• রোববার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

চিত্র পরিচালক এখন নিরাপত্তাকর্মী

প্রকাশ:  ২৪ জুলাই ২০১৯, ০২:৩৯
বিনোদন ডেস্ক

টালিউড পরিচালক সুব্রতরঞ্জন দত্ত। চলচ্চিত্র জগতের বেশ পরিচিত মুখ তিনি। সিনেমায় স্থান দিয়েছেন নতুন নতুন মুখ। তৈরি করেছেন অনেক চরিত্র।

জনজাতিদের জীবনযাত্রা নিয়ে তৈরি করেছিলেন ‘প্রবাহিণী’ নামে চলচ্চিত্র। ২০১৬ সালে সে ছবি মুক্তি পেয়েছিল নন্দনে। তার পরে শিশি-বোতল কুড়ানো মেয়েদের জীবন নিয়ে তাঁর ছবি ‘কলি’ এখনও মুক্তি পায়নি। তা সত্ত্বেও ছবির পরিচালক বাস্তবে যেন ছবিরই চরিত্র হয়ে উঠেছেন। বাঁচার লড়াই আর সংসার প্রতিপালন করতে গিয়ে চিত্র পরিচালক হয়ে গিয়েছেন আবাসনের দারোয়ান।

ঋত্বিক ঘটকের কাছে ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’ ছবিতে শিক্ষানবীশ হিসেবে কাজ শুরু করা সুব্রতরঞ্জন দত্ত আটের দশকে বহু ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। এমনকি মুম্বাইয়ে শশধর মুখোপাধ্যায়ের প্রোডাকশন হাউসেও কাজ করেছেন তিনি। তা সত্ত্বেও হাতে কাজ না থাকায় গ্রাসাচ্ছাদনের জন্য মাত্র সাড়ে ছ’হাজার টাকায় নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি করছেন ওই চিত্র পরিচালক।

সুব্রতরঞ্জনের কথায়, সময় পেলেই নতুন চিত্রনাট্যের খসড়া তৈরি করার চেষ্টা করি এখনও। তবে সময় বার করাটাই কঠিন।

ভিআইপি রোডের একটি আবাসনে ১২ ঘণ্টার নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেই সময় চলে যায়। তা সত্ত্বেও নতুন কাজের আশায় সারা রাত ডিউটির পরেও সকালে ছোটেন টালিউড পাড়ায়। ফিরে এসে আবারও আবাসনের গেটের সামনে রাত পাহারার কাজে যোগ দেন পলতার বাসিন্দা সুব্রতবাবু।

তার কথায়, স্ত্রী, মেয়েকে নিয়ে সংসার। চলতে তো হবেই। বেশ কয়েক বছর বসে রয়েছি। শেষ এই কাজেই ঢুকে গেলাম। কোনও কাজই ছোট নয়।

ঋত্বিকের প্রসঙ্গে সুব্রতবাবুর স্মৃতিচারণ, তখন উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছি। ঋত্বিকবাবুর ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’ সিনেমার সেটে দাঁড়িয়ে ওর কাজ দেখতাম আর শিখতাম।

সুব্রতবাবু জানান, তারপরে চিত্র পরিচালক শঙ্কর ভট্টাচার্যের সঙ্গে সহকারী পরিচালকের কাজের সুযোগ পান। নয়ের দশকে মুম্বাই থেকে কলকাতায় ফেরার পরে সহকারী পরিচালক থেকে পরিচালক হতেই কেটে যায় দেড় দশক। প্রথম ছবি ‘প্রবাহিণী’ ছবি মুক্তি পায় ২০১৬ সালে।

একজন চিত্র পরিচালকের দিন কাটবে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করে—মানতে পারেন না অনেকেই। পরিচালক রাজা সেন বলেন, সুব্রত নতুন ভাবনা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেন। ওর নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করাটা একেবারেই মানা যায় না।

সুব্রতবাবুর নতুন পেশার খবর ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই জানেন। তবুও তেমন ভাবে তার পাশে দাঁড়ানোর মানুষের সংখ্যা কম। ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স ডিরেক্টর অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিমল দে বলেন, এটা দুর্ভাগ্যের। সুব্রতবাবু টালিগঞ্জের পরিচিত মুখ। এখন যাদের হাতে ক্ষমতা, তাদের দলের লোকজনই শুধু কাজ পায়। সুব্রতবাবুর মতো অভিজ্ঞ মানুষেরা কাজ পান না। এতে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির দৈন্য দশাই ফুটে উঠছে।

সুব্রতবাবুর পরিচয় জানতে পেরে তাকে দারোয়ান হিসেবে ভাবতে এখন কুণ্ঠাবোধ করছেন ওই আবাসনের বাসিন্দারাই। আবাসিক তারক দাসের কথায়, সুব্রতবাবু যে চিত্র পরিচালক আমাদের আবাসনের অনেকেই তা জানেন না। খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা যে ওকে দারোয়ানের কাজ করতে হচ্ছে।

তবে হাল ছাড়েননি সুব্রতবাবু। তার কথায়, জীবন সিনেমার চিত্রনাট্যের মতোই গতিশীল। ভালো কাজের সুযোগ নিশ্চয়ই পাব। চেষ্টা তো চালাতেই হবে।

পূর্বপশ্চিম/অ-ভি

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত