• শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

বন্ধের সুযোগে কবি নজরুল কলেজের হলে চোরের হানা

প্রকাশ:  ০১ জুন ২০২০, ২২:০১
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

রাজধানীর কবি নজরুল কলেজের শহীদ শামসুল আলম হলে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৩১ মে) রাতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, করোনাভাইরাসের কারণে সরকার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করলে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বন্ধ অবস্থায় হলের নিরাপত্তায় যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি হল শিক্ষার্থীদের।

কলেজের শহীদ শামসুল আলম হলের শিক্ষার্থী সিরাজুল ইসলাম জানান, রোববার আনুমানিক রাত ৯টায় হলে চুরি হয়। ৩০২ ও ৩০৩ নাম্বার রুমের তালা ভেঙে দুইরুমের ৮টি ফ্যান, একটা কম্পিউটার, একটি ডিএসএলআর ক্যামেরাসহ বই ও পোশাক এবং ব্যবহার সামগ্রী, চশমা, ঘড়ি ইত্যাদি নিয়ে যায়।

হল দুটিতে ইয়াসিন আরাফাত স্বপন, ইমাম হোসেন ইমন, সানবীর মাহমুদ ফয়সাল, মেহেদী হাসান জয়, শরীফ, হাফিজ, জুয়েল, মেহেদী হাসান, সিরাজ থাকেন।

এদের মধ্যে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত স্বপন বলেন,করোনা ভাইরাসের জন্য রুম খালি করতে বলা হয়েছে। আমার সবাই গ্রামের বাড়িতে চলে এসেছি। কলেজ প্রশাসন যদি এ বিষয়ে সচেতন থাকতো এবং নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতো তাহলে চুরির ঘটনা ঘটতো না।

চুরির ঘটনার জন্য কলেজ প্রশাসনের অসচেতনতাকে দায়ী করেন তিনি।

স্বপন জানান, কলেজের অধ্যক্ষকে হল সংস্কার ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বারবার অনুরোধ জানিয়েছি আমরা। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী বায়েজিদ সিকদার রাহাদ বলেন, শহীদ শামসুল আলম হলে চুরি অনেক হতাশাজনক। হলের নিরাপত্তার বিষয়টি বেশ কয়েকবার তুলে ধরা হয়েছে কলেজ প্রশাসনের কাছে কিন্তু কলেজ প্রশাসনের অবহেলায় আজ এইসব ঘটনা ঘটলো।আমার এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।

দর্শন বিভাগের ছাত্র কাওসার মিরাজ শ্রাবণ বলেন, কলেজ প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে হলের নিরাপত্তার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তার ফলে বেড়েছে হলে বহিরাগতদের প্রবেশ, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের আনাগোনা। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বহিরাগতদের উপদ্রপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। কলেজ প্রশাসন ও অধ্যক্ষকে জানানো হচ্ছে তারা প্রতিবারই পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো কাজ করেননি।

রাজধানীর পুরান ঢাকার কবি নজরুল সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার। অথচ এতসংখ্যক শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজে নেই কোনো আবাসন ব্যবস্থা। কলেজের একমাত্র ছাত্রাবাস শহীদ শামসুল আলম হলর সিট সংখ্যা ১২০টি। সেখানে গাদাগাদি করে থাকে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী। সেসব শিক্ষার্থীদের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেননি কলেজ প্রশাসন।

ঐতিহ্যের ১৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটিতে চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ও আবাসন ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতে এটি কলেজে প্রশাসনের অপারগতা ও অধ্যক্ষের অবহেলা এর জন্য দায়ী।

কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও ইসলাম শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আকবর হুসাইন বলেন, চুরি প্রসঙ্গে আমি এখনো পর্যন্ত কিছুই জানি না। হলের নিরাপত্তার বিষয়টি অধ্যক্ষ স্যার ভালো জানাতে পারবেন। যেহেতু চুরি হয়েছে নিশ্চিত জানতে পারিনি, তাই আমি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করবো না।

এ ব্যাপারে জানতে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকারের সাথে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সুত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

কবি নজরুল কলেজ,চোরের হানা,চুরি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close