• শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

চেয়েছি আমাকে নয়, আমার কাজকেই মানুষ চিনুক

প্রকাশ:  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:৫১ | আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:০২
আদনান আল রাজীব
আদনান আল রাজীব

এই সময়ের সফল ও নন্দিত বিজ্ঞাপন, নাট্যনির্মাতা এবং প্রযোজক আদনান আল রাজীব। তার হাতে নির্মিত হয়েছে বেশকিছু জনপ্রিয় ও দর্শনন্দিত বিজ্ঞাপন এবং টিভি নাটক। বর্তমানে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রানআউট ফিল্মসের কর্ণধার হিসেবে। তিনি পূর্বপশ্চিমকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সাংবাদিক লুৎফুল হক

পূর্বপশ্চিম: আপনি সৃষ্টিশীল কাজে আছেন। বিজ্ঞাপন, নাটক ইত্যাদির মাধ্যমে উপহারে দিচ্ছেন নতুন নতুন কাজ। এই সৃষ্টিশীল কাজগুলো নিয়ে আপনার অনুভূতি কী শেয়ার করবেন পাঠকদের সাথে?

আদনান আল রাজীব: আসলে সবার মধ্যেই সৃষ্টিশীল ব্যাপার থাকে। কেউ সেটার পরিচর্যা করতে পারে। সেটা দিয়ে ভালো কিছু করতে পারে। কেউ সেটা পারে না। এই জগতে কাজ করতে এসে অনেক কিছু আমি দেখেছি। কাজ করতে করতেই আমি শিখেছি। অনেক কিছু নিয়ে চিন্তা করেছি। জীবনে অনেকেই অনেক কিছু হতে চায়। কেউ হতে চায় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট বা সরকারী, বেসরকারী চাকুরে। আমার ক্ষেত্রে বলব, আমি সবসময় চেয়েছি আমার চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে। কিভাবে সেই চিন্তার প্রকাশ ঘটানো যায়, সেটা বোঝার জন্যই আমি এই অঙ্গনে কাজ করেছি।

পূর্বপশ্চিম: মিডিয়া ও শোবিজ অঙ্গনে আপনার অভিজ্ঞতার মূল্যায়নটা কিভাবে করবেন?

আদনান আল রাজীব: ২০০৩-এর শেষের দিক থেকে এই জগতে কাজ শুরু করেছি আমি। প্রায় দেড় যুগ হয়ে গেল। আমি খুবই সুখী এই জগতের মানুষ হতে পেরে। এই জগতে সফল হতে গেলে আসলে ডেডিকেশন, প্যাশন, কঠোর পরিশ্রম সবই লাগে। সাথে থাকতে হয় ভাগ্যের ছোঁয়া। এই জগতে আসার আগে যে এই জগৎ আমাকে খুব বেশি টেনেছে, এমন না। আসলে, এই অঙ্গনের মানুষদের সাথে কাজ করতে করতে এখন এটার সাথে একটা বন্ডিং তৈরি হয়ে গিয়েছে। তবে, শোবিজ অঙ্গনে আমি খুব খ্যাতিমান মানুষ হব, সেই লক্ষ্য আমার কখনো ছিল না। আমি আসলে নেপথ্যের মানুষ। আমি সবসময় চেয়েছি আমাকে নয়, আমার কাজকেই মানুষ চিনুক, ভালোবাসুক। পর্দার পিছনের মানুষ হিসেবে থাকতেই আমি আসলে পছন্দ করি।

পূর্বপশ্চিম: ভালো কাজ উপহার দেওয়ার পিছনে আপনার মূলমন্ত্র কী?

আদনান আল রাজীবঃ আসলে কাজ করার ক্ষেত্রে যদি ধৈর্য থাকে, সততা থাকে, তাহলে সাংস্কৃতিক, সাহিত্যিক বা যেকোনো কাজই হোক না কেন, সেক্ষেত্রে একজন মানুষ সফল হবেই। নতুন নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হতে পছন্দ করি আমি। দেখতে চাই জীবনের বৈচিত্রটাকে। আর নিজে প্রচুর ভিজ্যুয়াল দেখি। কাজের পিছনে থাকা কনসেপ্টটাকে বুঝতে চেষ্টা করি। সবসময় আপডেটেড থাকতে চাই নতুন কিছুর সাথে।

পূর্বপশ্চিম: কার কার কাজ আপনার ভালো লাগে বা অনুপ্রাণিত করে?

আদনান আল রাজীব: এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে অল্পকিছু নাম বলা সম্ভব না। তবে, পরিচালক ড্যারেন অ্যারনউইকের স্টোরি নির্মাণের স্টাইল, ভিজুয়াল কাজ খুবই ভালো লাগে। এছাড়া ভাল লাগে আমেরিকান পরিচালক উডি অ্যালেনের কাজও।

পূর্বপশ্চিম: এখন তো মিডিয়া প্রায় পুরোটাই ডিজিটালাইজড। বেশ পরিবর্তনশীল এই জগৎ। মিডিয়া ও শোবিজ নিয়ে আপনার ফোরকাস্ট কী?

আদনান আল রাজীব: এক্ষেত্রে আমাদের দেশের ট্রেন্ডটা কিন্তু বেশ পরিবর্তশীল। একসময় অনেকেই ডিজে হতে চাইত। হতে চাইত ফটোগ্রাফার। এখন অনেকেই চায় ডাইরেক্টর বা পরিচালক হতে। এটা বেশ একটা ট্রানজিশন পিরিয়ড। এখন ভিডিওগ্রাফির জিনিসগুলো অনেক বেশি হ্যান্ডি বা সহজপ্রাপ্য হয়ে গিয়েছে। অনেকেই সেই কারণে পরিচালক হচ্ছে। এখন প্রতিদ্বন্দ্বীতা ও চাপটা অনেক বেশি। চাপটা নিয়ে যারা এগিয়ে যেতে পারবে, সফল হবে তারাই।

আগামী ১০ বছরের মধ্যে ভিজুয়াল বা ভিডিওকেন্দ্রিক কাজই অনেক বেশি প্রাধান্য পাবে। অনেক ভালো ও শক্তিশালী কাজও আমরা পাব সামনে। অনেকেই বলে, সিনেমা হল উঠে যাবে। তবে আমার মনে হয় সিনেমা হল আরও বাড়বে। সেটা আরও আধুনিক ও বড় আকারে টিকে থাকবে।

আগে সবাই মিলে একসাথে বসে টিভি দেখত। এখন আসলে দেখার ব্যাপারটা অনেক বেশি পারসোনালাইজড হয়ে গিয়েছে। নিজেদের হাতে থাকা গেজেটেই এখন মানুষ কোনোকিছু দেখতে পছন্দ করে। ভবিষ্যতে এই ট্রেন্ডটা আরও বাড়বে।

পূর্বপশ্চিম: বর্তমানে টিভি নাটকের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। চটুল ও ভাড়ামোপূর্ণ নাটকের আধিক্য, অভিযোগ অনেকের। এই বিষয়টা কিভাবে দেখছেন?

আদনান আল রাজীব: আসলে কাজ অনেক ধরনেরই হচ্ছে। বিভিন্ন শ্রেণির দর্শকের কথা মাথায় রেখেই হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের কাজ। খারাপ কাজ বা ভালো কাজ থাকবেই। আবার এক ধরনের দর্শকের কাছে যে ধরনের কাজ ভালো লাগে, অন্য শ্রেণির দর্শকের কাছে সেটা ভালো নাও লাগতে পারে। আবার নাটক নির্মাণের ক্ষেত্রে ব্যবসার কথাটাও মাথায় রাখতে হয়। এক্ষেত্রে দর্শককেই বেছে নিতে হবে সে কোন ধরনের নাটক দেখবে।

পূর্বপশ্চিম: সম্প্রতি কি কি কাজ করেছেন বা করছেন?

আদনান আল রাজীব: সম্প্রতি ইস্পাহানী চা-এর টিভি বিজ্ঞাপনটা নির্মাণ করেছি। এটার সাড়া দর্শকদের কাছ থেকে বেশ ভালো ছিল। এছাড়াও করেছি লাইফবয়ের একটা বিজ্ঞাপন, যেখানে মডেল হিসেবে আছেন সাকিব আল হাসান। আর করছি ফ্রুটিকা, ম্যাগী ও আকাশ ডিটিএইচের বিজ্ঞাপনের কাজ। নাটক নির্মাণের পরিকল্পনা আপাতত নেই। তবে, ইচ্ছে রয়েছে সিনেমা তৈরি করার। ১-২ বছরের ভিতরই হয়তো মাঠে নামতে পারব এই কাজ নিয়ে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/ এআর

আদনান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close