Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬
  • ||

নাট্যকার মমতাজউদ্দীন আহমেদের জানাজা সম্পন্ন

প্রকাশ:  ০৩ জুন ২০১৯, ১৩:২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon
নাট্যকার মমতাজউদ্দীন আহমেদ। ফাইল ছবি

খ্যাতিমান নাট্যকার অধ্যাপক মমতাজউদ্দীন আহমেদের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার (৩ জুন) সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে অংশ নেন শিক্ষাবিদ ও সংগঠক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগের উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, রামেন্দু মজুমদার, সালাহউদ্দিন লাভলু প্রমুখ।

দীর্ঘদিন রোগভোগের পর রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোববার (২ জুন) বিকাল ৩টা ৪৮ মিনিটে মারা যান মমতাজউদ্দীন আহমেদ। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি স্ত্রী কামরুননেসা মমতাজ, এক ছেলে, দুই মেয়েসহ বহু ভক্ত-অনুরাগী রেখে গেছেন।

মমতাজউদ্দীন আহমেদে ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার হাবিবপুর থানার আইহো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা কলিমুদ্দিন আহমদ ও মা সখিনা বেগম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় বিএ (অনার্স) ও এমএ ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

ছাত্রাবস্থায় তিনি বাম রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। ১৯৫২ সালে গোলাম আরিফ টিপুর সঙ্গে তিনি রাজশাহীতে ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাজশাহী কলেজে বাংলাদেশের প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণেও ভূমিকা পালন করেন। রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার কারণে চারবার কারাবরণও করেন।

মমতাজউদ্দীন আহমেদ ৩২ বছরের বেশি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ইউরোপীয় নাট্যকলায় শিক্ষকতা করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি চট্টগ্রাম কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগের খণ্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন।

মমতাজউদ্দীন আহমেদের লেখা জনপ্রিয় নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘বিবাহ’, ‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’, ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’, ‘বর্ণচোরা’, ‘এই সেই কণ্ঠস্বর’, ‘কী চাহ শঙ্খচিল’, ‘সাতঘাটের কানাকড়ি’, ‘রাজা অনুস্বারের পালা’, ‘বকুলপুরের স্বাধীনতা’, ‘সুখী মানুষ’, ‘রাজার পালা’, ‘সেয়ানে সেয়ানে’, ‘কেস’, ‘ভোটরঙ্গ’, ‘উলটো পুরান’, ‘ভেবে দেখা’ উল্লেখযোগ্য। রচিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে- ‘বাংলাদেশের নাটকের ইতিবৃত্ত’, ‘বাংলাদেশের থিয়েটারের ইতিবৃত্ত’, ‘প্রসঙ্গ বাংলাদেশ’, ‘প্রসঙ্গ বঙ্গবন্ধু’, ‘আমার ভিতরে আমি’, ‘জগতের যত মহাকাব্য’, ‘সাহসী অথচ সাহস্য’, ‘নেকাবী এবং অন্যগণ’, ‘সজল তোমার ঠিকানা’, ‘এক যে জোড়া’, ‘এক যে মধুমতি’, ‘অন্ধকার নয় আলোর দিকে’। মমতাজউদদীন আহমদের লেখা নাটক ‘কী চাহ শঙ্খচিল’ এবং ‘রাজা অনুস্বারের পালা’ রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে তালিকাভুক্ত হয়েছে।

একজন জাঁদরেল অভিনেতা হিসেবেও তিনি অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন। চির ঠাঁই করে নিয়েছেন মানুষের মনে। মমতাজউদ্দীন আহমেদ শিক্ষক ও লেখক হিসেবে পরিচিতি পেলেও মঞ্চনাটকের মাধ্যমে তার কর্মজীবনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

তিনি সংস্কৃতি অঙ্গনের একজন কর্মী হিসেবে সক্রিয়ভাবে ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতাযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।

মমতাজউদ্দীন ১৯৭৭-৮০ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন। ২০১১ সাল থেকে তিনি জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

শিল্প ও সাহিত্যাঙ্গনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ১৯৯৭ সালে একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, শিল্পকলা একাডেমি বিশেষ সম্মাননা, শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাউল সাহিত্য পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশের বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।


পিপিবিডি/এসএম

মমতাজউদ্দীন আহমেদ
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত