• রোববার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১০ মাঘ ১৪২৭
  • ||

যে কারণে আটকে গেছে শত শত বেসরকারি শিক্ষকের উচ্চতর বেতন স্কেল

প্রকাশ:  ২৩ নভেম্বর ২০২০, ২০:৩৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

বরগুনার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে প্রায় ১৫ বছর কর্মরত গোলাম রহমান সিকদার। ২০০৮ সালে বেসরকারি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক বছরের বিএড কোর্স সম্পন্ন করার পর মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন শেষে দশম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। সম্প্রতি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষকদের বেতন স্কেল আপগ্রেডেশন করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আবেদন চাওয়া হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা শিক্ষা অফিস হয়ে ওই আবেদন চূড়ান্তভাবে মনোনয়নের জন্য পাঠানো হয় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের আঞ্চলিক অফিসে। শিক্ষক গোলাম রহমান সিকদারও ১১তম গ্রেডে বেতন পেতে আবেদন করেছিলেন। তার আবেদন উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিস ঘুরে বরিশাল আঞ্চলিক অফিসে গিয়ে আটকে যায়।

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক সুচরিতা কুণ্ডু। তিনিও ২০০৮ সালের বিএড কোর্স সম্পন্ন করে দশম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। সুচরিতা কুণ্ডুও উচ্চতর স্কেলে (১১তম) বেতন পেতে আবেদন করেন। তার আবেদনও আটকে গেছে। কারণ তিনি বিএড কোর্স সম্পন্ন করেছেন দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার অর্ধশত শিক্ষকের উচ্চতর স্কেলে বেতন পাওয়ার আবেদন আটকে দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরের (মাউশি) বরিশাল আঞ্চলিক দপ্তর।

আরো পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা একই রোল নিয়ে পরের ক্লাসে

শুধু বরিশাল দপ্তরেই নয়, দেশের ৯টি বিভাগে মাউশির আঞ্চলিক দপ্তরগুলোতে শত শত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উচ্চতর বেতন স্কেলের আবেদন আটকে দেওয়া হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের কারণে। ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ- যে সনদের কারণে তাদের উচ্চতর বেতন স্কেল দেওয়া হচ্ছে না, তা অনেকটা অস্পষ্ট। কারণ তারা একই সনদের মাধ্যমে বিএড স্কেলসহ সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন।

আরো পড়ুন: শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে যা বললেন এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যান

তাদের আরো অভিযোগ- ওই সনদ দিয়েই তারা বিএড স্কেলের বেতন পাচ্ছেন। মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এ ব্যাপারে একাধিবার বিদ্যালয়গুলোতে পরিদর্শনও করা হয়েছে। তবে আঞ্চলিক শিক্ষা দপ্তর ঠুনকো অজুহাতে তাদের আবেদন আটকে দিয়েছে।

মাউশির বরিশাল অঞ্চলের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ২০১৮ সালের ২৮ আগস্টে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, 'সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত সনদের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে এবং ওই সনদের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত-সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর গ্রহণ করবে।' আবার পরদিন ২৯ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনে উপরোক্ত আদেশ বাতিল করা হয়। ফলে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যলয়ের সনদের কারণে বরিশাল অঞ্চল থেকে অর্ধশত শিক্ষকের উচ্চতর বেতন স্কেলের আবেদন মঞ্জুর করা হয়নি।

আরো পড়ুন: নতুন পদ্ধতিতে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা হবে যেভাবে

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনামুল হক হাওলাদার বলেন, আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দারুল ইহসানের সব সনদ স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কোনো নতুন নির্দেশনা এলে সে অনুসারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরো পড়ুন: এনটিআরসিএ’র জাল সনদে চাকরি করতেন সুরাইয়া

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

শিক্ষক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ঘটনা পরিক্রমা : শিক্ষক

cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close