• রোববার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

মেসবাহ আহমেদ: আরাধনারত এক গজল গায়ক

প্রকাশ:  ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:১২ | আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:৪৫
হাসনাত কাদীর
মেসবাহ আহমেদ: আরাধনারত এক গজল গায়ক

তিনি সুরের মানুষ, তিনি ছন্দের মানুষ। আরাধনামগ্ন এক শিল্পী যিনি, তিনি বাংলাদেশের জনপ্রিয়তম গজলশিল্পী মেসবাহ আহমেদ। উপমহাদেশের প্রখ্যাত গজল ব্যক্তিত্ব জগজিৎ সিং ও দেশসেরা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতজ্ঞ ওস্তাদ নিয়াজ মুহাম্মদ চৌধুরীর এই শিষ্য দুই দশকের বেশি সময় ধরে গজলের সুরে মুগ্ধ করছেন দেশ-বিদেশের শ্রোতাদেরকে। পূর্বপশ্চিমবিডি.নিউজ থেকে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন হাসনাত কাদীর

কেমন আছেন আর কী নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

সুরে আছি, তালে আছি আর ভালো আছি। বরাবরের মতো গজল নিয়েই ব্যস্ত আছি। রেকর্ডিং, মঞ্চ আর টেলিভিশনে গজল শুনাচ্ছি শ্রোতাদেরকে।

আপনি সম্প্রতি একটি এ্যালবাম করছেন ইন্ডিয়াতে। এ্যালবামের নাম কী আর কবে আসছে?

হ্যা, নিজের সুর ও কথায় আটটা গজলের কাজ চলছে ওখানে। এ্যালবামের নামতা এখনও ঠিক করা হয়নি। কাজগুলো যেন ভাল হয় সেজন্যই একটু সময় দিতে হচ্ছে। বেশ ভাল হচ্ছে গজলগুলো। আশা করি শ্রোতাদের ভালোলাগবে।

বাংলাদেশে গজল চর্চা ও এর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি আশাবাদী। প্রচুর ছেলে-মেয়ে এখন গজলের চর্চা করছে। তাছাড়া আমরা যারা ঠিক এই মুহূর্তে গান করছি তাঁদের অনেককেই দেশ-বিদেশের শ্রোতারা ভালোবেসে গ্রহণ করেছেন। আমার কথা বলতে পারি। দেশের শ্রোতাদের পাশাপাশি দেশের বাইরের শ্রোতাদেরকেও গান শোনাতে ছুটতে হচ্ছে আমাকে। ভারতের একাধিক টেলিভিশনে গজল পরিবেশনের জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমি গেয়েছি। ওখানের শ্রোতারা ভালোবেসে আমার গজল গ্রহণ করেছেন। এখন নিয়মিত তাঁরা আমাকে চাচ্ছেন। ভারতের বাইরে ইউরোপ-অ্যামেরিকাতেও গজল শোনাতে ছুটতে হচ্ছে আমাকে। তাই গজলে আমাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল বলেই মনে করি।

বিশ্ব সঙ্গীতে বাংলাদেশের গজল বিশেষ অবস্থান তৈরি করতে পারবে বলে মনে করেন?

অবশ্যই পারবে। আমাদের এখন এমন দু’-একজনকে দরকার যারা গজলে দেশের আইডল হবে। যারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে বিশ্ব মঞ্চে। যদি সেটা তৈরি হয় দেখবেন তাঁদের পথ ধরে একঝাক মেধাবি গজল গায়কের মিছিল বের হবে। তাঁরা নিজস্ব আলোয় বিশ্ব আসরে বাংলাদেশকে গজলের জন্য অনন্য করে তোলার সক্ষমতা রাখেন।

আপনি বললেন, অনেক তরুণ গজলের চর্চা চালাচ্ছেন। তাঁদের ব্যাপারে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

তাঁদের অনেকেই বেশ মেধাবী। অনেকেই নিষ্ঠার সাথে সাধনা করছেন। তবে আমার মনে হয়েছে অনেকেরই তাড়াহুড়া একটু বেশি। আমি বলবো একটু সময় নিতে। সময় নিয়ে উচ্চারণ ও ভাষার দিকে নজর দিতে। নিজেকে আরও দক্ষ করে তুলতে। তারপর যদি মঞ্চে ওঠেন তাহলে আপন আলোয় পৃথিবী রাঙানোর মতো মেধাবী অনেকেই আমার আশেপাশে আছেন।

একটু অন্য প্রসঙ্গে আসি, আপনি তো একজন কৃষক বা জাহাজের নাবিকও হতে পারতেন। তা না হয়ে আপনাকে গজল গায়কই কেন হতে হল?

হা হা হা। আমি কি কিছু হতে পারি? অন্তত একজন শিল্পী হওয়া কি সামান্য মানুষের ইচ্ছাধীন বিষয়? মানুষ হয়ত পরিকল্পনা করে ইঞ্জিনিয়ার হতে পারে। ডাক্তার হতে পারে। কিন্তু চাইলেই কেউ শিল্পী হতে পারে না। ‘আর্টিস্ট হোতা নেহি- পয়দা হোতি হে’। শিল্পী সত্তা আসলে সৃষ্টিকর্তার স্বর্গীয় উপহার। তিনি যাকে চান, তাকেই শিল্পী বানান। আমি জানি না আমি আসলেই শিল্পী কি না। তবে যদি হয়ে থাকি, সেটাকে সৃষ্টিকর্তার প্রেমপূর্ণ উপহার বলেই মনে করি।

ভাল বলেছেন। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার এই উপহারে আপনার বা আমাদের লাভটা কী? মানে, মনে করেন যে, একজন কৃষক ফসল উৎপাদন করে অবদান রাখেন। একজন পোশাক শ্রমিক আমাদের বস্ত্র তৈরি করেন। কিন্তু একজন শিল্পী হিসেবে আপনি কোন অবদান রাখেন বা রাখতে পারেন বলে মনে করেন?

অবশ্যই শিল্পীরা খুব গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। কৃষক আমাদের পেটের খাবার সরবরাহ করেন। শিল্পীরা দেন মনের খাবার। ডাক্তার মানুষের দেহের চিকিৎসা করেন। আর শিল্পী হলেন হৃদয়ের চিকিৎসক। এক অর্থে তাই শিল্পী হলেন একজন কৃষক এবং চিকিৎসক দুই-ই।

গানকে পূর্ণকালীন আরাধনা হিসেবে নেওয়ার ব্যাপারে আপনার বাবা খুব অনিশ্চয়তাবোধে ভুগতেন বলে শুনেছি। আপনার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর এই দুশ্চিন্তা আপনার সুর সাধনার পথকে কখনো বন্ধুর করে তুলেছিল?

বাবা-মায়ের আমি একমাত্র সন্তান। তো, গজলের মতো একটা ‘না-বাজারী’ ব্যাপারকে আমি গলার মালা করতে চাইলে বাবা আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হবেন এটাই স্বাভাবিক। হয়ত আমাকে গজল-প্রেম জলাঞ্জলি দিয়ে একজন 'অর্থকরী' মানুষে হিসেবেই জীবন কাটাতে হত, যদি না আমার মা পাশে থাকতেন। আমার সৌভাগ্য যে, আমি একজন অনন্যা মায়ের ছেলে হিসেবে পৃথিবীতে এসেছি। তিনি সাহিত্যের ছাত্রী। জীবন সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি নান্দনিক। আমার মা আমার সুর-প্রেমের পথ কখনও বন্ধুর হতে দেননি। আমার অতুলনীয়া মায়ের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আমি সৃষ্টিকর্তার প্রতিও কৃতজ্ঞ। কারণ, তিনি চেয়েছেন বলেই আমি এমন একজন মা পেয়েছি। আগেই বলেছি, সৃষ্টিকর্তার ভালোবাসাতেই আমাদের জীবন, কর্ম ও ভূমিকা নির্ধারিত হয়।

রবিবার আপনি একটি টেলিভিশনে সরাসরি গজল শোনাবেন। আপনার জন্য শুভ কামনা।

জি। সোহাগ মাসুদের প্রযোজনায় অনুষ্ঠানটির নাম ‘একুশের সকাল’। ইটিভির অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার হবে রবিবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ১০টায়। অনুষ্ঠানে গজল ছাড়াও ব্যক্তিগত আলাপচারিতা হবে। দর্শক-শ্রোতারা সরাসরি ফোন কলে যুক্ত হতে পারবেন আমার সাথে।

দীর্ঘ সময় দিলেন। আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার জীবন সুরেলা থাকুক।

আপনাকে এবং পূর্বপশ্চিমকেও আন্তরিক ধন্যবাদ।

পিবিডি/ হাসনাত

মেসবাহ আহমেদ,হাসনাত কাদীর,সাক্ষাতকার,গজলিয়া মেসবাহ,গজল
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত