• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৪ আশ্বিন ১৪২৭
  • ||

যোগ প্রশিক্ষকের সঙ্গে ‘সম্পর্ক’, বাড়ি থেকে বের করে দেন স্ত্রী

প্রকাশ:  ১৫ আগস্ট ২০২০, ১৭:৩৮
বিনোদন ডেস্ক

বলিউডে এসেছিলেন নায়ক হতে। কিন্তু হয়ে গেলেন সহ-নায়ক। নব্বইয়ের দশকে পার্শ্বচরিত্রাভিনেতাদের কথা বললে তার নাম আসবে প্রথম সারিতে। তিনি দীপক তিজোরী।

অজয় দেবগণ, অক্ষয় কুমার, সুনীল শেট্টি যখন ইন্ডাস্ট্রিতে পায়ের নীচে জমি পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছেন, দীপক ততদিনে প্রতিষ্ঠিত তারকা। তার পরে ইন্ডাস্ট্রিতে এসে অনেকেই নায়ক হয়ে গিয়েছেন। কিন্তু দীপক রয়ে গিয়েছেন সহ-নায়ক হয়েই।

‘যো জিতা ওহি সিকন্দর’ ছবির জন্য অডিশন দিয়েছিলেন অক্ষয় কুমারও। কিন্তু তিনি খারিজ হয়ে যান। পরিবর্তে প্রযোজক-পরিচালকের পছন্দ হয় দীপক তিজোরীকে।

‘সড়ক’, ‘আশিকি’, ‘খিলাড়ি’ ছবিতে দীপকের অভিনয় দাগ কেটে যায় সবার মনে। তবে বলিউডে পরিচিতি পাওয়ার আগে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়েছে দীপককে। তার মাঝেই বাঁচিয়ে রেখেছিলেন অভিনেতা হওয়ার স্বপ্নকে।

দীপক পড়তেন মুম্বাইয়ের নারসি মঞ্জি কলেজে। কলেজে পড়তে পড়তেই দীপক যোগ দেন একটি নাটকের দলে। তখন সে দলের সদস্য ছিলেন আমির খান, আশুতোষ গোয়ারিকর, পরেশ রাওয়ালরা।

কলেজের দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরে দীপক একটি হোটেলে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন কিছুদিন। কর্মরত ছিলেন একটি চলচ্চিত্র পত্রিকাতেও। টানা তিন বছর ধরে ঘুরেছেন প্রযোজকদের দরজায় দরজায়। একটা সুযোগের আশায়।

প্রথম অভিনয় টেলিভিশনে। কয়েকটি ধারাবাহিকে কাজ করার পরে ঠিক করলেন বন্ধুদের মতো তিনিও ছবিতে অভিনয় করবেন। বড় পর্দায় প্রথম অভিনয় ১৯৮৮ সালে, ‘তেরা নাম মেরা নাম’ ছবিতে। এরপর ‘ম্যায়ঁ তেরা দুশমন’, ‘পর্বত কে উস পার’, ‘ক্রোধ’সহ বেশ কিছু ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। কিন্তু সে সবই নামমাত্র ভূমিকায়।

১৯৯০ সালে ‘আশিকি’ ছবিতে প্রথম নজরে পড়েন দীপক। সেই প্রথম ছবির ক্রেডিট টাইটেলে তার নাম দেখা যায়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে উল্লেখযোগ্য বাকি ছবি হল ‘আফসানা প্যায়ার কা’, ‘বেটা’, ‘পহেলা নেশা’, ‘আইনা’, ‘দ্য জেন্টলম্যান’, ‘প্রেম’, ‘রাজা’, ‘বাদশা’ এবং ‘গুলাম’।

বহিরাগত হয়েও বলিউডে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন দীপক তিজোরি। তবে তার পরিচিতি বরাবর রয়ে গিয়েছে ‘সেকেন্ড লিড’ হয়েই। কিন্তু নিজের সেরা সময়ে এমনও দিন গিয়েছে পরিচিতি ও জনপ্রিয়তায় তিনি টেক্কা দিয়েছেন নায়কদের।

বন্ধু আশুতোষ গোয়ারিকর নিজের প্রথম ছবি ‘পহেলা নেশা’য় নায়কের ভূমিকায় নিয়েছিলেন দীপককে। তার বিপরীতে নায়িকা ছিলেন পূজা ভাট এবং রবিনা। এছাড়া ছবিতে বেশ কয়েকজন তারকাকে দেখা গিয়েছিল স্পেশাল অ্যাপিয়ারেন্সে। তাদের মধ্যে ছিলেন শাহরুখ এবং আমির খানও।

এখনও অবধি শুধু এই ছবিতেই একসঙ্গে অভিনয় করেছেন শাহরুখ-আমির। কিন্তু বক্স অফিসে সুপারফ্লপ ছিল ‘পহেলা নেশা’। এই ছবির সঙ্গে সঙ্গে দীপক তিজোরির নায়ক হওয়ার স্বপ্ন বরাবরের জন্য শেষ হয়ে যায়।

অন্যদিকে, পার্শ্ব চরিত্রাভিনেতার ক্ষেত্রেও বলিউডে প্রতিযোগিতা বাড়ছিল। অক্ষয় কুমার, অজয় দেবগণ বা সুনীল শেট্টির মতো অভিনেতারা স্বচ্ছন্দে মাল্টিস্টারার ছবিতে অভিনয়ে রাজি হয়ে যেতেন। ফলে এতদিন দীপকের কাছে যে সুযোগ আসত, সেগুলো চলে যেতে লাগল এই তিন জনের কাছে।

এই পরিস্থিতিতে হাতের কাছে যে সুযোগ পেতেন সেটাই নিতে বাধ্য হতেন দীপক। ‘সন্তান’ ছবিতে তিনি অভিনয় করেন খলনায়কের ভূমিকায়। কিন্তু সেই ছবিও ব্যর্থ হয় বক্স অফিসে। ফলে নায়ক এবং খলনায়ক, দুই ধরনের চরিত্রই দূরে সরে গেল দীপকের কাছ থেকে।

একটানা পার্শ্বনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন দীপক। ঠিক করলেন, এবার তিনি পরিচালনা করবেন। ২০০৩’তে মুক্তি পেল তার পরিচালনায় ‘উপস’।

ছবির বিষয় ছিল অ্যাডাল্ট কমেডি। সেন্সর বোর্ডে বহু জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল ছবিটিকে। এই ছবির চিত্রনাট্যকার, পরিচালক এবং প্রযোজক, সবই ছিলেন দীপক। কিন্তু ছবিটি ফ্লপ করায় আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েন তিনি।

আর্থিক সঙ্গতি ফেরাতে দীপক ‘বিগ বস’র মতো টেলিভিশন শো-তেও অংশ নেন। এরপর আরও কিছু ছবি তিনি পরিচালনা করেন। কিন্তু তার পরিচালিত কোনও ছবি-ই সফল হয়নি।

ক্যারিয়ারের পাশাপাশি এ সময়ে ঝড় উঠেছিল তার ব্যক্তিগত জীবনেও। নিজের যোগ প্রশিক্ষকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন দীপক। সে কথা জানতে পেরে ডিভোর্সের আবেদন করেন দীপকের স্ত্রী শিবানী। পেশায় ফ্যাশন ডিজাইনার শিবানী, পরিচালক কবীর সদানন্দ এবং গায়িকা কুনিকা পালের বোন হন।

গোরেগাঁওতে দীপক যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, সেটি ছিল তার স্ত্রীর নামে। দু’জনের মধ্যে তিক্ততা বাড়তে থাকায় দীপককে ফ্ল্যাট থেকে চলে যেতে বলেন শিবানী। কিছুদিন আত্মীয় ও বন্ধু-বান্ধবদের আশ্রয়ে থাকার পরে দীপক বাধ্য হন মুম্বাইয়েই পেয়িং গেস্ট হয়ে দিন কাটাতে।

এক সাক্ষাৎকারেই তিনি জানিয়েছেন, পেয়িং গেস্ট হয়ে অন্য লোকের সঙ্গে একই ঘরে থেকেছেন তিনি।

তবে অন্য একটি সূত্র থেকে জানা যায়, যে আবাসনে তারা থাকতেন, সেই আবাসন কর্তৃপক্ষ নানা কারণে তাদের আচরণে ক্ষুব্ধ ছিলেন। অভিযোগ, তিজোরী পরিবার ঠিক সময়ে মেনটেন্যান্স ফি দিতেন না। শেষ অবধি আইনি লড়াইয়ে ফ্ল্যাটে থাকার অধিকার ফিরে পান দীপক ও তার পরিবার।

এই কঠিন সময়েও হার মানতে নারাজ দীপক। আগেও বহু লড়াই করেছেন। আবার তিনি বিনোদেনর মূলস্রোতে ফিরে আসতে চান পরিচালক হয়ে। সম্প্রতি তাকে দেখা গিয়েছে ওয়েব সিরিজেও। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

স্ত্রী,বাড়ি,যোগ প্রশিক্ষক,সম্পর্ক,বলিউড,অভিনেতা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close