• সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে পিয়া জান্নাতুল

‘ইচ্ছা ও কঠোর পরিশ্রমই আমাকে নতুন নতুন রূপে হাজির করছে’

প্রকাশ:  ১৯ জুন ২০১৯, ১২:০৩ | আপডেট : ২৪ জুন ২০১৯, ১২:২৩
মহিব আল হাসান

বিশ্বকাপে অ্যাংকর হিসেবে কাজ করছেন বাংলাদেশের মডেল ও অভিনেত্রী পিয়া জান্নাতুল। গাজী টেলিভিশনের পর্দায় তাকে দেখা যাচ্ছে নিয়মিত। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বিভিন্ন মাঠ থেকে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে তুলে আনছেন ম্যাচের বিশ্লেষণ। বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে বিদেশের মাটিতে বিশ্বকাপের মতো আসরে কাজ করতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করেন তিনি।

মডেল, উপস্থাপক, আইনজীবী ও ব্যবসায়ীসহ বেশকিছু পরিচয়ে পরিচিত পিয়া। এখন ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপস্থাপনা করছেন। আন্তর্জাতিক পরিসরেও করেছেন মডেলিং। কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের পতাকাকে তিনি উড়িয়েছেন বিশ্বাঙ্গনে। আন্তর্জাতিক পরিসরেও তার পরিধি বেড়েই চলছে। এভাবেই এগিয়ে চলছেন পিয়া সম্ভবনার নতুন দোয়ারে।

পুরোদস্তুর ক্রিকেট মাঠে খেলোয়াড়দের সাক্ষাৎকার ও বিশ্লেষণ নিয়েই শত ব্যস্ততার মাঝে ইংল্যান্ড থেকে মুঠোফোনে কথা বলেন পূর্বপশ্চিমের সঙ্গে।

পূর্বপশ্চিম: প্রথমেই জানতে চাই, বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে বিদেশের মাটিতে আপনার উপস্থাপনার কথা।

পিয়া জান্নাতুল: বিষয়টি নারী হিসেবে বিবেচনার নয়। নারী বিষয়টি আমাদের মধ্যে না রেখে সম অধিকারের বিষয়টি নিয়ে বিবেচনা করা উচিত। কেননা বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নারী কিংবা পুরুষ যেই অংশ নেয় না কেন সে নিজ দেশকে রিপ্রেজেন্ট করছে সারা পৃথিবীব্যাপি। তাই কাজের পরিধির ওপর বিবেচনা করে তাকে এপ্রিসিয়েট করতে হবে। ক্রিকেট ডমিনেট করে ছেলেরা। তাদের খেলা বেশ জনপ্রিয়। আর আমি মেয়ে হয়ে ছেলেদের ক্রিকেটে এসে উপস্থাপনা করছি। আমি চাই মেয়েদের ক্রিকেটও যেন বেশি জনপ্রিয়তা পায়, যাতে সেখানে গিয়েও আমি উপস্থাপনা করতে পারি।

সাকিব আল হাসান এর সাথে পিয়া

পূর্বপশ্চিম: বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ মঞ্চে উপস্থাপনা করছেন, কী ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন?

পিয়া জান্নাতুল: ক্রিকেট বিশ্বমঞ্চে অনেক বড় বড় তারকাদের সাথে এক সাথে উপস্থাপনা করছি, অনেক ভালো লাগছে। ব্রায়ান লারা, শচীন টেন্ডুলকার, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, সৌরভ গাঙ্গুলীসহ আরও অনেকের পাশে বসে থেকে একই বার্তাগুলো শেয়ার করা ভাগ্যের ব্যাপার।

পূর্বপশ্চিম: সেন্টার অব ক্রিকেট যেখান থেকে ক্রিকেটের যাত্রা শুরু, সেখানে এসেছেন। এখান থেকে উপস্থাপনা করছেন, আপনার অনুভূতি কী?

পিয়া জান্নাতুল: যদিও অনেক কষ্ট হচ্ছে। প্রত্যেকটা ম্যাচ কাভার করতে হচ্ছে। আজকে ব্রিস্টল, কালকে নটিংহ্যামে, ওভাল ও কার্ডিবে গিয়ে গিয়ে কাভার করছি। এর মধ্যে যা যা আছে সবকিছু ঘুরে ঘুরে দেখছি, প্রত্যেকটা স্টেডিয়াম আমি ঘুরে দেখেছি। সবমিলিয়ে অনেক অনুভূতিটা চমৎকার।

পূর্বপশ্চিম: বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নিয়ে আপনার অভিব্যক্তি কী?

পিয়া জান্নাতুল: বাংলাদেশ দল একটা পরিপূর্ণ দল। প্রতিটা দলের সাথে লড়াই করে জেতার ক্ষমতা রাখে। এই দলের যারা খেলোয়াড় আছেন তারা প্রত্যেকে পূর্ণ সামার্থ্য নিয়ে খেলার জন্য মাঠে নামেন। আগের ম্যাচে দুর্দান্ত জয় তুলে নিলো উইন্ডিজের বিপক্ষে। এক কথায় পরবর্তী ম্যাচগুলোতে অস্ট্রেলিয়া, কি ভারত এ বিষয় নিয়ে ভাবার কিছু নেই। প্রত্যেকে সেরাটা দিয়ে খেলছেন। আশা করি এই বিশ্বকাপে টিকে থাকার মতো কোন কিছু বের করবে বাংলাদেশ টিম। দলের সবাই অসাধাণ খেলছেন।

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ মঞ্চে পিয়া

পূর্বপশ্চিম: নিজেকে অনেক পরিচয়ে পরিচিত করেছেন। একের পর এক নিজেকে ভাঙছেন, কীভাবে সম্ভব?

পিয়া জান্নাতুল: আমি নিজেকে একটা গণ্ডির মধ্যে নিয়ে থাকতে চাই না। ইচ্ছা আর কঠোর পরিশ্রমে আমাকে নতুন নতুন রূপে হাজির করছে। আমি সবসময় নিজের গণ্ডির বাহিরে থেকে কাজ করে থাকি। তারই ধারাবাহিকতায় নতুন নতুন পরিচয়ে নিজেকে পরিচিত করে আসছি।

পূর্বপশ্চিম: উচ্চতা নিয়ে কি কখনো বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন?

পিয়া জান্নাতুল: উচ্চতা নিয়ে আমাকে অনেক ব্যঙ্গ সহ্য করতে হয়েছিল। খুলনায় যখন ছিলাম, তখন অনেকে আমার দিকে উঁচু হয়ে তাকিয়ে থেকে কথা বলতো। আর বাংলাদেশে এমন দীর্ঘ উচ্চতার মেয়ের দেখা তো সচরাচর মেলে না। এই উচ্চতা ই আমাকে মাত্র ১৬ বছর বয়সে ঢাকায় আসতে বাধ্য করেছিল। আমার জন্য শাপেবর হয়েছিল।

পূর্বপশ্চিম: শোবিজে আসতে পরিবারের সম্মতি পেয়েছিলেন কী?

পিয়া জান্নাতুল: একদম না। কারণ যখন আমি শোবিজে পথচলা শুরু করি, তখন আমার বাবা আমার সাথে কথা বলতো না। প্রায় তিনমাস কথা বলেননি। তবে মা আমাকে সাপোর্ট দিয়েছেন। আমি মনে করি, সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে নিজের জায়গা করে নেওয়া সহজ। তবে পরিবারের সমর্থন থাকলে নির্বিঘ্নে কাজ করা যায়। বিয়ের পর স্বামীও সমর্থন দিচ্ছেন আমাকে। তাই শুধু এগিয়ে চলছি।

পূর্বপশ্চিম: নতুন যারা আসতে চায় তাদের উদ্দেশে কিছু বলেন...

পিয়া জান্নাতুল: প্রথমে একটি কথায় বলবো কাজের জন্য সুযোগ তৈরি হয় না। সুযোগটা তৈরি করে নিতে হয়। নতুনদের উদ্দেশে বলবো, কঠিন অধ্যাবসায় আর শ্রমই স্বপ্ন পূরণের ধাপ। যে কাজটি শুরু করবে সেটির প্রতিই ভালোবাসাটা থাকতে হবে। তাহলেই সফলতা আসবে।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম/এআর

পিয়া জান্নাতুল
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত