• রোববার, ০৯ মে ২০২১, ২৬ বৈশাখ ১৪২৮
  • ||

১৩তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণে আর কোনো বাধা নেই

প্রকাশ:  ২৯ এপ্রিল ২০২১, ২৩:০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষকদের বেতননির্ধারণী সফটওয়্যারের ত্রুটির কারণে বেতন বোনাস প্রাপ্তিতে বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছিল। এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সারা দেশের শিক্ষকদের মধ্যে। অবশেষে ১৩তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণে কোনও শিক্ষকের বাধা থাকলো না। বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়্যারে সবার বেতন ফিক্সেশন করার অপশন যুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, আজ থেকে আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়্যারে সবাই বেতন ফিক্সেশন করতে পারছেন শিক্ষকরা। শিক্ষাগত যোগ্যতা কম থাকা এবং তৃতীয় শ্রেণির সনদধারীদের সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ১৩তম গ্রেডে উন্নীত করা হয়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘আইবাস ++’ সংযুক্ত করা হয়। এরপর জেলা, উপজেলা ও ডিডিও আইডি থেকে বেতন নির্ধারণের সুযোগ দেয়া হয়। সফটওয়্যারে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রির চেয়ে কম শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকদের উন্নীত স্কেলের বেতন নির্ধারণের অপশন সংযোজনের জন্য আইবাস++ প্রকল্প দফতরকে পত্র দেয়া হয়েছে। অপশন সংযোজন করার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। এরপরও মাঠপর্যায়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস শিক্ষকদের উন্নীত বেতন স্কেলে বেতননির্ধারণ সম্পন্ন করেনি। এ কারণে সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ কার্যক্রম আগামী ১০ মে’র মধ্যে জরুরিভিত্তিতে সম্পাদন করতে মাঠ পর্যায়ে কর্মপরিকল্পনা পাঠানো ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। ব্যর্থহীনভাবে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মোহম্মদ মনসুরুল আলম স্বাক্ষরিত আদেশ জারি করা হয়।

আদেশে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল গত বছর ৯ ফেব্রুয়ারি ১৩তম গ্রেডে উন্নীত করা হয়। এ সংক্রান্ত অপশন আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়ারে চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে সংযুক্ত করে জেলা/উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসারের ডিডিও আইডি থেকে বেতন নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হয়। সফটওয়ারে স্নাতক ও স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রির চেয়ে কম শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষকদের উন্নীত স্কেলে বেতন নির্ধারণের অপশন সংযোজনের জন্য ইতোমধ্যেই আইবাস প্লাস প্লাস প্রকল্প দফতরকে পত্র প্রদান করা হয়েছে এবং সহসা তা সংযোজিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে অধিকাংশ উপজেলা শিক্ষা অফিস কর্তৃক সহকারী শিক্ষকদের বর্ণিত উন্নীত স্কেলে বেতন নির্ধারণ কার্যক্রম অদ্যাবধি সম্পন্ন হয়নি। এর ফলে শিক্ষকরা আর্থিকভাবে ক্ষত্রিগ্রস্ত হচ্ছেন মর্মে জানা যায়।

এমতাবস্থায় ওই কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সমাপনের জন্য মাঠ পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর জন্য সময়বদ্ধ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।

১. আগামী ২৮ এপ্রিলের মধ্যে শিক্ষকদের নাম বিদ্যালয়ের নাম, যোগদানের তারিখ, জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, বর্তমান বেতন স্কেল ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বরের আগে প্রাপ্ত টাইম-স্কেল/উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির সংখ্যা ও প্রাপ্তির তারিখ ছকে সংকলিত করে অন্যান্য প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র স্ব স্ব জেলা/উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে প্রেরণপূর্বক প্রাপ্তি স্বীকার গ্রহণ করতে হবে।

২. আগামী ২৯ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত জেলা/উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের মাধ্যমে উন্নীত স্কেল বেতন নির্ধারণ কার্যক্রম শেষ করতে হবে।

৩. আগামী ৬ মে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্ণিত বেতন নির্ধারণ কার্যক্রম সম্পাদনে কোনও সমস্যা হলে তার উল্লেখসহ কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে কতজন শিক্ষকের বেতন উন্নীত স্কেলের নির্ধারণ করা হয়েছে এবং কতজনের হয়নি তা প্রতিবেদন আকারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক অফিসারের নিকট দাখিল করতে হবে।

৪. আগামী ৮ মে’র মধ্যে উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদি সংকলন করে জেলাভিত্তিক বিস্তারিত প্রতিবেদন স্ব স্ব বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়ে পাঠাতে হবে।

৫. আগামী ১০ মে’র মধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নিকট থেকে প্রাপ্ত জেলাভিত্তিক বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালকের (অর্থ) নিকট পাঠাতে হবে।

আদেশে আরও বলা হয়, নির্ধারিত এই সময়সীমার মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১৩তম গ্রেডে নির্ধারণ কার্যক্রম বিনা ব্যর্থতায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (অর্থ) বরাবর হার্ড কপি ডাক যোগে এবং সফট কপি [email protected] ইমেইলে পাঠাতে হবে আগামী ১০ মের মধ্যে পাঠাতে হবে।

গত ১৭ এপ্রিল অর্থ বিভাগের পাঠানো চিঠিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ জটিলতা নিরসনে স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রির চেয়ে কম শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ অপশন আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়্যারে সংযোজন করার অনুরোধ জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ২০১৯ সালের বিধিমালার আলোকে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণে নির্দেশনা রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুধু স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রিধারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের জন্য আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়্যারে প্রয়োজনীয় অপশন যুক্ত করা হয়। কিন্তু ২০১৯ সালের নিয়োগ বিধিমালা জারি আগে যেসব শিক্ষকরা কম শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে শিক্ষকতায় প্রবেশ করেন। সেই কারণে ১৯৮৩, ১০৯১ এবং ২০১৩ সালের বিধিমালার আওতায় নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা কম যোগ্যতা এবং তৃতীয় শ্রেণি থাকার কারণে বেতন নির্ধারণ করতে পারছিলেন না।

অর্থ বিভাগকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ১৯৯৩, ১০৯১ এবং ২০১৩ এর আওতায় নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়ে কোনও স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাত বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রির চেয়ে কম শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বর্তমানে কর্মরত আছেন। ১৩তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণে তাই সম্ভব হচ্ছে না।

এমতাবস্থায় যেসকল সহকারী শিক্ষক ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ১৯৯৩, ১০৯১ এবং ২০১৩ এর আওতায় নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়ে কম যোগ্যতা নিয়ে কর্মরত আছেন তাদের ১৩তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের জটিলতা নিরসনে আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়্যারে প্রয়োজনীয় অপশন সংযোজন করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনবৈষম্য নিরসনের দাবি দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে প্রধান শিক্ষকদের সাথে সহকারী শিক্ষকদের ৩ গ্রেড বেতনবৈষম্য নিয়ে সহকারী শিক্ষকরা ২০১৩ সাল থেকে আন্দোলন করে আসছেন। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও তাদের বৈষম্য নিরসনের দাবি স্থান পায়। জাতীয় নির্বাচনের পরপর নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে শিক্ষকরা আবারো আন্দোলন শুরু করলে সরকার প্রাথমিকভাবে বৈষম্য কিছুটা কমাতে সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করে।

আরো পড়ুন: মে মাসেই শিক্ষক নিয়োগ, আবেদনের সময় আর বাড়ছে না

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

শিক্ষক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ঘটনা পরিক্রমা : শিক্ষক

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close