• বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯
  • ||

‌‘নামাজ না পড়ায়’ রাবি ছাত্রকে ছুরিকাঘাত

প্রকাশ:  ১০ মার্চ ২০২২, ১৬:০৭
রাবি প্রতিনিধি

নামাজ না পড়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতে আহত করার ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (১০ মার্চ) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা আমজাদের মোড়ের এনআর ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত শিক্ষার্থীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আহত শিক্ষার্থী সাফ্ফাত নাঈম নাফি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, নাফির বন্ধু শরিফ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন ধরমপুরের এনআর ছাত্রাবাসে থাকেন। ওই ছাত্রাবাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ইচ্ছুক কিছু শিক্ষার্থীও থাকে। নামাজ পড়ার বিষয়ে কথাকাটাটির জেরে শরিফকে হুমকি-ধমকি দেয় ওই শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে নাফিসহ ৭-৮ জন এনআর ছাত্রাবাসে আসেন মীমাংসার জন্য। মীমাংসার শেষ পর্যায়ে বাইরে থেকে ৪-৫ জন ব্যাক্তি উচ্চস্বরে গেট লাগানোর কথা বললে, নাফিসহ কয়েকজন গেটের কাছে যায়। এসময় তারা অতর্কিতভাবে ছুরিকাঘাত করে জখম করে নাফিকে। এসময় ভিতরে থাকা বাকিরা বাইরে আসলে তাদের সঙ্গেও সংঘর্ষ বেধে যায় দুর্বৃত্তদের।

এক পর্যায়ে ভার্সিটির ছাত্ররা অবস্থা বেগতিক দেখে চিৎকার করে দ্রুত এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। তখন আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরাও এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে নাফিকে উদ্ধার করে রাবি মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে পরে রাজশাহী মেডিকেল হসপিটালের ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি রামেকের ৪ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে, রামেক হসপিটালের ইমার্জেন্সি বিভাগে কোনো ডাক্তার না থাকায় রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কোনো চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ করেন নাফির সহপাঠীরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আসাবুল হক বলেন, নামাজ না পড়াকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে মেসের কয়েকজন জুনিয়রের ঝামেলা হয় বলে জেনেছি। এ নিয়ে রাতে মেসে মীমাংসা বৈঠকও হয়। মীমাংসায় মেস মালিকও ছিলেন। মেসটিতে থাকলে নামাজ বাধ্যতামূলক। নাফি মসজিদে গিয়ে নামাজ না পড়া থেকে ঝামেলার সূত্রপাত হয়। রাতে বৈঠকের পর তাকে বহিরাগত কয়েকজন মেসে গিয়ে ছুরিকাঘাত করে আহত করে। তবে আহত শিক্ষার্থী অবস্থা জটিল হওয়ায় তার কাছ থেকে ঘটনার সঠিক ব্যাখ্যা জানা যায়নি।

এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলী তুহিন বলেন,আমরা এখনো লিখিত অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কিছু করতে পারবো না। আমরা আমাদের মত করে দেখছি বিষয়টা।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএ/জেএস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close