• শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২০, ১৯ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

ব্যাভিচারের অভিযোগ, অকালেই থামে পর্দার রজনীর প্রতিবাদী কণ্ঠ

প্রকাশ:  ০৫ জুন ২০২০, ১৬:২২
বিনোদন ডেস্ক

অভিনেতার নাম যদি অভিনীত চরিত্রের আড়ালে চলে যায়, সেখানেই অভিনেতার সার্থকতা। সে রকমই হয়েছিল আশির দশকে। দূরদর্শনে ‘রজনী’ সিরিয়াল এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, দর্শক ভুলেই গিয়েছিলেন পর্দায় অভিনয় করছেন প্রিয়া টেন্ডুলকার।

শুধু অভিনয়ই নয়। চূড়ান্ত জনপ্রিয় হয়েছিল রজনীর চরিত্রে প্রিয়ার সাজ। শাড়ির সঙ্গে কপালে লম্বাটে বিন্দি। পরে সেই বিন্দির নামই হয়ে যায় ‘রজনী টিপ’।

পদ্মবিভূষণে সম্মানিত মরাঠি নাট্যব্যক্তিত্ব বিজয় তেন্ডুলকরের মেয়ে প্রিয়ার জন্ম ১৯৫৪ সালের ১৯ অক্টোবর। ছোট থেকেই শখ ছিল অভিনয়ের।

১৫ বছর বয়সে প্রথমে অভিনয় মঞ্চে। কল্পনা লাজমির সঙ্গে কিশোরী প্রিয়া অভিনয় করেছিলেন গিরীশ কারনাডের ‘হয়বদন’ নাটকে। তার কিছু পরেই প্রিয়াকে দেখা গিয়েছিল একটি সেলাই মেশিনের বিজ্ঞাপনে।

পরবর্তী জীবনে অবশ্য সরাসরি অভিনয়ে পা রাখেননি প্রিয়া। বরং বিভিন্ন ধরনের পেশায় ছিলেন তিনি। পাঁচতারা হোটেলের রিসেপশনিস্ট, বিমানসেবিকা, আংশিক সময়ের মডেল থেকে সংবাপাঠিকা। নানা রকমের পেশায় দেখা গিয়েছে প্রিয়াকে।

অভিনয়ে ফিরে আসেন ১৯৭৪’তে। প্রথম ছবি শ্যাম বেনেগালের পরিচালনায় ‘অঙ্কুর’। বিপরীতে নায়ক ছিলেন অনন্ত নাগ। বেশ কিছু মরাঠি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন প্রিয়া। অনন্ত নাগের পাশাপাশি অশোক সরাফ, রবীন্দ্র মহাজানি, মহেশ কোঠারের সঙ্গে জনপ্রিয় হয়েছিল প্রিয়ার জুটি।

অনন্ত নাগের সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রিয়া অভিনয় করেছিলেন কন্নড় ছবি ‘মিনচিনা ওটা’য়। সে সময় ইন্ডাস্ট্রিতে অনন্ত-প্রিয়ার সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জনও শোনা যেত।

হিন্দি ছবিতেও অভিনয় করেছেন প্রিয়া। তার অভিনীত হিন্দি ছবিগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ‘নসুর’, ‘রাম ও নিশান’, ‘বেসহারা’, ‘মোহরা’, ত্রিমূর্তি’, ‘গুপ্ত’, ‘অউর প্যায়ার হো গ্যয়া’, ‘ রাজা কো রানি সে প্যায়ার হো গ্যয়া’।

তবে বলিউডে কোনওদিন নায়িকা হতে পারেননি প্রিয়া। তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল চরিত্রাভিনেত্রী হয়েই। বরং, ছোটপর্দায় তার কাজ অনেক বেশি প্রভাব ফেলেছিল দর্শকমনে।

অভিনেত্রীর পাশাপাশি প্রিয়া একজন সক্রিয় সমাজকর্মীও। ‘রজনী’তে তুলে ধরা হয়েছিল তার প্রতিবাদী সত্তাকেই। গৃহবধূ রজনী গর্জে উঠত যে কোনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে।

প্রতিবাদী প্রিয়াকে পাওয়া গিয়েছিল দূরদর্শনের টক শোতেও। পরে টক শো ‘স্বয়ংসিদ্ধা’তেও সঞ্চালনা করেন প্রিয়া। কিন্তু জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিল বাসু চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত ‘রজনী’ই।

তুলনামূলক হালকা চরিত্রে প্রিয়াকে দেখা গিয়েছিল ‘হম পাঁচ’ সিরিয়ালে। সেখানে তিনি অভিনয় করেন অশোক সরাফের প্রয়াত স্ত্রীর ভূমিকায়। ফটোফ্রেমেই সীমাবদ্ধ ছিল প্রিয়ার অভিনয়। কিন্তু সিরিয়ালের বাকি চরিত্রগুলোর মতো প্রিয়ার চরিত্রও দর্শকদের পছন্দের তালিকার উপরের দিকেই ছিল।

১৯৮৮ সালে প্রিয়া বিয়ে করেন করণ রাজদানকে। করণ ছিলেন ‘রজনী’র ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর। তিনি আর প্রিয়া ‘কিসসে মিয়াঁ বিবি কে’ সিরিয়ালেও অভিনয় করেছিলেন। সেখানে তাদের ভূমিকা ছিল ‘ম্যারেজ কাউন্সেলরের’।

কিন্তু তাদের নিজেদের দাম্পত্যই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯৯৫ সালে ডিভোর্স হয়ে যায় দু’জনের। একে অন্যের বিরুদ্ধে ব্যাভিচারের অভিযোগ এনেছিলেন তারা।

দীর্ঘদিন ধরেই ব্রেস্ট ক্যানসারে ভুগছিলেন প্রিয়া। অসুস্থতা নিয়েই চালিয়ে যাচ্ছিলেন অভিনয়। হার মানলেন ২০০২ সালে। সে বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর মুম্বইয়ের প্রভাদেবীতে নিজের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন পর্দার রজনী, বাস্তবের প্রতিবাদী প্রিয়া। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

ব্যাভিচার,অভিযোগ,পর্দা,রজনী,প্রতিবাদী কণ্ঠ,প্রিয়া টেন্ডুলকার
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close