• শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ২০ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি বন্ধের নির্দেশ

প্রকাশ:  ২৫ এপ্রিল ২০২০, ২১:৩৩ | আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২০, ২১:৪৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

মহামারি করোনাভাইরাস আক্রান্তদের সহায়তার নামে মাঠপর্যায়ে নির্বিচারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে এমন অভিযোগ পাওয়ার পর তা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ স্বাক্ষরিত বুধবার (২৩ এপ্রিল) এক চিঠিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। আদায় করা চাঁদা শিক্ষকদের ফেরত দেয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, করোনা রোগীদের সহায়তায় প্রাথমিক শিক্ষকরা তাদের বৈশাখী ভাতার ২০ শতাংশ অর্থ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দিয়েছেন। এছাড়া অনেকে নিজের সামর্থ অনুযায়ী সহায়তা করছেন। সম্প্রতি ত্রাণ সহায়তার নামে শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে মর্মে সংবাদ মাধ্যমে খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বেআইনি।

এরআগে উপজেলায় শিক্ষকদের মাথাপিছু ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। আবার অসচ্ছল ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করার জন্য শিক্ষকদের নূ্ন্যতম কোনো সুরক্ষা সরঞ্জাম দেওয়া ছাড়াই শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি যেতে বাধ্য করছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা। এতে শিক্ষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লকডাউনের মধ্যেই তাদের দিয়ে স্থানীয় বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকার দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের তথ্য সংগ্রহের কাজ করানো হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালকের টেলিফোনিক নির্দেশে এই তথ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

যেসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, সেসবের মধ্যে রয়েছে- সংশ্নিষ্ট বিদ্যালয় ও ক্যাচমেন্ট এলাকার অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিজিডি, ভিজিএফ, ১০ টাকা কেজির চাল ও অন্যান্য সরকারি বরাদ্দপ্রাপ্ত পরিবারের তালিকা তৈরি, অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সংখ্যা নির্ধারণ করে কোন শিক্ষক কতটি অসচ্ছল বা দরিদ্র পরিবারকে মানবিক সাহায্য করেছেন এবং কী ধরনের সাহায্য করেছেন তার বিবরণ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো তালিকাভুক্ত দরিদ্র পরিবারের সংখ্যা নির্ধারণ। এসব তথ্য নির্দিষ্ট ছক আকারে তাদের উপজেলা শিক্ষা অফিসে পাঠাতে হচ্ছে।

উপপরিচালকদের টেলিফোনিক নির্দেশের উল্লেখ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসাররা (ডিপিইও) এ-সংক্রান্ত চিঠি ইস্যু করেছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে। এ চিঠির ৫নং কলামের সুযোগ নিয়ে অনেক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষকদের কাছ থকে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে বাধ্য করছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা পিয়নদের সহকারী শিক্ষকদের বাড়িতে পাঠিয়ে এই চাঁদা আদায় করাচ্ছেন। আবার অনেক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইউএনওর ত্রাণ তহবিলের জন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে এক দিনের বেতনের সমপরিমাণ টাকা বেতন থেকে কেটে নিচ্ছেন।

মাঠপর্যায়ের প্রাথমিক শিক্ষকরা জানান, মাত্র কয়েকদিন আগে তারা বৈশাখী ভাতার ২ শতাংশ হিসেবে প্রায় ৩০ কোটি টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দিয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষক নেতা ও কর্মকর্তাদের আলোচনার পর স্বেচ্ছায় এই অনুদান দেওয়া হয়। এখন আবারও করোনা আক্রান্তদের ত্রাণের জন্য টাকা দিতে বাধ্য করায় শত শত শিক্ষক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এদিকে চিঠিতে বিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ থাকায় প্রধান শিক্ষকরা টাকা কালেকশন করতে উঠেপড়ে লেগেছেন।


পূর্বপশ্চিমবিডি/কেএম

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর,করোনাভাইরাস,চাঁদাবাজি,বন্ধের নির্দেশ,শিক্ষক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close