Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬
  • ||

গাইবান্ধায় ৩২টি সিনেমা হল ছিল

ঈদের পর সিনেমা হল শূণ্য গাইবান্ধা

প্রকাশ:  ১২ আগস্ট ২০১৯, ১২:১৬ | আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৯, ১২:২৩
মহিব আল হাসান
প্রিন্ট icon
ছবি: মহিব

ঈদুল আজহা উপলক্ষে গাইবান্ধা জেলার অবশিষ্ট 'তাজ' ও 'হীরক' দুটি সিনেমা হলে চলছে শাকিব-বুবলি অভিনীত 'মনের মতো মানুষ পাইলাম না' চলচ্চিত্রটি। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত এ চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের পর গাইবান্ধা জেলার অবশিষ্ট এ দুটি সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে গাইবান্ধায় আর কোনও সিনেমা হল থাকছে না। এক কথায় সিনেমা হল শূন্য হয়ে যাচ্ছে উত্তরের এ জেলাটি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাজ হলের সুপার ভাইজার মোহাম্মদ শহীদ।

মোহাম্মদ শহীদ জানান, গাইবান্ধার তাজ সিনেমা ও গোবিন্দগঞ্জের হীরক সিনেমার মালিক এ এম ইদ্রিস খান। তিনি গত ঈদেই সিনেমা হল দুটি বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের জন্য এই ঈদ পর্যন্ত হল টিকিয়ে রেখেছিলেন। এই ঈদের সিনেমা দেখানোর পর তিনি এই হল দুটি বন্ধ করে দিবেন।

জেলার সাত উপজেলায় ছিল ৩২টি সিনেমা হল। যা দর্শক শূন্যতার কারণে একে একে বন্ধ হতে শুরু করে।

২০১৫ সালে এ জেলায় চালু হলের সংখ্যা ছিল ৮টি। তবে মাঝে দুই বছরের মধ্যে আরও ছয়টি হল বন্ধ হয়ে যায়। এরমধ্যে গাইবান্ধার সদরের 'তাজ' সিনেমা ও গোবিন্দগঞ্জ থানায় অবস্থিত 'হীরক' সিনেমা হল বাকি ছিল। তবে গাইবান্ধা জেলার এ দুটি সিনেমা হল বন্ধ করে দিচ্ছেন মালিক পক্ষ।

স্থানীয় প্রদর্শক ও দর্শকরা সিনেমা হলের দুর্দিনের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেন। সিডিসহ উন্নত প্রযুক্তির মোবাইল ও স্যাটেলাইট টিভির কারণে ঘরে বসেই নানা ধরনের চলচ্চিত্র দেখা যায়। সে অনুযায়ী দেশের সিনেমায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। এ ছাড়া রয়েছে ভারতীয় চ্যানেলে প্রচারিত চলচ্চিত্র ও টিভি সিরিয়ালের জনপ্রিয়তা। সব মিলিয়ে হলে দর্শক কমে যাওয়ায় সিনেমা ব্যবসায় নেমেছে মন্দা। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে হল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বেকার হয়ে পড়েছেন।

জেলা প্রশাসনের দফতর ও সিনেমা হল ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা সদরসহ সাতটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩২টি সিনেমা হল ছিল। বছর চারেক আগেও প্রায় ২৬টি হল চালু ছিল। যারমধ্যে ২টি সিনেমা হল ‘বৈধভাবে’ চালু রয়েছে। এই হল দুটিও যেকোনও সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

গাইবান্ধা জেলার সিনেমা হলের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যেত একটি উপজেলাতেই ছিল চারটি করে সিনেমা হল। যা এখন জেলা শহরেই নেই!জেলার পৌর এলাকার তিনটি সিনেমা হলের মধ্যে প্রথমে চৌধুরী ও পরে মায়া বন্ধ গেছে। এখন একমাত্র হল তাজ সেটিও ঈদের পর বন্ধ হয়ে যাবে।

জেলার সবচেয়ে কাছের উপজেলা সাদুল্লাপুর। এই উপজেলার সদরে ১টিসহ নলডাঙ্গা, মীরপুর ও ধাপেরহাটে দুইটি সহ মোট পাঁচটি সিনেমা হল ছিল। এর কোনোটিই চালু নেই।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ছিল হীরক ও প্রতিমা নামে দুটি সিনেমা হল। যার একটি প্রতিমা বন্ধ হয়েছে আগেই। হীরক বন্ধ হবে এবারের ঈদের পর পরই।

অন্যদিকে সুন্দরগঞ্জের ৫টি হলের মধ্যে উপজেলা সদরের রূপশ্রী ও ধর্মপুরের আদুরী এখনো রয়েছে। ধর্মপুরের আদুরী হল মাঝে মাঝে চালু করা হয়। বাকি তিনটি বছর তিনেক আগে বন্ধ হয়ে গেছে।

পলাশবাড়ী উপজেলায় ছিল সীমান্ত, ববি ও সাথী নামে ৩টি সিনেমা হল এই হলগুলো ২০১৬ সালে বন্ধ হয়ে যায়।

ফুলছড়ি উপজেলার একমাত্র সিনেমা হলটিও বন্ধ রয়েছে। এছাড়া সাঘাটা উপজেলার ৫টি সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এমএইচ

apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত