• বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
  • ||

স্কুলে অভিভাবক-শিক্ষক সমিতির ভূমিকা খুবই কম: জরিপ

প্রকাশ:  ২৪ নভেম্বর ২০২১, ২০:৫৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

শহরে প্রান্তিক এলাকার শিশুদের স্কুল থেকে ঝড়ে পড়া রোধে এবং তাদের জন্য উন্নতমানের শিক্ষা নিশ্চিতে প্রয়োজন স্কুলে সুশাসন, আর্থিক সহায়তায় স্বচ্ছতা, উন্নয়ন প্রকল্প এবং বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ। সাম্প্রতিক এক জরিপ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বুধবার (২৪ নভেম্বর) ‘রিডিউসিং স্কুল ড্রপআউট ইন আরবান স্লামস অব বাংলাদেশ: ইমপ্যাক্ট অব কোভিড-১৯’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। ‘রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কালেক্টিভ (আরডিসি) এর সহায়তায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪০টি স্কুলে এবং ৬৭৩টি গৃহস্থালিতে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীর মধ্যে ডিসেম্বর ২০২০ থেকে মার্চ ২০২১ পর্যন্ত জরিপ চালিয়ে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।

জরিপে দেখা গেছে যে, গবেষণায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি স্কুলেই স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকলেও অভিভাবক-শিক্ষক সমিতি রয়েছে তাদের ২৭.৫ শতাংশের এবং স্কুল কেবিনেট রয়েছে ৫৭ শতাংশের।

গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কালেক্টিভের সভাপতি ড. মেসবাহ কামাল। তিনি বলেন, ‘এই জরিপমতে, অংশীদাররা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিশু, বিশেষ করে প্রান্তিক এলাকার মেয়েশিশুদের ঝরে পড়ার উচ্চ হার সম্পর্কে সচেতন। তবুও তারা মনে করেন না যে, এই হার চিহ্নিত ও প্রতিরোধে তাদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করা জরুরি। ঝরে পড়া প্রতিরোধে তারা সাধারণ স্কুল-ভিত্তিক উদ্যোগের সুপারিশ জানান। অংশীদারদের মতে, বাসায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা দেখভাল করার দায়িত্ব প্রাথমিকভাবে অভিভাবকদের। তারা আরও মনে করেন, স্কুল শিক্ষক এবং অভিভাবকদের উচিত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুলে যাওয়া এবং পড়াশোনা নিশ্চিত করা। জরিপে অংশগ্রহণকারী অংশীদারদের মতে, স্কুল থেকে শিশুদের ঝরে পড়া প্রতিরোধে শিক্ষক এবং অভিভাবকের নজরদারি প্রয়োজন।’

এই জরিপের আরও জানা যায়, শিশুর পড়াশোনা নিশ্চিতে স্কুলে অভিভাবক-শিক্ষক সমিতির ভূমিকা আশা করা হলেও বিদ্যমান দায়িত্ব ও ভূমিকা খুবই কম। এই জরিপের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যমতে, স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি স্কুলের অধিকাংশ বিষয়ের দেখভাল করেন এবং স্কুলের বিষয়ে অন্য অংশীদারদের প্রভাব প্রত্যাশা করে না। অংশীদাররা আরও জানান যে, অভিভাবক-শিক্ষক মিটিংয়ে এবং স্কুলের বিষয়ে অভিভাবকরা প্রায়ই আগ্রহী থাকেন না।

জরিপে দেখা গেছে, দীর্ঘকালীন স্কুল বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি তাই স্কুলগুলোর নিজেদেরও শিক্ষার্থীদের এই ক্ষতিপূরণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করতে হবে। প্রতিকারমূলক শিক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিতে কাজ করতে হবে, যেন শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনায় পুনরায় ফিরে যেতে পারে।

গবেষণা প্রতিবেদন মতে, স্কুল পুনরায় চালু হওয়ার ফলে, আর্থিক সহায়তা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান জরুরি। সকল শিক্ষার্থী যেন স্কুলে ফিরে আসে— তা নিশ্চিত করতে স্কুলকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করেন জরিপে অংশগ্রহণকারীরা। স্কুলের বকেয়া বেতনসহ অন্যান্য ফি এর বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে মত দেন তারা।

প্রতিবেদন পরিবেশনকালে অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল ঝরে পড়া রোধে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা পালনের গুরুত্ব প্রকাশ করেন এই গবেষণার সুপারিশে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘করোনা আমাদের সামনে এক নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। এধরনের পরিস্থিতির জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন না। কিন্তু আমরা চেষ্টা করেছি, যত দ্রুত সম্ভব সাড়া প্রদানে। স্কুল বন্ধের এক সপ্তাহের মধ্যেই সংসদ টিভি ক্লাসরুম ও অনলাইন ক্লাসরুমের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে গিয়েছি। প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ছিল। আমরা লক্ষ্য রাখছি, যেন সামনে এধরনের পরিস্থিতির জন্য আমাদের আরও জোরালো প্রস্তুতি থাকে।’

স্বাগত বক্তব্যে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সেন্ট্রাল অ্যান্ড নর্দান রিজিওন প্রধান আশিক বিল্লাহ জানান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক ও স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির মধ্যে অন্তত প্রতি তিন মাসে বিদ্যালয় পরিচালনা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘বস্তিতে বসবাসরত এবং গ্রামীণ জনপদে যেসব শিশু হতদরিদ্র পরিবারে বসবাস করে, তাদের স্কুল ফি মওকুফ করা প্রয়োজন। কারণ করোনার ফলে তাদের পরিবারের রোজগার অনেকাংশেই কমেছে। শিশু সুরক্ষা নিশ্চিতে আমাদের সমন্বিতভাবে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।’

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক, মানিক কুমার সাহা’র সঞ্চালনায় এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত— অপরাজেয় বাংলাদেশের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ওয়াহিদা বানু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দা তাহমিনা আক্তার।

আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন— ইউনিসেফ বাংলাদেশ-এর শিক্ষা কর্মকর্তা নিশাত নাজমী এবং সুরভি’র নির্বাহী পরিচালক আবু তাহের।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

শিক্ষক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ঘটনা পরিক্রমা : শিক্ষক

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close