• বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯
  • ||

অবৈধ বাসভবনে ভরে গেছে ক্যাম্পাস, উদাসীন প্রশাসন

প্রকাশ:  ৩১ জুলাই ২০২২, ২৩:৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকিছু এলাকায় স্থায়ী বাড়ি বানিয়ে বসবাস করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা। ‘মানবিক দৃষ্টিকোণ’ থেকে তাঁদের অস্থায়ী বাসা বানিয়ে থাকার কথা বলা হলেও পাকা ঘরবাড়ি করে স্থায়ী আবাস গড়েছেন তাঁরা। এমনকি এসব বাসা বহিরাগতদের কাছে ভাড়াও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কর্মচারীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বানানো কোয়ার্টারগুলো খালি পড়ে আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রাঙ্গামাটি, কলাবাগান ও বিশমাইল এলাকায় স্থায়ী বসতি করে থাকছে প্রায় ৬৫০ টি পরিবার। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের এসব বাসায় একেকটি পরিবারের গড়ে কমপক্ষে ৩-৪ টি পাকা, টাইলস করা রান্নাঘর ও শৌচাগার রয়েছে। কেউ কেউ গড়ে তুলেছেন গবাদি পশুর খামারও, কেউ করছেন দোকান। অবসরপ্রাপ্ত অনেক কর্মচারীর পরিবারও সেখানে বসবাস করছেন।

জানা গেছে, ক্যাম্পাস শুরুর দিকে আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় বলে কর্মচারীদের রাঙ্গামাটি এলাকায় প্রশাসনের মৌখিক সম্মতিতে থাকতে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই এলাকা এবং কলাবাগানে কর্মচারীদের স্থায়ী বসতি গড়ে ওঠে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার ডেপুটি রেজিস্টার আবদুর রহমান বাবুল বলেন, ‘তাঁদের এভাবে বাসস্থান তৈরি করে থাকা অবৈধ। আমরা কোনো অনুমতিপত্র দিইনি। তাঁদের জন্য বরাদ্দকৃত কোয়ার্টারগুলো প্রায় ২-৩ বছর ধরে খালি পড়ে আছে। আমরা বার বার বিজ্ঞপ্তি দিয়েও কোয়ার্টারের জন্য কোনো আবেদন পাচ্ছি না।’

তবে কর্মচারীরা তাদের নামে বিদ্যুতের সংযোগ ও বিদ্যুৎ বিলের কাগজকে স্থায়ী বসবাসের বৈধতার দলিল হিসেবে বিবেচনা করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম হাওলাদার বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ বৈধ। বৈধ বলেই আমাদের প্রতি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের মিটার দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিমাসে আমাদের বেতন থেকে বিদ্যুৎ বিল কেটে নেওয়া হয়।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাড়িগুলোতে দেওয়া বিদ্যুৎ সংযোগ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড দেয়নি বলে দাবি করেছেন বোর্ডের সদস্যরা।

এ বিষয়ে সাভারের শিমুলতলা পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের জুনিয়র প্রকৌশলী মোঃ সুজন রানা বলেন, ‘জমির প্রকৃত মালিকের চাহিদা অনুযায়ী তার নামে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে থাকি আমরা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের রাঙামাটি ও কলাবাগানের মিটারগুলোর সংযোগ সরাসরি আমরা দিইনি, এ বিষয়ে আমাদেরকে কিছু জানানো হয়নি। আমরা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার মিটার থেকে মোট বিলটি গ্রহণ করি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যুতের এই সংযোগগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল মিটার থেকে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অফিসের বৈদ্যুতিক শাখার উপ-প্রধান শামসুল হক মৃধা বলেন, ‘এস্টেট অফিস থেকে কর্মচারীদের বাসস্থানে মিটারের চাহিদার প্রেক্ষিতেই আমরা সংযোগ দিয়েছি। কার অনুমতিক্রমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে তা আমি জানি না।’ এ সম্পর্কে রেজিস্টারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

কর্মচারীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কর্মচারীদের জন্য যেসব কোয়ার্টার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সেগুলো খুব ছোট। পরিবার নিয়ে থাকার উপযোগী নয়। এ ছাড়া কোয়ার্টারে থাকলে বেতনের বেশিরভাগই চলে যায়। তাই ঋণ নিয়ে তারা স্থায়ী বাড়ি বানিয়ে থাকছেন। একেকটি বাড়ি বানাতে তাঁদের ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মচারীদের জন্য আবাসনের পরিকল্পনা রয়েছে কিন্তু তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ওই ভবনগুলো তৈরি হলেও তাতে উঠতে আগ্রহী নয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সমিতির সাধারণ সভাপতি মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, ‘অনেকেই ঋণ নিয়ে বাড়ি তৈরি করেছে, বাড়ি ভাড়াও বেতনের প্রায় ৫৫ শতাংশ। তাই অনেকেই যাবে না (নতুন কোয়ার্টারে উঠবে না) তবে কিছু পরিবার ভালো পরিবেশ পেলে যেতে পারে।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক রেজিস্টার রহিমা কানিজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এআই

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়,অবৈধ আবাসন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close