি না থাকায় খেয়াল খুশিমতো ভাড়া বাড়াচ্ছে এয়ারলাইন্সগুলো।

শুধু ঈদেই নয় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে দেশটির সরকার। এ দু”টি সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিমান ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে বলে বলছেন প্রবাসীরা।

এদিকে স্বল্পমূল্যে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কোন রূপ হয়রানি ছাড়া ফ্লাইট টিকিট দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য ফ্লাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মহ.শহীদুল ইসলাম। কুয়ালালামপুর-ঢাকা ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ হাইকমিশনে এ সম্পর্কিত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অবৈধ অভিবাসী যারা দেশে যেতে ইচ্ছুক তাদের জন্য মালয়েশিয়া সরকার বিফোরজি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ কর্মসূচির নিয়মানুযায়ী ইচ্ছুকদের আগেই ফ্লাইট টিকিট ক্রয় করতে হবে এবং পরে ইমিগ্রেশনে আবেদন করতে হবে। তাই ফ্লাইট টিকিট যেন সহজে স্বল্পমূল্যে ক্রয় করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। এ কর্মসূচি সফল করতে এয়ারলাইনসগুলো সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে। উল্লেখ্য, শুধু সরাসরি ফ্লাইট যেমন কুয়ালালামপুর-ঢাকা বা জহুরবারু-কুয়ালালামপুর-ঢাকা বা পেনাং-কুয়ালালামপুর-ঢাকা ফ্লাইট টিকিট ইমিগ্রেশন গ্রহণ করবে।

সভায় সংশ্লিষ্ট সবার উদ্দেশ্যে হাইকমিশনার বলেন, এ প্রোগ্রামের আওতায় কালোবাজারিদের দ্বারা যাতে সাধারণ কোনো কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে সবার দৃষ্টি রাখতে হবে।

প্রবাসীরা বলছেন, ভাড়াটা কত নেওয়া হচ্ছে বা কত বাড়তে পারে তা নিয়ে প্রতি মুহূর্তে তদারকি করা প্রয়োজন। প্রবাসী যাত্রীদের অভিযোগ- ঈদ এলেই বাড়ানো হয় টিকেটের দাম। সংশ্লিষ্টদের আচরণ দেখে মনে হয় কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করেই বাড়তি অর্থ আদায় করে নিচ্ছে।

ট্র্রাভেলস এজেন্সিতে আসা যাত্রীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, চাহিদার তুলনায় উড়োজাহাজগুলোর ফ্লাইট কম থাকায় অধিকাংশ আসনের টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। অবিক্রীত যা আছে তার জন্য গুণতে হচ্ছে দ্বিগুণ মূল্য।

প্রবাসী রতন মিয়া বলেন, যাওয়া আসার যে টিকেট ১১শ রিঙ্গিত, সেই টিকেট ১৫শ থেকে দুই হাজার রিঙ্গিতে কেনা লাগছে। ট্রাভেল এজেন্টরা বলছেন, অতিরিক্ত মুনাফা না করে ঈদে ঘরমুখো প্রবাসী যাত্রীদের জন্য ছাড় দেওয়া উচিত বিমান সংস্থাগুলোর। কিন্তু ঘটছে উল্টো।

এজেন্সিগুলো জানিয়েছে, চাহিদা বাড়ায় এ রুটের বিমান টিকেটের দাম আকাশচুম্বী। সব এয়ারলাইন্সের ঈদের আগের টিকেট বিক্রি প্রায় শেষ।এ সুযোগে সবকটা এয়ারলাইন্সই টিকেটের দাম বাড়িয়েছে তাদের খেয়াল খুশিমতো। এদের নিয়ন্ত্রণ করা ও দেখভাল করার কেউ নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএস বাংলার সহকারি ম্যানেজার (মার্কেটিং এন্ড সেল্স) মো: শহীদুল ইসলাম জানন, কম ভাড়ার টিকেট অনেক আগেই বিক্রি হয়ে যায়। ফলে শেষ মুহূর্তে এসে কেউ টিকেট কাটতে গেলে সর্বোচ্চ ভাড়ার টিকেটই মিলবে।

শহীদুল ইসলাম জানান, ইউএস বাংলায় টিকেট কাটলে একটা টিকেটের মেয়াদ এক মাস, ছয় মাস ও একবছর মেয়াদ থাকে এ সময়ের মধ্যে যে কেউ তার বিক্রিত টিকেটের তারিখ আগে বা পরে পরিবর্তন করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এয়ার এশিয়া, মালিন্দো বা মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এই সিস্টেম নেই। যে তারিখের টিকেট সে তারিখেই ফ্লাইট করতে হবে। এ ছাড়া কেউ যদি ফ্লাইট মিস করে পুনরায় সে টিকেটে যাতায়াত করতে পারবেনা। কিন্তু এ সুযোগটা ইউএস বাংলায় রয়েছে। ফ্লাইট মিস করলে পরবর্তী ফ্লাইটে যাত্রী যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের কুয়ালালামপুর রুটের টিকেট শেষ হয়ে গেছে। ঈদের আগে কোন টিকেটই নাই। সব শেষ। একই অবস্থা অন্যান্য এয়ার লাইন্সের। তবে এ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার ইমরুল কায়েছ।

তিনি বলেছেন- এয়ারলাইন্সের সিট এমনিতেই সীমিত। সাধারণত তিন-চার মাস আগে থেকেই সব ঠিক করে এবং অনেকেই টিকেট কেটেও রাখে। অনলাইনে আমরা সব টিকেট উন্মুক্ত করেছি। এটা আটকে রাখার কিংবা ব্লক করে রাখার সুযোগ নেই। বিমান আগের তুলনায় এখন আরও অনেক বেশি স্বচ্ছ।

পূর্বপশ্চিমবিডি/পিএস

মালয়েশিয়া,আকাশপথ,প্রবাসী
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত