• রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯
  • ||

সনদ জালিয়াতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় ওলামা লীগ নেতার ছেলে আটক 

প্রকাশ:  ১৩ আগস্ট ২০২২, ২২:০৬
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে গুচ্ছ পদ্ধতিতে বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার দিনে সনদ ও পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে আটক হয়েছে মাহবুব হাসান নামের এক শিক্ষার্থী। নিজেকে কেন্দ্রীয় ওলামা লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহীম পীরের সন্তান বলে দাবি করেন আটক হওয়া শিক্ষার্থী। এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে ওলামা লীগ নেতা নিজেই।

শনিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সামজিক বিজ্ঞান অনুষদের ৬০১ নং কক্ষ থেকে সন্দেহজনক অবস্থায় তাকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমান আদালতে নিয়ে গেলে অভিযোগ এবং অপরাধের ব্যাপ্তি বেশী ও তদন্তের প্রয়োজনে তা সাধারণ মামলা হিসেবে পরিচালনা করতে পরামর্শ দেন ভ্রাম্যমান আদালত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই অভিযোগ দায়ের করে ত্রিশাল মডেল থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অর্ধ ডজনের অধিক জাতীয় পরিচয়পত্রসহ ভুয়া সনদ, সিভি, রেজিস্ট্রেশন কার্ড আটক হওয়া শিক্ষার্থীর থেকে উদ্ধার করে প্রশাসন। সনদ জালিয়াতির অভিযোগ স্বীকার করেছে আটক হওয়া শিক্ষার্থী পরিচয় দেয়া মাহবুব হাসান। আটক হওয়া এই শিক্ষার্থীর বাড়ি শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলার ছোট মালিঝিকান্দা গ্রামে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভিন্ন ভিন্ন তথ্য ও পরিচয় দিচ্ছিলেন এই অভিযুক্ত।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদে স্নাতক পাসের সন হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ২০১৯ সাল। অন্যদিকে এইচ এস সি পাশের সনের জায়গায় একটিতে ২০১৯ এবং অন্য একটিতে ২০২০ উল্লেখ রয়েছে। তবে অভিযুক্তের পিতার দেয়া তথ্য মতে তার ছেলে মাহবুব হাসান দুই থেকে তিন বছর আগে এইচ এস সি পাশ করেছে। পিতার দেয়া তথ্য সঠিক হলে মাহবুব হাসানের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সুযোগ থাকে না।

তবে এটিকে অপরাধ হিসেবেই দেখছে প্রশাসন। এছাড়া আদালত চলাকালীন সময়ে কিছু ডকুমেন্ট সরিয়ে ফেলার তথ্যও এসেছে। যার সত্যতা পাওয়া গেছে সেসময় উপস্থিত থাকা একাধিক সূত্রের মাধ্যমে।

সন্তানের নামে এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওলামা লীগ নেতা আব্দুর রহীম পীর বলেন, আমার ছেলেকে সেইভ করেন। ওর সব ঠিক আছে। আমার ছেলেকে হেফাজত করেন আল্লাহ আপনাদের ভালো করবে। আমার অবস্থা সামনে ভালোর দিকে যাচ্ছে দোয়া করেন এমন তথ্য ছড়িয়েন না । আল্লাহ সইবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন, জালিয়াতির কিংবা অনৈকতার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় অধিকতর তদন্তের জন্যে সাধারন মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তার অপরাধের আওতাবৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকায় সাধারণ ডায়েরি করা হচ্ছে।জব্দকৃত ভুয়া দলিলাদি সহ জিনিসপত্র থানা কতৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। পাশাপাশি মামলা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

অসদুপায়ে পরীক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, ভর্তি পরীক্ষা সুন্দর গোছালো ভাবে হয়েছে। আমরা হ্যাপী। একজন আটক হয়েছে। আইন অনুযায়ি ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমার প্রশাসন স্বচ্ছ কোন অসংলগ্নতা পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, বি ইউনিটের (মানবিক শাখা) গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন পড়ে ৭ হাজার ৭৮৩ জনের। পরীক্ষায় অংশ নেয়নি ৭০১ জন। পরীক্ষায় উপস্থিতির হাড় ৯১ শতাংশ । বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি অনুষদের ১২৫ টি কক্ষে পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পূর্বপশ্চিম- শর্মিষ্ঠা/ এনই

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close