• রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭
  • ||

কিছুই মনে পড়ছে না সুশান্তের সাবেক প্রেমিকার

প্রকাশ:  ০৮ আগস্ট ২০২০, ১৪:০২
বিনোদন ডেস্ক

সাড়ে ৮ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর শুক্রবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির দপ্তর থেকে ছাড়া পান রিয়া চক্রবর্তী। আগেই তাকে সম্পত্তি এবং দুটি ফ্ল্যাটের কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু অভিনেত্রী সে সব দলিল এবং তথ্য ছাড়াই শুক্রবার সকালে ইডির দপ্তরে হাজির হন।

ইডির তরফ থেকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে রিয়া জানান, ফ্ল্যাটের কাগজপত্র কোথায় রেখেছেন ভুলে গেছেন।

সংবাদ প্রতিদিন জানায়, রিয়াকে যে সমস্ত প্রশ্ন করা হয়েছে সবগুলোতেই প্রায় একই উত্তর দেন, “ঠিক মনে করতে পারছি না, কী হয়েছিল।” শুক্রবার রিয়ার পাশাপাশি জেরা করা হয় তার ভাই সৌহিক চক্রবর্তী, সুশান্ত সিং রাজপুতের সাবেক বিজনেস ম্যানেজার শ্রুতি মোদি এবং রিয়ার অ্যাকাউন্টেন্ট রীতেশ সাহকে। প্রত্যেকের জিজ্ঞাসাবাদই আলাদা আলাদা ঘরে হয়েছে।

আগামী সপ্তাহে ফের রিয়াকে তলব করতে পারে ইডি। পাশাপাশি অভিনেতার বন্ধু সিদ্ধার্থ পৈঠানিকেও রবিবার ডেকে পাঠিয়েছে।

এর আগে জিজ্ঞাসাবাদ পেছনোর আবেদন জানিয়েও ছাড় পাননি রিয়া চক্রবর্তী। দিন কয়েক লুকিয়ে থাকার পর অবশেষে শুক্রবার জনসমক্ষে আসতে হয়েছে সুশান্তর সাবেক প্রেমিকাকে। কারণ রিয়া যদি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দপ্তরে হাজির না হন, তাহলে তার বিরুদ্ধে হাজিরা দিতে অসমর্থ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানানো হয়েছিল।

এ দিকে যখন ইডির দপ্তরে একের পর এক কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছিল রিয়াকে, তার মাঝেই একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করছিল ভারতীয় মিডিয়া।

প্রশ্ন উঠেছে- মাসে ১৪ লাখ রুপি আয় হওয়া সত্ত্বেও মুম্বাইয়ের অভিজাত এলাকায় কীভাবে দুটি বিলাসবহুল সম্পত্তি রয়েছে রিয়া চক্রবর্তীর নামে? কারণ, সেখানে ফ্ল্যাট নিতে হলে মাসিক যে আয় থাকা দরকার, রিয়ার নিজস্ব অ্যাকাউন্ট বলছে তার আয় মোটেই ততটা নয়! উপরন্তু এত সম্পত্তি, টাকাপয়সা, অভিজাত জীবনযাপনই বা কী করে করতেন রিয়া?

মামলা হাতে নিয়েই রিয়া ও সুশান্তর সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নজরদারি চালিয়েছে ইডি। তাতেই দেখা গেছে, গতবছর রিয়ার অ্যাকাউন্টে ছিল ১০ লাখ রুপি। সেখান থেকে ১২ লাখ ও শেষ পর্যন্ত ১৪ লাখ হয়েছিল তার নগদ টাকার পরিমাণ। এই আয়ে কী করে মুম্বাইয়ের দুটি অভিজাত এলাকায় কোটি টাকার দুটি ফ্ল্যাট কিনলেন রিয়া ও তার পরিবার? জানা গেছে, মুম্বাইয়ের খারে ৮৫ লাখ রুপির একটি ফ্ল্যাট রয়েছে তার নামে।

শোনা যাচ্ছে, শেষ কয়েক মাসে নাকি রিয়াকে মারাত্মক ভয় পেতেন সুশান্ত। লাগামছাড়া খরচ কোথায় হচ্ছে, তা নিয়ে বন্ধু সিদ্ধার্থ পৈঠানিকে খোঁজ নিতে বললে রিয়া অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। গতবছর নভেম্বরে বিদেশে থাকা বোন রানির বাড়ি যেতে চাইলে সুশান্তকে জোর করে আটকে রাখেন রিয়া। জানুয়ারি মাসে সুশান্ত বাড়িতে ফোন করে বলেছিলেন, রিয়া তাকে মানসিক হাসপাতালে পাঠাতে চাইছে।

সুশান্তর মৃত্যুর পর তার ই-মেইলও নাকি ব্যবহার করেছেন রিয়া। সুশান্ত শেষপর্যন্ত কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন প্রথমে তা খুঁটিয়ে দেখেন। এর পর দেখেন কোথায় কী মেইল করেছেন, শেষে ই-মেইলের পাসওয়ার্ড বদলে দেন। এ ছাড়া প্রয়াতের ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথিও রিয়া ডিলিট করে দেন। মুছে ফেলেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মেইল।

আরও জানা গেছে, গত এক বছরে ভাই সৌহিকের সঙ্গে রিয়ার কথা হয়েছে ১০৬৯ বার। অন্যদিকে, গত এক বছরে সুশান্তর সঙ্গে কথা হয়েছে ১৪৫ বার। সুশান্তর হাউজ ম্যানেজার স্যামুয়েল মিরান্ডার সঙ্গে ২৮৭ বার। ৭৯১ বার কথা বলেছেন ম্যানেজার শ্রুতি মোদির সঙ্গে। বন্ধু সিদ্ধার্থ পৈঠানির সঙ্গে কথা হয়েছে ১০০ বার। পরিচারক দীপেশ সাওয়ান্তের সঙ্গে ৪১ বার এবং সুশান্তর বোনের সঙ্গে ১ বছরে মাত্র ৪ বার কথা হয়েছে। অন্যদিকে, মহেশ ভাটের সঙ্গে কথা হয় ১১ বার। অভিনেতা আদিত্য রয় কাপুরের সঙ্গে কথা হয় ২৩ বার। সুশান্তর বর্তমান ম্যানেজার উদয় সিং গৌরীর সঙ্গে কথা হয় রিয়ার ২২বার। এ সবের পাশাপাশি ড্রিম হোম রিয়েল এস্টেট কোম্পানির সঙ্গে ২৩ বার কথা হয়েছে।


পূর্বপশ্চিমবিডি/জেআর

রিয়া,সুশান্ত
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close