• বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

তৌহিদ হত্যা: ঘাতক গ্রেফতার, পুলিশ ও পরিবারের বক্তব্যে অমিল

প্রকাশ:  ০৪ মে ২০২০, ২৩:৪৫ | আপডেট : ০৫ মে ২০২০, ০২:১৯
কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়য়ের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার। সোমবার (৪ মে) বিকাল সাড়ে ৩টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত শেষে খুনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আহমার উজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তৌহিদুলের সাথে ঘাতক আতিকুজ্জামান আশিক(২৭) এর কথা কাটাকাটি হয়। আতিক এলাকার পেশাদার চোর ও মাদকসেবী। ঘটনার দুইদিন আগে ওই মেসের রাস্তার মোড়ে রমজান মাসে সিগারেট খাওয়া নিয়ে ঘাতক আশিককে ভৎসনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র তৌহিদ। তখন এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। এসময় তৌহিদের হাতে থাকা মোবাইলের প্রতি লোভ হয় আশিকের। পরে তৌহিদেকে অনুসরণ করে বাসায় গিয়ে তার রুম দেখে আসে ঘাতক আশিক।

তিনি জানান, ঘটনার দিন শুক্রবার (১ মে) রাত ৩টার দিকে সে বাসার ছাদ হয়ে মোবাইল চুরি করতে গেলে তৌহিদ তাকে দেখে ফেলে। এ সময় উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে পাশে থাকা রড দিয়ে তৌহিদকে আঘাত করে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যায় ঘাতক আশিক। পরবর্তীতে মেস মালিক এসে তৌহিদকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্ত্যবরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাথমিকভাবে সংঘটিত ঘটনাটি চুরি সম্পর্কিত হওয়ায় থানা পুলিশ এবং ডিবি যৌথ অভিযানের ভিত্তিতে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে মূল ঘাতক আতিকুজ্জামান আশিককে ঘটনার দু’দিন পর রোববার (৩ মে) বিকেলে নগরের আকুয়া বোর্ডঘর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তার দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডের সময় পরিহিত রক্তমাখা প্যান্ট ও টিশার্ট গাজীপুরের শ্রীপুর এমসি বাজার থেকে এবং হত্যায় ব্যবহৃত রডটি ওই মেসের পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

সোমবার (৪ মে) দুপুরে গ্রেফতারকৃত আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার মোঃ আহমার উজ্জামান।

এ বিষয়ে প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান বলেন, পুলিশ প্রশাসনের চেষ্টা এবং পরিশ্রমের ফলে দ্রুততম সময়ে আমাদের সন্তানকে যে হত্যা করেছিল তাকে গ্রেফতার করা গেছে। খুনীকে গ্রেফতার পুলিশ প্রশাসন এর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়য়ের উপাচার্য স্যার । এখন দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করার জন্যে কাজ করতে হবে।

নিহত তৌহিদ এর মামা ফারুখ আহমেদ বলেন আমরা এই তদন্তে সম্পূর্ণভাবে সন্তুষ্ট নয়। একা এ কাজ সম্ভব নয়। আরও কেউ যুক্ত আছে। আমি আরও ভালো করে তদন্তের দাবি জানাই। সেই সাথে পুলিশ সংবাদ সম্মেলনে রড দিয়ে আঘাত এর কথা বললেও তৌহিদ এই কথা বলে যায়নি। তার কথা অনুযায়ী উপর থেকে এসে তাকে স্ট্যাপ করে উপর দিকে চলে যায়। যেখানে পুলিশের দেয়া বক্তব্য এবং তৌহিদের কথার সাথে অনেকটা অমিল রয়েছে।

এদিকে পুলিশের তদন্ত নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে এ তদন্তকে অস্বচ্ছ বলে দাবি করেছে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

বক্তব্য,পরিবার,পুলিশ,গ্রেফতার,ঘাতক,তৌহিদ,হত্যা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close