• রোববার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

 ‘নাট্যক্ষ্যাপা’ এসএম সোলায়মান প্রয়াণের ১৮ বছর 

প্রকাশ:  ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৩৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের ব্যতিক্রমী প্রতিভা এসএম সোলায়মানের ১৮তম প্রয়াণ দিবস আজ (২২সেপ্টেম্বর)। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে এগিয়ে নিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি। ২০০১ সালের এই দিনে মাত্র ৪৮ বছর বয়সে ‘নাট্যক্ষ্যাপা’ এসএম সোলায়মান চিরবিদায় নেন। ঢাকার মঞ্চে এখনও তার নাটক ‘কোর্ট মার্শাল’, ‘গোলাপজান’, ‘আমিনা সুন্দরী’ এখনো দর্শকের হৃদয়ে ভালোবাসায় সিক্ত হয়।

এসএম সোলায়মান ১৯৫৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ভারতের আসামের ডিগবয় শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার মায়ের নাম আছিয়া খাতুন ও বাবা আহমেদ মিয়া। আদি নিবাস বাংলাদেশের চট্টগ্রামে হলেও আহমেদ মিয়ার ব্যবসা সূত্রে আসামে থাকতেন তারা। ১৯৫৮ সালে পরিবারটি পাকিস্তানে ফিরে চট্টগ্রামের চন্দনপুরায় স্থায়ী হয়। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে কনিষ্ঠ সোলায়মানের শৈশব-কৈশোর কাটে চট্টগ্রামেই। এসএম সোলায়মান চট্টগ্রাম কলেজের পাঠ শেষে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে এবং ১৯৭৭ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

চট্টগ্রামে ছাত্রাবস্থায় তিনি শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত হন। বিশেষ করে সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে বেশ পরিচিতি পান। চট্টগ্রাম বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পীও ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সোলায়মান নাট্যচর্চায় যুক্ত হন এবং বাংলাদেশের নবনাট্য আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন।

তিনি বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের দুই দফা সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য।

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সংস্কৃতিকর্মীদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে এসএম সোলায়মানের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। কালান্তর, পদাতিক নাট্য সংসদ, ঢাকা পদাতিক, অন্যদল ও থিয়েটার আর্ট ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি। ত্রিশটিরও বেশি নাটক রচনা, রূপান্তর ও নির্দেশনা দিয়েছেন। সোলায়মান রচিত ও নির্দেশিত নাটক ‘আমিনা সুন্দরী’ আমেরিকার অফ ব্রডওয়েতে মঞ্চস্থ প্রথম বাংলা নাটক হাওয়ার গৌরব অর্জন করে।

এসএম সোলায়মান বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত নাট্যকার ও নাট্যশিল্পী ছিলেন। ২৫টির বেশি টেলিভিশন নাটক রচনা করেছেন তিনি। নির্মাণ করেছেন অসংখ্য ভিডিওচিত্র, ডকুমেন্টারি ও টিভি নাটক। প্রকাশিত হয়েছে তার রচিত ও সুরারোপিত কয়েকটি মিউজিক ভিডিও অ্যালবাম, গান ও গীতিনাট্যের ক্যাসেট। তবে তার রচিত ও সুরারোপিত অধিকাংশ গান এখনো অপ্রকাশিত।

১৯৯৩ সাল থেকে এসএম সোলায়মান নাটকের দ্বিতীয় কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন আমেরিকা। ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি বেশ কয়েকবার নিউইয়র্ক যান। সেখানে প্রবাসী বাঙালীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘বাংলাদেশ থিয়েটার অব আমেরিকা’র প্রযোজনায় সাতটি নাটক মঞ্চায়ন করেন।

সঙ্গীত ও কোরিওগ্রাফির সফল প্রয়োগের মাধ্যমে এসএম সোলায়মান স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের নবনাট্যধারায় নির্মাণ করেন এক নতুন আঙ্গিক।

মঞ্চনাটকে অসামান্য অবদানের জন্য রংপুর পদাতিক সম্মাননা (১৯৮৮), বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডা সম্মাননা (১৯৯৪), বাংলাদেশ থিয়েটার অব আমেরিকা সম্মাননা (১৯৯৫), বাংলাদেশে চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার (১৯৯৬), বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অব লস অ্যাঞ্জেলেস সম্মাননা (১৯৯৬), সুবচন নাট্য সংসদ (১৯৯৬), চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা সম্মাননা (১৯৯৭), থিয়েটার আর্ট ইউনিট সম্মাননা (১৯৯৮), মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় সম্মাননা (২০০০), আরণ্যক নাট্যদলে ‘দীপু স্মৃতি পদক’ (মরণোত্তর-২০০১), ঢাকা পদাতিকের ‘আবুল কাশেম দুলাল স্মৃতি পদক’ (মরণোত্তর- ২০০২) এবং নাট্যকর্মে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৪ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) পান তিনি।

পূর্বপশ্চিমবিডি-এনই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত