• বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

শ্রীলেখা-পরিচালক কাণ্ডে উত্তাল নেটদুনিয়া

প্রকাশ:  ০৫ জুন ২০২০, ০৩:৫০
বিনোদন ডেস্ক

দুই বছর বাদে মুক্তি পাওয়া রেনবোজেলি’ ছবি নিয়ে বিতর্ক! সৌকর্য ঘোষালের এই ছবি যে ইন্ডাস্ট্রিতে বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছিল, তা বলাই যায়। বর্তমানে নেটফ্লিক্সেও এই ছবি দেখতে পাবেন। আর দু’বছর আগের এই ছবি নিয়েই বর্তমানে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া। হঠাৎ এতদিন বাদে কেন? ঘটনার সূত্রপাত আসলে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রর একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। যাকে কিনা ‘রেনবোজেলি’ ছবিতে ‘পরি পিসি’র চরিত্রে দেখা গিয়েছিল। সেই বাকবিতণ্ডা নিয়েই পরিচালক সৌকর্য ঘোষাল আর অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের সঙ্গে কথা বলা হল সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল-এর তরফে। ফোনে ধরা হল ‘জোনাকি’ ছবি খ্যাত মুম্বাইয়ের পরিচালক আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্তকেও। কারণ অভিনেত্রীর পোস্টে তারও নাম উল্লেখ রয়েছে।

ঠিক কী হয়েছে? শ্রীলেখা মিত্রের বিস্ফোরক মন্তব্য, “ভাল শিল্পী হলেই ভাল মানুষ হওয়া যায় না!” অভিনেত্রীর কথায়, ‘পরি পিসি’ ‘রেনবোজেলি’র গল্পের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্র। যে চরিত্রের একটি নিজস্বতা রয়েছে। কিন্তু, নেটফ্লিক্সে থাকা এই ছবির টাইটেল ক্রেডিটে তার নাম দেখা যাচ্ছে না! কেন এমনটা হল? সেই প্রশ্ন তুলে শ্রীলেখার ফেসবুক পোস্টে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে পরিচালক সৌকর্যের নজরে আসতেই তিনিও পালটা কয়েকটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।

শ্রীলেখা মিত্রের কথায়, “প্রথম থেকে কী করিনি আমি এই ছবির জন্য! প্রোডিউসার থেকে শুরু করে যে বাড়িতে শুটিং হয়েছে, সেটা অবধি বিনামূল্যে খুঁজে দিতে সাহায্য করেছি। ছবি মুক্তি পাওয়ার আগে কিংবা পরে সৌকর্য সৌজন্যমূলকভাবে কোথাও এটা জানায়ওনি, বলেওনি! এমনকী নেটফ্লিক্সে ছবির নামের তালিকায় প্রথম তিনটির মধ্যে আমার নাম নেই!”

শ্রীলেখার অভিযোগের ভিত্তিতে সৌকর্য ঘোষালের মন্তব্য “নেটফ্লিক্সের তালিকায় নাম না থাকার বিষয়টি মোটেই ঠিক নয়। মোবাইলে দেখলে সেই ফরম্যাটে আসলে তালিকার প্রথম তিনটি নাম দেখায়। উনিও জানেন এটা।” এমনকী তার প্রমাণস্বরূপ স্ক্রিনশটও দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ফেসবুকের পোস্টের কমেন্ট সেকশনে।

অভিনেত্রী অভিযোগ তুলেছেন পারিশ্রমিক নিয়েও। জানিয়েছেন, ছবি মুক্তির দীর্ঘদিন বাদেও তিনি পুরো পারিশ্রমিক পাননি। শ্রীলেখার মন্তব্য, “ওরা নিজেরাই যখন ছবিটা প্রযোজনা করার সিদ্ধান্ত নেয়, আমি পারিশ্রমিকও কম দাবি করেছিলাম। উপরন্তু এও বলেছিলাম, এখন আমায় টাকা দিতে হবে না। রিলিজ হলে টাকা দিও। দীর্ঘ দিন অপেক্ষা করে প্রায় বছর দেড়েক বাদে যখন টাকা চেয়েছিলাম, তার উত্তরে সৌকর্য সোজাসুজি আমায় বলেছিল, ‘কীসের টাকা শ্রীলেখাদি? ছবি যদি ভাল ব্যবসা করে তাহলে আমি টাকা দেব..’ কিন্তু রিলিজ হয়ে সেটা ভাল ব্যবসা করে ফেলেছে, হাউজফুল শো’ও হয়েছ, আমি কিন্তু পুরো পারিশ্রমিক পাইনি। এমনকী ‘রেনবোজেলি’ মিউজিক রিলিজের অনুষ্ঠানও বিনামূল্যে করিয়ে দিয়েছিলাম তো সেই ছবির নামের তালিকায় আমার নাম কেন সেভাবে গুরুত্ব পেল না? প্রশ্ন করা হোক ওদের।”

প্রত্যুত্তরে সৌকর্যের মন্তব্য, “আমার কাছে পারিশ্রমিকের পুরো প্রমাণ রয়েছে। জিএসটি বিলও রয়েছে প্রমাণস্বরূপ। ওনার পোস্টের নিচে আমি কমেন্টও করেছিলাম যে জিএসটি বিল দেখাতে প্রস্তুত আমি। কেন তার প্রেক্ষিতে কোনও মন্তব্য করলেন না উনি! আমি তো এও লিখেছিলাম যে, নেটফ্লিক্সের যে ব্যক্তি ওনাকে জানিয়েছে তাঁর নাম নেওয়া হোক। কিন্তু উনি কোনও উত্তর দেননি।”

অন্যদিকে, শ্রীলেখা মিত্রকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, এতদিন বাদে কেন অভিযোগ তুললেন? তিনি বললেন, “অনেকদিন আগেই পরিচালক আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্ত, যার ছবিও নেটফ্লিক্সে রয়েছে এই মুহূর্তে (জোনাকি), এই বিষয়টি আমায় জানিয়েছিল। এমনকী আরও কয়েকজন এই বিষয়ে আমাকে বলেছে। কিন্তু আমি কখনোই কিছু বলিনি। তবে দিন কয়েক আগে ফেসবুক মেমরির একটি ছবিতে আমাকে ট্যাগ করায় আবার সেসব মনে পড়ে গেল…।”

অভিনেত্রীর কথা প্রসঙ্গে পরিচালক আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্তকেও ফোনে ধরা হল। তিনি বললেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব নিয়ে কী হয়েছে, তা ঘুণাক্ষরেও আমি জানি না। মুক্তির পর শ্রীলেখা আমায় ছবিটা দেখার অনুরোধ করেছিলেন। সেটা তাও ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের কথা। ও আমার খুব ভাল বন্ধুও। সেই জায়গা থেকেই আমি ওকে বলেছিলাম, নেটফ্লিক্সে তোমার নাম দেখাচ্ছে না। এতদিন বাদে এই প্রসঙ্গ উত্থাপন কেন? এসব ব্যাপারে জড়াতে আমি মোটেই প্রস্তুত নই। তবে একটা কথা বলতে চাই, যদি এরকম কিছু ঘটে থাকে, তাহলে পরিচালক আর অভিনেত্রীর নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে নেওয়াই ভাল।

অন্যদিকে, সৌকর্য ঘোষাল প্রশ্ন ছুঁড়েছেন আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্তের উদ্দেশে যে, “নেটফ্লিক্সে ‘জোনাকি’র ক্রেডিট টাইটেলে কেন জিম সার্ভের মতো অভিনেতার নাম নেই?” তার উত্তরে আদিত্য এটুকুই জানিয়েছেন যে, “‘জোনাকি’র মূল তিনটি চরিত্রের নাম পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে নেটফ্লিক্সে।”

এই প্রথমবার নয় অবশ্য! স্বীকৃতি কিংবা সৌজন্যতা স্বীকার নিয়ে এর আগেও টলিউডে বহুবার পরিচালক-অভিনেতার মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়েছে। কিন্তু বাংলা ছবি যেখানে হল পায় না, এমনকী জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালককেও হন্যে হয়ে টিকিট বিক্রি করতে হয়, বাংলা ইন্ডাস্ট্রির এমন দুর্দিনে আশা করা যায় এই তরজার ইতি ঘটবে অতি সত্ত্বর।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

শ্রীলেখা মিত্র,অভিনেত্রী,ফেসবুক পোস্ট,পরিচালক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close