• বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২০, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

শুটিংয়ে ফিরতে নারাজ টালিপাড়ার অনেক শিল্পীই

প্রকাশ:  ০২ জুন ২০২০, ১২:৩১
বিনোদন ডেস্ক

টালিউডে শুটিং শুরু হতে চলেছে। মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। কিন্তু শুটিং শুরুর আগেই বেশ কয়েকটি চমকপ্রদ ঘটনা ঘটতে চলেছে। পরিবারের সুরক্ষার কারণেই ধারাবাহিকে অভিনয় থেকে আপাতত সরে গেলেন অভিনেত্রী সৌমিলি ঘোষ বিশ্বাস। তিনি ‘জয় বাবা লোকনাথ’তে লোকনাথের মা ও গোয়ালিনীর চরিত্রে অভিনয় করছিলেন।

লকডাউনের পরে তিনি শুটিংয়ে ফেরার প্রস্তাব পেলেও, শুটিং করবেন না বলেই জানিয়ে দিয়েছেন চ্যানেল প্রতিনিধিকে।

সৌমিলি বলেন, আমি একটু ভিতু প্রকৃতির, চট করে ঝুঁকি নিতে পারছি না। আমার পরিবারে বয়স্ক মা-বাবা ও শ্বশুর-শাশুড়ি আছেন। আমার জন্য তাদের কিছু হয়ে গেলে, নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না।

অভিনেত্রী তিন-চার মাসের ব্যবধান নিয়ে শুটিংয়ে ফেরার কারণ দেখালেন। বলেন, করোনার সঙ্গে লড়াই করে বাঁচতে হলে, নিজেরও প্রস্তুতির প্রয়োজন। এরই সঙ্গে দেখতে চাই, কেমন সুরক্ষাবিধি মেনে টালিউডে শুটিং হচ্ছে।

যদিও অভিনয় ছেড়ে বাড়িতে বসে থাকায় আপত্তি অভিনেতা টোটা রায় চৌধুরীর, কিন্তু করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে তার দাবি পূরণ হলেই তিনি শুটিংয়ে ফিরবেন।

টোটার মতে, নিজের জন্য আলাদা মেকআপ-বক্স থাকবে। যে পোশাক পরে অভিনয় করব, শুটিং শেষে নিয়মিত পোশাক সাবান দিয়ে কাচা-ধোয়া ও শুকোনোর ব্যবস্থা করতে হবে।

টোটার দু’টি দাবি প্রোডাকশন হাউস মেনে নিলেই তিনি শুটিংয়ে ফেরার কথা ভাববেন। পূর্ব অভিজ্ঞতার স্মৃতি হাতড়ে টোটা বলেন, পোশাক ধোয়া-কাচার ব্যাপারটি দশ-পনেরো বছর আগে ছিল। এমনও হয়েছে, ভিজে শার্ট আয়রন করে পরতে হয়েছে। কিন্তু এখন এ সব মানা হয় না বলেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

লকডাউনের আগে ‘শ্রীময়ী’তে রোহিত সেনের চরিত্রে অভিনয় করলেও তার চরিত্রটি ধারাবাহিকে থাকছে কি-না, সন্দিহান অভিনেতা।

একই পথে হাঁটছেন অভিনেত্রী মনামী ঘোষও। ‘ইরাবতীর চুপকথা’য় তিনি ইরাবতী ও আরুষীর চরিত্রে অভিনয় করছেন। চ্যানেলের প্রতিনিধি তার সঙ্গে যোগাযাগ করেন নতুন প্রোমোর শুটিংয়ের জন্য। তিনিও শুটিংয়ে ফেরায় কয়েকটি অসুবিধার কথা প্রতিনিধিকে জানান।

মনামীর মতে, শুটিংয়ের কারণে আমার সঙ্গে যাদের (মেকআপ আর্টিস্ট, হেয়ারস্টাইলিস্ট, ড্রেসার) সরাসরি শারীরিক সংস্পর্শ হবে, তারা পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ট্রাভেল করলে দু’জনের জন্যই করোনাভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।

পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ট্রাভেলে ঘোরতর আপত্তি তুলে তিনি সকলকে গাড়িতে আসা-যাওয়ার ব্যবস্থা করার আর্জি জানান। বলেন, প্রোমো শুটিং করে দিয়েছি বাড়িতেই। কিন্তু নিজের সুরক্ষার জন্য সমস্যার সমাধানের পথ না বেরোলে শুটিংয়ে আমি ফিরব না।

সুরক্ষাবিধি তৈরি হওয়ার পর তা কতটা মানা হবে, সন্দেহ থাকায় আপাতত শুটিংয়ে ফিরছেন না অভিনেত্রী দেবযানী চট্টোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, সরকার থেকে দেওয়া গাইডলাইন ফলো করে শুটিং হচ্ছে কি-না, কে মনিটর করবে! কিছুদিন পর থেকেই আবার গতানুগতিক ধারাতেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। বাসে-অটোয় যেমন গাদাগাদি করে লোকজন চড়ছেন, এখানেও তেমনই হবে। পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নিয়ে এখনই শুটিং করা মানেই শিল্পীদের আগুনের মুখে ঝাঁপ দিতে বলা।

তিনি ‘ত্রিনয়নী’তে নেগেটিভ চরিত্র সংযুক্তার ভূমিকায় অভিনয় করলেও এখনও প্রোডাকশন হাউস থেকে কল পাননি। ফের শুটিংয়ের কল এলে তিনি নাকচ করার কারণটা জানালেন। বলেন, শুটিংয়ে কিছু হয়ে গেলে তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে? আমার সঙ্গে পরিবারটিও জলে ভেসে যাবে।

ভয়ের কারণেই ‘জয় বাবা লোকনাথ’র ছোট লোকনাথ অর্থাৎ অরণ্য রায়চৌধুরীকে শুটিংয়ে ছাড়তে রাজি নন তার পরিবার।

এতদিন শুটিং শুরুটাই ছিল চ্যালেঞ্জ। এখন নতুন নিয়মে শুটিং চালানো আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এতে বিনোদনের মূল সুর যে মনোরঞ্জন, তাতে আঘাত হানবে না তো!

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

শিল্পী,টালিপাড়া,শুটিং,করোনা,ভাইরাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close