Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬
  • ||

লতা মুঙ্গেশকরের গান গাওয়া সেই ভিক্ষুক নারী ডাক পেলেন মুম্বাই থেকে

প্রকাশ:  ০৪ আগস্ট ২০১৯, ১৭:০৮ | আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৯, ১৭:১১
বিনোদন ডেস্ক
প্রিন্ট icon

পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাটের রানু মারিয়া মণ্ডল এখন সোশাল মিডিয়ার ‘সুরসম্রাজ্ঞী’। স্টেশনে গান গেয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করাই যার পেশা, তার কণ্ঠে আপাতত মাতোয়ারা ইন্টারনেট। ভিডিও ভাইরাল হতেই রাতারাতি তিনি তারকা হয়ে উঠেছেন। সোশাল মিডিয়ায় তার গান শুনে শ্রোতাদের মন তো ভিজেছে। আর ভাইরাল হওয়ার সুফল মিলেছে তার। ইতোমধ্যেই রানুর কাছে ডাক এসে গিয়েছে সুদূর মুম্বাই থেকে। এবার বোধহয় অভাব অনটনের দিন ফুরল তার। ভাগ্যের চাবিকাঠি খুলে গেল রানুর। এমনটাই মনে করছেন অনেকে।

সম্প্রতি রানাঘাট স্টেশনের এই ভিক্ষুক নারী লতা মুঙ্গেশকরের 'এক পেয়ার কি নাগমা' গান গেয়ে সোশাল মিডিয়ার ‘সুরসম্রাজ্ঞী’র তকমা পেয়েছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর রানুর গান শুনে ফোন আসছে সুদূর দিল্লি-মুম্বাই থেকেও। ইতোমধ্যেই মুম্বাইয়ের এক টেলিভিশন চ্যানেল ফোন করে আমন্ত্রণ জানিয়েছে রানুকে। দিল্লির একটি সমাজসেবী সংস্থা থেকেও যোগাযোগ করেছে তার সঙ্গে। কিন্তু যার দু’বেলা দু’মুঠো ভাতের জোগাড় হয় না, তার সঙ্গে কীভাবে এত দূর থেকে যোগাযোগ করা সম্ভব? ঠিক এখানেই এগিয়ে এসেছেন এক সহৃদয় ব্যক্তি। তিনি রানুর প্রতিবেশী তপন দাস। বাইরের রাজ্যগুলি থেকে তার মোবাইলেই ফোন আসছে। রানাঘাটের এই ‘সুরসম্রাজ্ঞী’র গান শুনে মুগ্ধ তারা। তাই তাদের কাজে ব্যবহার করতে চাইছেন রানুকে।

খ্যাতনামা সংস্থাগুলি থেকে ফোন আসছে তা অতি উত্তম। কিন্তু চাইলেই তো আর যাওয়া যায় না। রয়েছে কিছু বিধিনিষেধ। আর রানুর ক্ষেত্রে সেই সমস্যা প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে তার পরিচয়পত্র না থাকায়। বিভিন্ন সূত্র জানায়, নতুন যারা যোগাযোগ করছেন তাতে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারি পরিচয়পত্র। রানুর কোনো পরিচয়পত্র না থাকায় বিমান বা দূরপাল্লার ট্রেনে টিকিট কাটা মুশকিল হয়ে পড়েছে। এছাড়াও, কোনো সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে গেলে কিংবা তাদের সঙ্গে কাজ করতে হলে পরিচয়পত্র থাকা আবশ্যক। আর সেখানেই বিপত্তি। তবে বিডিও এবং এসডিপিও'র হস্তক্ষেপে রানুর এই সমস্যা কেটে যাবে বলেই মনে করেন রানাঘাটবাসীরা।

রানুর এক মেয়েও রয়েছে। নাম স্বাতী রায়। ৪ বছর হয়েছে মেয়েকে দেখেননি। তার সঙ্গে নাকি কথাও হয়েছে মেয়ের। সে কথা দিয়েছে মাকে দেখতে আসবে। কিন্তু কবে আসবে, তা জানা নেই। একমাত্র মেয়ের পথ চেয়েই রানাঘাট স্টেশনে অপেক্ষারত রানু। গান গেয়ে রাতারাতি স্টার হয়ে গেলেও রানুর পা কিন্তু এখনো মাটিতে। সহজ-সরল হাসিমাখা মুখটি দেখে অনেকেই মায়ায় পড়ে গেছেন। রানাঘাট স্টেশন চত্বরে এমন এক নারীর দেখা পেয়ে সত্যিই তাজ্জব রেলযাত্রীরা। এক যাত্রীই তার সঙ্গীত সাধনার ভিডিও তুলে শেয়ার করেছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারপর থেকেই ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। ফোনে রেকর্ড করে নিয়ে যাচ্ছেন তার গান। আর তিনি আপনমনে গেয়ে চলেছেন, ‘জিন্দেগি অউর কুছ ভি নহি, তেরি-মেরি কাহানি হ্যায়…’৷

'বার্পেতা টাউন দ্য প্লেস অব পিস' নামের এক ফেসবুক পেজ রানুর গাওয়ার গানটির ভিডিও শেয়ার করে। গত রবিবার ভিডিওটি শেয়ারের পর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি পেজটির মালিক কৃষান দাস জুবুর সাথে কথা বলে। তিনি জানান, ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাট রেলওয়ে স্টেশনে ধারণ করেন কলকাতার অতিন্দ্র নামের এক ব্যক্তি। পরে তপন নামের আরেক ব্যক্তি ভিডিওটি তার কাছে পাঠিয়ে দেন। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন


পূর্বপশ্চিমবিডি/এমএইচ

বলিউড
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত