Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||

‘শৈশবে মায়ের শাসনের কথা ভুলতে পারবো না’

প্রকাশ:  ০৩ আগস্ট ২০১৯, ০০:৫৩ | আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৯, ০১:২৬
মহিব আল হাসান
প্রিন্ট icon
রোজিনা। ছবি: অবন রেহমান

বাংলাদেশের অসম্ভব জনপ্রিয় অভিনেত্রী রোজিনা। তার প্রকৃত নাম রওশন আরা রেণু। শুরুটা ছিল খুবই ছোট একটি কাজ দিয়ে। মাত্র কয়েকটি শট। এই কয়েকটি শটই তার জীবনের গতিধারা পাল্টে দেয়। চলচ্চিত্রে আসার আগে তিনি ঢাকায় মঞ্চ নাটক করতেন। তখন তিনি বেশ কিছু বিজ্ঞাপনে কাজ করে বেশ সাড়া ফেলেন। বিজ্ঞাপনের পর বড়পর্দায় ১৯৭৬ সালে ‘জানোয়ার’ চলচ্চিত্রে পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে অভিনয়ের সুযোগ পান। পরে তিনি এফ. কবীর পরিচালিত ‘রাজমহল’ সিনেমার মাধ্যমে একক নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

১৯৮০ সালে রোজিনা ‘কসাই’ ছবির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮৮ সালে ‘জীবন ধারা’ ছবির জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কার পান শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে। পেয়েছেন বাচসাস পুরষ্কারসহ একাধিক পুরস্কার। খ্যাতিমান এই অভিনেত্রী ১৯৮৬ সালে পাকিস্তানী যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘হাম সে হায় জামানা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ‘নিগার’ অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। এরআগে ১৯৮৪ সালে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র ‘অবিচার’ এ মিঠুন চক্রবর্তীর বিপরীতে অভিনয় করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন।

রোজিনা। ছবি: অবন রেহমান

রাজ্জাক, ফারুক, আলমগীরসহ কাজ করেছেন আরও অনেকের সঙ্গে। তিনি বর্তমানে লন্ডনেই বেশিরভাগ সময় থকেন। ক্ষতিপূরণ, ধনী গরীব, আনারকলি, কসাই, দোলনা, রুপবান, অবিচার, রাস্তার রাজা, মিস ললিতা, অভিযান, মানসীসহ প্রায় ২৫৫টি চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। সর্বশেষ ২০০৫ সালে ‘রাক্ষসী’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে এ জগত থেকে বিদায় নেন এক সময়ের পর্দা কাঁপানো এই অভিনেত্রী। ঈদুল আযহা, বর্তমান ব্যস্ততা ও নিজের ভালো লাগা-মন্দ লাগা নিয়ে মুখোমুখি হলেন পূর্বপশ্চিমবিডি ডট নিউজ’র।

পূর্বপশ্চিম: শৈশব নিয়ে...

রোজিনা: শৈশবে মায়ের শাসনের কথা ভুলতে পারবো না। একটু এদিক থেকে ওদিক করলে মায়ের শাসনের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো লাগত। তবে বাবার ভালোবাসার কারণে সবসময় আমি মায়ের হাত থেকে বেঁচে যেতাম। মনে পড়ে সেই স্মৃতিমাখা গ্রাম আর বাল্য বন্ধুদের। জীবনের বাঁকে আঁকা সেই আল্পনার কথাগুলো যেন এখনও আমায় ডাকে।

পূর্বপশ্চিম: ঈদ নিয়ে শৈশবের মজার কোনও স্মৃতি আছে?

রোজিনা: ছোটবেলার ঈদেই হচ্ছে আনন্দের। কারণ ছোটবেলায় দায়িত্ব বলতে যে বিষয়টি থাকে সেটি থাকে না। সেকারণে অনেক অনেক আনন্দে কাটত। যেমন ছোটবেলায় ঈদের জামা কিনতাম তা কাউকে দেখাতাম না। কারণ ঈদের দিন নতুন জামা পড়ে সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করাটায় ছিল অনেক আনন্দের। এরকম অনেক স্মৃতি রয়েছে। যা এখন অতীত।

রোজিনা। ছবি: সংগৃহীত

পূর্বপশ্চিম: ঈদ কেনাকাটা করতে গিয়ে এমন কোন মুহুর্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল যেটা এখনো মাঝে মধ্যে নাড়া দেয় আপনাকে?

রোজিনা: ঈদের সময় যেটা হতো, তা হলো আমি সবাইকে পোশাক পছন্দ করে দিতাম। আর আমার পছন্দ করা পোশাক সবাই পরতো। যেটা হত পরিবারের অন্য সদস্যদের পোশাক আমি আগেই দেখতাম। এটা নিয়ে আমার পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে একপ্রকার ঝগড়া লেগে থাকতো।

পূর্বপশ্চিম: সালামির গল্প...

রোজিনা: ছোটবেলায় তো সবচেয়ে আকর্ষণের বিষয়টি ছিল সালামি নেওয়াটা। যা এখন আমাকে সবাইকে দিতে হয়। আমি ছোটবেলায় যেভাবে সালামি নিতাম এখন ছোটরা ঠিক সেভাবেই আমার কাছে সালামি নিয়ে থাকে। সালামি নেওয়ার জন্য আমি মুরব্বীদের পা ছুঁইয়ে সালাম করতাম। আমার থেকে যারা বড় তাদের প্রত্যেকের পা ছুঁইয়ে আমি সালামি আদায় করতাম।

রোজিনা। ছবি: সংগৃহীত

পূর্বপশ্চিম: এখন আর কেউ পা ছুঁইয়ে সালাম করেনা। বিষয়টি বিলুপ্তির পথে। আপনি কী মনে করেন?

রোজিনা: আসলে এই বিষয়টি বিলুপ্তির পথে না। আমাদের দেশে যে পরিবারগুলোতে পা ছুঁয়ে সালামের নিয়ম আছে । সেখানে এখনো এই সালামের বিষয়টি রয়েছে। আর যে পরিবারে নেই সে পরিবারে সেই সালম না করার নিয়মে আছে।

পূর্বপশ্চিম: আপনি সেলিব্রেটি, ব্যস্ততায় কী গ্রামে যাওয়া হয়?

রোজিনা: আমি রাজশাহীর মেয়ে, ছোটবেলায় সেখানে ঈদ করতাম যদিও আমরা শহরের মতোই জায়গায় থাকতাম। তবে সেলিব্রেটি হওয়ার পর আমি গ্রামে ঈদ করতে পারিনি। বর্তমানে দেশেই ঈদ করতে পারি না। তবে এবার ঈদ দেশেই করবো।

পূর্বপশ্চিম: নগরের ঈদ উৎসব, গ্রামের ঈদ উৎসবের মত কী?

রোজিনা: নগর আর গ্রামের ঈদ সম্পূর্ণ আলাদা। গ্রামে একজায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঈদের দিন দাওয়াত খেতে যায় মানুষ। শহরে হয়তো খাবারের আইটেম বেশি থাকে। কিন্তু গ্রামে কম থাকলেও সেখানে ঈদের উৎসবটা ঈদের মতোই লাগে।

পূর্বপশ্চিম: এবারের ঈদে কী কীনলেন?

রোজিনা: এখনও কিছু কেনাকাট হয়নি। দুয়েকদিনের মধ্যে কেনাকাটা শুরু করব।

পূর্বপশ্চিম: সাধারণ মানুষের ঈদ এবং শোবিজের মানুষের ঈদের পার্থক্য কোথায়?

রোজিনা: শোবিজের মানুষের ভিন্নতা থাকে। কারণ এই অঙ্গনের মানুষের শুটিং, পরিবার, দর্শক আরও অনেক কিছু সমন্বয় করে চলতে হয়। চলচ্চিত্রে আমাদের সময় এমন হতো দম ফেলানোর সময় ছিল না, আমরা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম। ঈদ বা উৎসব সবসময় আমরা কাজের মধ্যে থাকতাম তাই আমাদের ঈদটা সাধারণ মানুষের থেকে ভিন্ন ছিল ।

রোজিনা। ছবি: সংগৃহীত


পূর্বপশ্চিমবিডি/ এমএইচ

রোজিনা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত