• শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯
  • ||

দুর্বার গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নিন: ফখরুল

প্রকাশ:  ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১৭ | আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এজন্যে সকলে প্রস্তুতি নিন। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আসুন, গণঅভ্যুত্থান গড়ে তুলি। যার মাধ্যমে পরাজিত হবে এই স্বৈরাচারী, কর্তৃত্ববাদী সরকার। বিজয় হবে জনগণের। এজন্যে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে এই যুদ্ধে জয়লাভ করতে হবে। যার মধ্য দিয়ে দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (২ সে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে দলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় বিএনপির আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি অংশ নেন, যা বড় পর্দায় দেখানো হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন দলটির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলীম। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, দলের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর অব. হাফিজউদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর জাতীয় সঙ্গীত ও দলীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠান শুরু হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার ইতিহাস বিকৃত করছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে তারা কলঙ্কিত করেছে। বাংলাদেশের মানুষের যে আশা-আকাঙ্খ- সেই গণতন্ত্রকে তারা হত্যা করেছে। অন্যদিকে- বিএনপির ইতিহাস হচ্ছে এই দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস। বিগত ৪৩ বছরের ইতিহাস হচ্ছে এই দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাস। বিএনপির ইতিহাস হচ্ছে এই দেশকে, এই জাতিকে একটা অস্তিত্ব প্রদানের ইতিহাস। ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে তিনি আমাদেরকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে ১৯৭৫ সালে সিপাহী জনতার বিপ্লবের পর ৭ নভেম্বর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেন। এর মাধ্যমে তিনি আমাদের আবারও নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আওয়ামী লীগের বন্ধুরা সারাক্ষণ শুধু বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন। জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়াকে খাটো করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা যদি একবার নিজেকে প্রশ্ন করেন যে, তাদের অবদানটা কী? তাদের অবদান হচ্ছে ভারতে গিয়ে পালিয়ে থেকে নেতা সাজা। পওে দেশে ফিরে এসে এটা বলা যে, এই দেশটা তারাই স্বাধীন করেছে। তাদের অবদান সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে এক দলীয় শাসন বাকশাল কায়েম করা। আওয়ামী লীগ সেদিন দেশ, জাতি ও বাংলাদেশের আত্মাকে নিহত করেছিলো। আমরা ভুলে যাইনি ৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের কথা। আওয়ামী লীগের ইতিহাস এদেশের আত্মাকে বিক্রি ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধবংস করা। তিনি বলেন, যিনি আজকে গৃহান্তরীণ হয়ে আছেন, যাকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে আটক করে রাখা হয়েছে, সেই বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ ৯ বছর এরশাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে দেশকে মুক্ত করেছিলেন, গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি- এই স্বৈরাচারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ভবিষ্যতে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা এবং আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে এসে রাজনীতি করার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দেয়া। সেজন্য আমাদের স্লোগান হোক, স্বৈরাচার হটাও, দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, যারা বলে জিয়াউর রহমান গুলি করেননি, তারাই যুদ্ধাপরাধী। তারাই স্বাধীনতাকে স্বীকার করে না। যদি এদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকার করতে হয়- তাহলে জিয়াউর রহমানকে অস্বীকার করে হয় না। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এ সরকার পতনের জন্য শুধু স্লোগান যথেষ্ট নয়। আপনারা প্রস্তুত হন। জবাব আমাদের একটা একটা করে দিতে হবে। যে দলের কর্মীরা মরতে প্রস্তুত সেই দলের আবার ভয় কিসের?

‘চন্দ্রিমা উদ্যানের মাজারে জিয়াউর রহমানের লাশ নেই’- প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের জবাবে মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, লে. কর্ণেল জয়নুল আবেদীনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধায়নে জিয়াউর রহমানের লাশকে কবরে (চন্দ্রিমা উদ্যান) নামানো হয়েছে। জয়নুল নিজেও কবরে নেমেছিলেন। অথচ তারা বলে যে, কবরে নাকি লাশ নেই। আসলে জিয়ার কবরের পাশে তিনি শেখ হাসিনা) বসবাস করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। আজকে যত মানুষ এখানে জড়ো হয়েছে আপনারা যদি রাস্তায় একটা মিছিল করতে পারেন- তাহলে কিন্তু তাদের পলায়ন শুরু হয়ে যাবে। একবার সাহস করে রাস্তায় নামেন সবাই। রাজপথে সংগ্রাম ছাড়া এই অনির্বাচিত প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আশ্রিত সরকারকে সরানো যাবে না। আসুন আমরা সবাই মিলে আরেকটি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেই।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হকের ‘জিয়া মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না’- এই বক্তব্যের জবাবে ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরোত্তম বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী ইদানিং বলা শুরু করেছেন- জিয়াউর রহমান সাহেব যে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তার প্রমাণ দিতে হবে। আরে ‘ব্লাডি ফুল’ তুমি কে? তুমি কি মুক্তিযোদ্ধা। ‘ইউ হেভ বিন এ বিগ বডি রাজাকার’। এই প্রশ্ন করার তুমি? আসলে এরা সবাই জিয়াউর রহমানকে ভয় পায়। এজন্যে রাতে ঘুমাতে পারেনা।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

বিএনপি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close