• রোববার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
  • ||
শিরোনাম

যে কারণে এখনই প্রণোদনার টাকা পাচ্ছেন না শিক্ষকরা

প্রকাশ:  ০২ জুলাই ২০২০, ২২:১৪ | আপডেট : ০২ জুলাই ২০২০, ২২:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা সংকটে ননএমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী ৪৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বিশেষ অনুদান দেন। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের মধ্যস্থতায় শিক্ষক-কর্মচারীদের অনুকূলে চেক বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জুনের মধ্যে অনুদানের টাকা বিতরণ করার নির্দেশনা ছিলো। কিন্তু অ্যাকাউন্ট জটিলতায় নির্দিষ্ট সময়ে কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মোট ১ লাখ ৫ হাজার ৭৮৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য প্রধানমন্ত্রী তার ‘বিশেষ অনুদান’ খাত থেকে এই অর্থ বরাদ্দ করেন। এরই মধ্যে যাচাই-বাছাই করে নামের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ৬৪ জেলার ৮ হাজার ৪৯২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) নন-এমপিও ৮০ হাজার ৭৪৭ জন শিক্ষক পাবেন ৫ হাজার টাকা করে। ২৫ হাজার ৩৮ জন নন-এমপিও কর্মচারীর প্রত্যেকে পাবেন ২ হাজার ৫০০ টাকা।

জানা গেছে, নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নন-এমপিও শিক্ষকদের বিশেষ অনুদানের এ টাকা পাঠানোর জন্য। জেলা প্রশাসকদের অফিস থেকে জেলা শিক্ষা অফিসে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে ৩০ জুনের মধ্যে শিক্ষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরসহ তালিকা পাঠাতে বলা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা অফিস থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ তালিকা চাওয়া হয়। কিন্তু দেশের অনেক নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীর নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। অ্যাকাউন্ট না থাকলে শিক্ষা অফিস থেকে অ্যাকাউন্ট খুলতে বলা হয়। কারণ শুধুমাত্র অ্যাকাউন্টেই অনুদানের টাকা দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষক জানান, শেষ সময় শিক্ষা অফিস থেকে খবর পেয়েছেন তারা। তাই অ্যাকাউন্টসহ বিস্তারিত তথ্য দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। এমনকি ১ জুলাই ব্যাংক হলিডে। সেদিনও অ্যাকাউন্ট নম্বর সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া যোগাযোগের সমস্যাও রয়েছে কারো কারো। তাই কয়েকদিন সময় বাড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) ড. অরুণা বিশ্বাস বলেন, মহামারি পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রী এই অনুদান দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের হাতে অনুদানের অর্থ ঠিকভাবে যেন যায়, সেজন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়। বিষয়টির সাথে জেলা শিক্ষা অফিস, জেলা প্রশাসকরা সম্পৃক্ত রয়েছেন। শিক্ষকরা বাড়তি সময়ের জন্য আবেদন করলে তাদের স্বার্থেই বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের তালিকাভুক্ত ইআইআইএন নম্বরধারী ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিশালসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীদের হালনাগাদ তথ্যাদি সংগ্রহ করে ডাটাবেজ তৈরি করা হয়। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে ব্যানবেইসের তালিকায় থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নন-এমপিও শিক্ষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর স্থানীয় প্রাশাসনের মাধ্যমে নামের তালিকা যাচাই-বাছাই করা হয়। সেই তালিকার ভিত্তিতেই শিক্ষকরা পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুদান।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত তিন মাসে এজন্য দেশের সব মহলের মানুষের জন্য গ্রহণ করেছেন প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ। সারা দেশে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার ঐকান্তিক চেষ্টার পাশাপাশি দিনমজুর ও গরিব শ্রেণির মানুষের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে ঘোষণা করেছেন এক লাখ তিন হাজার ১১৭ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ। এর অংশ হিসেবে অনুদান পাচ্ছেন নন-এমপিও শিক্ষকরাও।

আরো পড়ুন: একমাসের ছুটি নিয়ে অনুপস্থিত ১১ বছর, তবুও চাকরি আছে এমপি কন্যা শিক্ষিকার

পঞ্চমবারে বিএসএস ক্যাডার হলেন শিক্ষিকা তৃপ্তি

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

শিক্ষক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close