• বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৩ কার্তিক ১৪২৮
  • ||

প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত যে পরিবর্তন আসছে

প্রকাশ:  ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৫৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এই নতুন পরিবর্তনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- পরীক্ষার সংখ্যা কমানো। একইসঙ্গে পাঠ্যক্রমে কার্যকলাপভিত্তিক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

এছাড়া নবম-দশম শ্রেণিতে কোনো বিভাগ থাকছে না, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত অভিন্ন বই, দশমে গিয়ে শুধু দশম শ্রেণির ওপর পাবলিক পরীক্ষা, একাদশ ও দ্বাদশে দুটি পাবলিক পরীক্ষা ও পিইসি-জেএসসির উল্লেখও নেই এতে।

শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাক্রম পেতে যাচ্ছে ২০২৩ সাল থেকে। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষাক্রম পুরোপুরি চালু হবে ২০২৫ সালের মধ্যে। নতুন শিক্ষাক্রমে রয়েছে ভিন্নতা। রয়েছে বড় পরিবর্তন। শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ধারাবাহিক মূল্যায়নের প্রতি জোর দেয়া হয়েছে এই শিক্ষাক্রমে।

বর্তমানে সব শ্রেণিতেই ধারাবাহিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হয়। নতুন কারিকুলামে বেশ কিছু পরীক্ষা তুলে দেয়া হলেও তাদের মেধার মূল্যায়নে কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। পরে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষাক্রম রূপরেখার বিস্তারিত তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০২৫ সাল থেকে নতুন প্রণীত জাতীয় শিক্ষাক্রম পুরোপুরিভাবে কার্যকর করা হবে। তবে তার আগে আগামী বছর থেকে প্রাথমিকের প্রথম শ্রেণি ও মাধ্যমিকের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পাইলটিং শুরু হবে। ২০২৩ সাল থেকে প্রাথমিকের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে শুরু হবে নতুন শিক্ষাক্রম। ২০২৪ সালে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম ও নবম শ্রেণি এবং ২০২৫ সালে পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে এ শিক্ষাক্রম শুরু হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে পুরো শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

শিক্ষাব্যবস্থায় যেসব পরিবর্তন আসছে

তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত থাকছে না পরীক্ষা : খসড়া রূপরেখা অনুযায়ী প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো বার্ষিক পরীক্ষা থাকছে না। খুদে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হতে হবে না। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়েই ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে। এরপর চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীতে শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে ৬০ শতাংশ আর ৪০ শতাংশ মূল্যায়ন হবে ক্লাস শেষে পরীক্ষার মাধ্যমে। এটিকে রূপরেখায় ‘সামষ্টিক মূল্যায়ন’ বলা হচ্ছে।

পিইসি-জেএসসির মূল্যায়ন : শিক্ষামন্ত্রী বলেন- প্রাথমিক ও অষ্টম শ্রেণিতে পাবলিক পরীক্ষা রাখা হয়নি। কারণ আমরা সনদের জন্য শিক্ষা নয়, পারদর্শিতা নিশ্চিত করতে চাই। সনদ দেয়ার জন্য পাবলিক পরীক্ষার দরকার নেই।

নবম-দশমে নেই বিভাগ বিভাজন : নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরই শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের যেকোনো একটিতে যেতে হতো। তবে নতুন প্রণীত জাতীয় শিক্ষাক্রমে এ বিভাজন থাকছে না। নবম ও দশম শ্রেণিতে সব শিক্ষার্থীকে অভিন্ন ১০টি বিষয় পড়তে হবে। দশম শ্রেণির আগে কোনো পাবলিক পরীক্ষাও নেয়া হবে। একেবারে দশম শ্রেণির পর এসএসসি নামে পাবলিক পরীক্ষা হবে, তবে তা হবে শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে। এখন নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে পাবলিক পরীক্ষা হয়।

ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত অভিন্ন ১০ বিষয় : খসড়া শিক্ষাক্রম অনুযায়ী ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে ১০টি অভিন্ন বিষয়ে পড়ানো হবে। এরপর একাদশ শ্রেণিতে গিয়ে শাখা পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হবে। বর্তমানে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কিছু অভিন্ন বই পড়তে হয় এবং নবম শ্রেণিতে গিয়ে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষায় ভাগ করা হয়। নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত যে ১০ বিষয়ে পড়ানো হবে সেগুলো হলো- বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সামাজিক বিজ্ঞান, জীবন ও জীবিকা, ধর্ম, স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি। বর্তমানে এসব শ্রেণিতে ১২ থেকে ১৪টি বই পড়ানো হয়।

একাদশ ও দ্বাদশে পাবলিক পরীক্ষা : আগের মতো একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি শেষ করার পর এইচএসসি ও সমমানের পাবলিক পরীক্ষা নেয়া হবে না। একাদশ শ্রেণিতে বছর শেষে একটি ও দ্বাদশে আরেকটি পরীক্ষা নেয়া হবে। এ দুইটিই হবে পাবলিক পরীক্ষা। দুই পাবলিক পরীক্ষার ফল মূল্যায়ন করে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। এ ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ পরীক্ষাভিত্তিক ও ৩০ শতাংশ ক্লাস মূল্যায়ন করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘২০২৩ সাল থেকে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর আদর্শিক বিষয়গুলোর ওপর শিখন জ্ঞানের ৩০ ভাগ ও সামষ্টিক মূল্যায়নে ৭০ ভাগ নম্বর মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে। তার ভিত্তিতে পাবলিক পরীক্ষায় ৭০ শতাংশ আর শিখন জ্ঞানের ওপর ৩০ শতাংশ নম্বর দেয়া হবে। ঐচ্ছিক বিষয়ে শিখন জ্ঞানের ওপর শতকরা শতভাগ নম্বর দেয়া হবে। প্রকল্পভিত্তিক মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে প্রতি বছর শেষে একটি করে পরীক্ষা দিতে হবে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির দুই পরীক্ষা শেষে উভয় স্তরের নম্বর মূল্যায়ন করে এইচএসসির চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে হবে।’

নতুন এ জাতীয় শিক্ষাক্রমের মূল লক্ষ্য পড়াশোনাকে আনন্দময় করে তোলা। একইসাথে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর থেকে ঝরে পড়া কমানো। শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগ পাঠগ্রহণ শেষ করতে পারা নিশ্চিত করা, পুরো শিক্ষাক্রম হবে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক।

এ প্রসঙ্গে দীপু মনি বলেছেন, আনন্দময় পড়াশোনা হবে। বিষয়বস্তু ও পাঠ্যপুস্তকের বোঝা ও চাপ কমানো হবে। গভীর শিখনে গুরুত্ব দেয়া হবে। মুখস্থ নির্ভরতার বিষয়টি যেন না থাকে, এর বদলে অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রমভিত্তিক শেখাকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীর দৈহিক ও মানসিক বিকাশে খেলাখুলা ও অন্যান্য কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ক্লাস শেষে যেন শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো সময় কাটাতে পারে। পড়াশোনার বাইরে খেলাধুলা বা অন্যান্য বিষয়ের সুযোগ কমে গেছে, এটি যেন না হয়। জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

শিক্ষক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ঘটনা পরিক্রমা : শিক্ষক

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close