• মঙ্গলবার, ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮
  • ||

এই জয়ের কান্না যেন সমাজের সকল নারীর প্রত্যাশিত সুখকান্না 

প্রকাশ:  ০৯ জুলাই ২০২১, ১৬:৫২ | আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২১, ১৭:১৯
সাদিয়া রসনি সূচনা
সাদিয়া রসনি সূচনা

অভিনেত্রী বাঁধনের প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্বে। তার পরিধেয় শাড়ি, গয়নাটি গত দু'দিনে যেন হাজারো নারীর বহুকাঙ্ক্ষিত হয়ে উঠেছে। পুরো ফেসবুকের হোমপেজ জুড়ে কয়েক'শ বার কান উৎসবের নানা ভিডিও ঘুরে ফিরে আসছে। এই ভিডিওগুলো না দেখে থাকাটাই কিছুটা কঠিন বটে। একে-তো এই অর্জন বাংলাদেশের জন্য প্রথম, দুইয়ে আছে এক সংগ্রামী নারীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। সব মিলিয়ে ভিডিওগুলো আমাদের সবাইকেই কমবেশি টানছে।

দু'দিনের ব্যবধানে অসংখ্যবার কানের মঞ্চে বাঁধন আপুর কান্নার ভিডিওটা দেখেছি, এই জয়ের কান্না যেন সমাজের সকল নারীর প্রত্যাশিত সুখকান্না হয়ে উঠছে মনের এক কোণে। সেটা প্রকাশিত বা অপ্রকাশিত যাই হোক না কেন! এই সুপ্ত বাসনা মনের কোণে ভর করা ভালো, এই বাসনায় মনে সাহস আনাটা দৃঢ়তা। ঘুরে দাঁড়াতে অনেকেই চায়, হয়তো পারেন না দৃঢ়তার অভাবে। বাঁধন আপুকে দেখে যদি দৃঢ়তা খানিক মজবুত হয় তবে হোক না! প্রচন্ড শক্তিতে হাজারো বাঁধনের সৃষ্টি হয়তো হবে না। বাঁধন একজনই, তবুও তার প্রতিচ্ছবিতে কিছু শক্ত মানুষ তো তৈরী হবে, এই বা কম কীসে!

বাঁধন আপুর কান্নার সাথে সাথে চোখে বারবার পড়েছে আরো একটি দৃশ্য। দর্শকের মাঝে দাঁড়ানো বাঁধন যখন অশ্রুসিক্ত, সেই সময়ে তার পাশে একজন তাকে স্বাভাবিক হতে কাঁধে হাত রাখছে। আবার বাঁধন যখন স্টেজ থেকে নামছেন তখন কী সুন্দর করে একজন তাকে হাত বাড়িয়ে সহযোগিতা করছেন। ব্যক্তিজীবন বা কর্মক্ষেত্র সবখানেই সহযোগিতার প্রয়োজন। ছোট্ট ছোট্ট সহযোগিতাই সুন্দর সৃষ্টিতে প্রণোদনা জোগায়। আর ঠিক এমনই সাধারন কিন্তু হৃদ্যতাপূর্ণ সহযোগিতার মানসিকতাটা যেন সবসময়, সকল কাজেই প্রয়োজন। যা আমরা কালেভদ্রে পেয়ে থাকি কিংবা বিশাল জীবনের কখনোই আমাদের পাওয়া হয়েও উঠে না। অথচ এই জিনিসটা একজন মানুষকে তার জীবনে কতটা এগিয়ে দেয় তা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।

বাঁধনের শাড়ি, ব্লাউজ, গয়না কোথায় পাবেন, কীভাবে পাবেন সেসবের খোঁজ তো অনেক করলেন! এবারে পরিচালক সাদ এবং তাদের পুরো টিমের মাঝে যে হৃদ্যতা ও মানসিকভাবে সহযোগিতা করার যে স্পৃহা সেটা কোথায় পাবেন এবার তার খোঁজও করুন। মনের সৌন্দর্য আর ব্যক্তিত্বের ধার না থাকলে কেবল পোশাকে আপনাকে মানাবে না, একজন ক্ষুদ্র মানুষ হিসেবে এটুকু বলতে পারি।

পুরো টিম লাল গালিচায় হাঁটতে পারবে না বলে তারা লাল গালিচায় হাঁটার সুযোগকে এক কথায় না করে দিয়েছেন। আমাদের দেশীয় ভাবধারায় এই বিরল ত্যাগ সহজে কী কেউ করে? করেছে আগে? শুনতে খারাপ লাগলেও বলা যায় এই সুযোগও তাদের কাছে আসেনি নেহায়েত যোগ্যতার অভাবেই। সাদের টিমের কাছে বিষয়টা খুবই সাধারন একটা "না" হয়ে আছে। এটি নিয়ে তাদের মাঝে আফসোসটা দেখা যায়নি কোথাওই।

রেহানা মরিয়ম নূরের পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য কান উৎসবের অর্জনের সূচনাই কেবল করেননি। পরিচালক, প্রযোজক, গ্রাফিক্স, অডিও টিম থেকে শুরু করে তাদের সকল কলাকুশলী যেন আমাদের সকল নির্মাতাদের জন্যও অনেক কিছু শেখার সুযোগ করে দিয়েছে।

অভিনন্দন। অভিনন্দন টিম রেহানা মরিয়ম নূরকে।

(লেখকের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

রেহানা মরিয়ম নূর,সাদিয়া রসনি সূচনা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close