• বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯
  • ||

কুয়েটের শিক্ষকের মৃত্যু, লাঞ্ছনার অভিযোগ অস্বীকার ছাত্রলীগের

প্রকাশ:  ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮:১৪
কুয়েট প্রতিনিধি

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে একটি ‘কুচক্রী মহল’ নোংরা রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ছাত্রলীগ। শিক্ষককে লাঞ্ছনা ও হুমকিকে বানোয়াট উল্লেখ করে এ অভিযোগকে ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন অপপ্রয়াস বলে উল্লেখ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এসব বিষয় জানায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপগণযোগাযোগ ও তথ্য সম্পাদক জামিউর রহমান, সহসম্পাদক আহসানুল আবেদীন, উপপাঠাগার সম্পাদক মাহমুদুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি (কুয়েট) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস বিভাগের অধ্যাপক সেলিম হোসেনের অকালমৃত্যুতে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা গভীরভাবে শোকাহত। সেলিম হোসেন ১১ মাস আগে কুয়েট লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষের দায়িত্ব পান। যখনই কোনো নতুন প্রাধ্যক্ষ নিয়োগ পান, তখন ছাত্রকল্যাণ কমিটির পক্ষ থেকে প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে হলের ফাইনাল ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।’

সাদমান নাহিয়ান ওই দিন অধ্যাপক সেলিম হোসেনের সঙ্গে দেখা করার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিতি হওয়া এবং হলের নানা কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানানোর জন্য মঙ্গলবার দুপুর ১২টার সময় প্রাধ্যক্ষ নিজ কার্যালয়ে একটি মিটিং নির্ধারণ করেন। ক্লাস শেষ করে পূর্বনির্ধারিত মিটিংয়ে যোগ দিতে শিক্ষার্থীদের আনুমানিক ৪০ মিনিট বিলম্ব হয়। পরে পথে প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা হয় এবং তাঁকে বিলম্বের কারণ জানানো হয়। তখন তিনি আমাদের তাঁর কার্যালয়ে আসতে বলেন। এরপর প্রাধ্যক্ষ তাঁর কার্যালয়ে তালা খুললে শিক্ষার্থীরা তাঁর অনুমতি সাপেক্ষে ভেতরে প্রবেশ করে।

সংবাদ সম্মেলনে কুয়েট ছাত্রলীগ নেতা বলেন, সব শিক্ষার্থীর স্থান সংকুলান না হওয়ায় প্রাধ্যক্ষ সেলিম হোসেন সিনিয়রদের ভেতরে বসতে এবং জুনিয়রদের কিছুক্ষণ বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন। সিনিয়রদের সঙ্গে তাঁর শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর তিনি বাইরে অপেক্ষমাণ ছাত্রদের ডেকে ভেতরে আনেন। এ সময় তিনি তাঁদের বলেন, ‘আমার তো আড়াইটায় ল্যাবে কাজ আছে। আমি সন্ধ্যায় হলে গিয়ে তোমাদের সঙ্গে পরিচিত হব।’ এরপর তিনি বিদায় নিয়ে বের হন।

সাদমান নাহিয়ান আরও বলেন, আমরা জানি না শিক্ষক সেলিম হোসেনের মৃত্যুর সঠিক কারণ কী। তবে মৃত্যুসনদ অনুসারে জেনেছি, তিনি স্ট্রোকের কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি হলের অভিভাবক। হলসংক্রান্ত কথাগুলোতে তাঁর কাছে পেশ করার জন্যই তো আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। আমাদের এই দেখা করাটাকেই কেন্দ্র করে একটা পক্ষ আমাদের অপরাধী বানানোর চেষ্টা করছে। তারা শুধু অপরাধী বানানোর চেষ্টাই করছে না, বিবৃতি পর্যন্ত দিচ্ছে। উপাচার্য বরাবর দাবি জানাচ্ছি দেখা করার ফুটেজ দেখেই আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’

শিক্ষক সেলিম হোসেনের মৃত্যুকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার সঙ্গে জড়িত কারা, এমন প্রশ্নের জবাবে সাদমান নাহিয়ান বলেন, ‘প্রথমত এখানে অনেকগুলো সংগঠনই তাদের মতো করে রাজনীতি করছে। শিক্ষকদের একটা অংশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের একটা অংশ ও শিক্ষার্থীদের একটা অংশ আছে। প্রত্যেকে ব্যক্তিগত কিছু স্বার্থের জায়গা থেকে এগুলো করছে। সামনে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন, কর্মকর্তাদের সংগঠনের নির্বাচন। এ জন্য তারা সবাই সবার জায়গা থেকে এটাকে ইস্যু বানিয়ে কথা বলছে। একই সঙ্গে আমাদের সংগঠনের অন্য অংশের কিছু নেতা-কর্মী এবং ভিন্ন মতাদর্শের কিছু শিক্ষার্থীও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি (কুয়েট) শাখা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, আমরা তদন্তের বিপক্ষে নই। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই। দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা ঠিক নয়।

এদিকে, মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামাী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শুক্রবার বিকেল চারটার মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হল ত্যাগের এই নির্দেশে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

পূর্বপশ্চিম- এনই

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,কুয়েট,ছাত্রলীগ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close