• সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
  • ||

আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন ছেড়ে হলে ফিরলেন শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ:  ১৭ আগস্ট ২০২২, ০৯:৫৬
অনলাইন ডেস্ক

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের (খুবি) নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে আন্দোলনে নামেন আবাসিক হলের ছাত্রীরা। প্রায় চার ঘণ্টার অব্যাহত বিক্ষোভের পর শিক্ষার্থীদের ১১ দফা দাবি সংবলিত নোটিশে সই করেন হল প্রাধ্যক্ষ ও প্রাধ্যক্ষ বডির সদস্যরা। একই সঙ্গে ছাত্রীদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন অপরাজিতা হলের সহকারী প্রাধ্যক্ষ মাহফুজা খাতুন।

মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে মেনে নেওয়া ১১ দফা দাবি পড়ে শোনান বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সালমা বেগম। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বর ছেড়ে হলে ফিরে যান আন্দোলনে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা।

ছাত্রীরা হলে ফিরে যাওয়ার পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অপরাজিতা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক রহিমা নসরাত রিম্মি। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানের মতো। আমরা চাই না, তাদের কোনো কষ্ট হোক। তাদের সবগুলো দাবি আমরা মেনে নিয়েছি। তারা যে সমস্যাগুলোর কথা বলেছে, সেগুলোও আমরা সমাধান করছি এবং চেষ্টা অব্যাহত আছে।’

শিক্ষার্থীদের ১১ দফা

রাইস কুকার ও রান্নার সরঞ্জাম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। যৌন হয়রানির প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা বলার কারণে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও পারিবারিক শিক্ষা তুলে কথা বলার ঘটনায় ক্ষমা চাইতে হবে।

হলে প্রয়োজনে অভিভাবক ও নারী আত্মীয়দের থাকার অনুমতি দিতে হবে।

পানির পোকা ও খাবারের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

প্রাধ্যক্ষ তার নিজ ডিসিপ্লিনের (বিভাগ) শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও একাডেমিক বিষয়ে হয়রানি করেন। এটা বন্ধ করতে হবে ও ক্ষমা চাইতে হবে।

হলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দুর্ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

যেকোনো পরিস্থিতিতে সিট বাতিলের হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে।

ছাত্রীদের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে

আজকের আন্দোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ছাত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে হুমকি দেওয়া যাবে না।

হলের মিল খাওয়া বাধ্যতামূলক থাকবে না।

দাবিগুলো দ্রুত না মানলে প্রাধ্যক্ষ কমিটির পদত্যাগ করতে হবে।

তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, সমস্যাগুলো এক দিনের নয়। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ আজকের এ বিক্ষোভ কর্মসূচি। দাবিগুলো প্রশাসন মেনে নিয়েছে। দ্রুত এগুলো বাস্তবায়ন করা হবে বলে তারা আশাপ্রকাশ করেন।

আন্দোলনরত ছাত্রীদের অভিযোগ— হলের প্রতিটি কক্ষ থেকে ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম (রাইস কুকার, হিটার) আগামী সাত দিনের মধ্যে সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন হল প্রাধ্যক্ষ। কিন্তু ছাত্রীরা এটা করতে রাজি নন। এ নিয়ে বিভিন্ন মিটিংয়ে ছাত্রীদের মা-বাবা তুলে কথাও বলেছেন প্রাধ্যক্ষ। তিনি ছাত্রীদের ভয়-ভীতি দেখান ও হুমকি দেন। ছাত্রীরা ভয়ে এর প্রতিবাদ করতে পারেন না। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া নিয়েও ছাত্রীদেরকে হয়রানি করে হল প্রশাসন। কোনো বিষয়ে অভিযোগ করলেও তার সমাধান করে না। এমনকি হল নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নও করা হয় না।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হলের তালা ভেঙে বেরিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন অপরাজিতা হলের আবাসিক ছাত্রীরা। এসময় তারা হল প্রাধ্যক্ষের বাজে আচরণ ও হুমকিরও প্রতিবাদ জানান। ‘হল আমাদের অধিকার, সুযোগ নয়’, ‘প্রভোস্ট কই, প্রভোস্ট কই, প্রভোস্টকে আসতে হবে’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন ছাত্রীরা। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ছাত্রীরাও। দুটি আবাসিক হলের ছাত্রীরা প্রথমে অপরাজিতা হলের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। রাত প্রায় ১২টার দিকে সেখান থেকে মূল ক্যাম্পাসে আসেন তারা। অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বরে। বিক্ষোভে অংশ নেন অপরাজিতা ও বঙ্গমাতা হলের অন্তত পাঁচ শতাধিক ছাত্রী। মধ্যরাতে ছাত্রীদের বিক্ষোভ-স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

পূর্বপশ্চিম/ম

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close