• মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

শহীদ মধুদা'কে পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ

প্রকাশ:  ২৬ মার্চ ২০২০, ২৩:৫৫ | আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২০, ০০:১২
শফি আহমেদ

একাত্তরের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে মধুদা, তাঁর স্ত্রী এবং পুত্র ও পুত্রবধূকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী হত্যা করে।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সবার প্রিয় মধুদা। সে সময় হত্যা করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র-শিক্ষককে। পরিস্থিতি এমনই ছিল যে, প্রিয় মানুষটি নিহত হওয়ার পরও দু'দিন রক্তমাখা ঘরেই থাকতে হয়েছিল মধুদা'র পরিবারকে।

সম্পর্কিত খবর

    মধুদা, যাঁর আন্তরিক ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতির মধ্য দিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের আপন হয়ে উঠেন। তাঁর পরিচালিত মধুর কেন্টিন হয়ে ওঠে ছাত্ররাজনীতির সূতিকাগার, এক পরম ভরসার স্থল। ৪৮'র ১১ মার্চ ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকে, ৪৯'র বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলন, ৫২'র ভাষা আন্দোলন, ৬২'র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬'র ছয় দফা আন্দোলনের সময় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, ৬৯'র ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান প্রস্তুতি, ৭০'র সাধারণ নির্বাচন এবং সর্বশেষ স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতির বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত আর যোগ্য নেতৃত্ব আসে এই মধুর কেন্টিন থেকেই। ৬৯ থেকে ৭১ পর্যন্ত বহু গোপন মিটিং হয়েছে এই মধুর কেন্টিনে, আর এসব মিটিংয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ছাড়া কেবল মধুদাই জানতেন। সকলের খাওয়ার ব্যবস্থা মধুদা নিজ হাতেই তুলে নিয়েছিলেন। আর এভাবেই তৎকালীন প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ছাত্র আন্দোলন সহ স্বাধীনতা আন্দোলনের নিরাপদ ভরসাস্থল হয়ে উঠেছিল মধুর কেন্টিন।

    'মধুদা : শহীদ মধুসূদন দে স্মারক গ্রন্থ' বইটিতে শিক্ষা এবং সংস্কৃতি ব্যক্তিত্বদের অনেকেই তাঁদের স্মৃতিকথায় মধুদা সম্পর্কে লিখেছেন। এই স্মারক গ্রন্থের ভূমিকায় বাংলা সাহিত্যের ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান লিখেছেন - ''একদিকে শিক্ষার্থীদের জন্য মধুর ভালোবাসা, আর অন্যদিকে মধুর প্রতি শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা - এসব কিছু পাকিস্তানিদের কাছে মধুকে সন্দেহভাজন করে তুলেছিল। ব্যবসায়িক লেনদেনের মাঝে এত চমৎকার স্নেহ আর সম্প্রীতির সম্পর্ক কীভাবে গড়ে উঠতে পারে? এখানে অবশ্যই সন্দেহজনক কিছু চলছে। মধুর ব্যতিক্রমধর্মী ব্যক্তিত্বই যে ছাত্র-ছাত্রীদের ভরসার কারণ হয়ে উঠেছিল, এসব কিছুই শত্রুদের বোধগম্যতায় আসেনি।"

    অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম লিখেছেন -

    "মধুর কেন্টিনে তিনটি বড় টেবিল ছিল যেখানে প্রায় ৩০ জন বসতে পারতো। এই তিনটি টেবিল অলিখিতভাবেই ঘোষিত ছিল তৎকালীন বিচক্ষণ ছাত্র নেতাদের জন্য। সকাল থেকে সন্ধ্যা আইন বিভাগের সেই ছাত্রদের দখলেই টেবিলগুলো থাকতো।"

    "রাজনীতির পাশাপাশি সংস্কৃতির চর্চাও চলত মধুর কেন্টিনে। সংস্কৃতি সংসদ ও নাট্যকেন্দ্র'র মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর শুরুটা হয়েছিল মুলত ৫০'র দশকের প্রথমার্ধে, ছাত্রদের চায়ের কাপের আড্ডায়। শামসুর রাহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, আলাউদ্দিন আল আজাদ, সৈয়দ আতিকুল্লাহ, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, সৈয়দ শামসুল হক, আবদুল গাফফার চৌধুরী এবং জহির রায়হানের মতো ক্ষণজন্মা ব্যক্তিবর্গের যাত্রা শুরু হয়েছিল এখান থেকেই।"

    "১৯৪৮-এর ১১ মার্চ এবং ১৯৫২-এর ২১ ফেব্রুয়ারির কার্যক্রমের সকল পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি এই মধুর কেন্টিনে বসেই নেওয়া হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই পুলিশ এবং ইপিআর বাহিনীর চোখে পড়ে যান মধু। এদের আক্রমণে বহুবার মধুর কেন্টিনে ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে।"

    তারপর একটা সময় নেমে আসে সেই অন্ধকার, ১৯৭১'র ২৫ মার্চ ভয়াল কালরাত; পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী চালায় 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে নারকীয় গণহত্যাযজ্ঞ। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করে শিক্ষক, ছাত্রদের সাথে মধুদা, তাঁর স্ত্রী, পুত্র, পুত্রবধূকেও হত্যা করে।

    মধুদা হত্যার স্মৃতিচারণে তাঁর ছেলে অরুণ কুমার দে ~ '.... ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের যে প্রস্তুতি, সবকিছুই তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনকে ঘিরে। বাবা তখন পুরোপুরি যুবক। এরপর ৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট, ৬৬-এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যূত্থান, ৭০-এর সাধারন নির্বাচন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ। তখন সব ছাত্র নেতারা ক্যান্টিনে আসতেন। আব্দুল মতিন, গাজিউল হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ যারা ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তারা এবং পৃথক পৃথক দলের নেতারা কেন্টিনে আসতেন। ২৫ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত বাবা ক্যান্টিনে ছিলেন। তখন পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে একটা থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল।

    ২৩, ২৪, ২৫ মার্চ পর্যন্ত পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একটা থমথমে অবস্থা। ২৫ মার্চ বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় একটা ছাত্রসভা ছিল। ওই সভায় তোফায়েল আহমেদ, রাশেদ খান মেনন ও অন্যান্য নেতারা এলেন। সবাই ক্যান্টিনে চা পান করেন। এখান থেকে তারা শহীদ মিনারের দিকে যান। যাওয়ার সময় তারা বাবাকে একটা কথা বলে গিয়েছিলেন, মধু দা দেশের পরিস্থিতি কিন্তু খুব একটা ভাল না। একটু সাবধান হলে ভাল হয়। বাবাও তাদের আবার বললেন, আপনারাও একটু সাবধান হবেন।

    হত্যাকাণ্ডের বিবরণ :

    ১৯৭১ সাল। ২৫ মার্চ মধ্যরাত। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো ক্যাম্পাস ঘিরে ফেলল। ২৫ মার্চ ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সামনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এসে অবস্থান নিলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা টিএসসি থেকে ভাগ হয়ে গেল পুরো ক্যাম্পাসে। এক গ্রুপ গেল জগন্নাথ হলে, এক গ্রুপ গেল জহুরুল হক হলে, এক গ্রুপ এস এম হলে, আরেক গ্রুপ গেল রোকেয়া, শামসুন্নাহার হলের দিকে। আরো কিছু ভাগ হয়ে আবাসিক এলাকাগুলোতে গেল। রাত ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা নীরব নিস্তব্ধ। রাত সাড়ে ১২ টায় তারা শুরু করল নির্মম হত্যাকাণ্ড।

    কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে যেতে জগন্নাথ হলের বিপরীত পাশে হাতের বামে ৪ তলা ভবনটি। আমরা তখন দোতলায় থাকি। আমার বাবা-মা, বড় ভাই, বউদিসহ ১১ জন বাসায় ছিলাম। গুলির শব্দ শুনে আমাদের পরিবারের সবার ঘুম ভেঙে যায়। বারান্দার কাছে দাঁড়িয়ে দেখি লোকজন এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছে আর বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করছে। কর্মচারীদের ঘরগুলো সব দাউ দাউ করে আগুনে জ্বলছে।

    আর গুলির শব্দ তো চিন্তাই করা যায় না। মানুষের চিৎকার। জগন্নাথ হলের বর্তমান যে সীমানা দেয়াল সেটি তখন ছিল না। আমরা গুলির শব্দ শুনছিলাম।

    ভোর হয়ে আসছে আস্তে আস্তে। ২৬ মার্চ ভোর ৬টা-৭টার দিকে আমাদের ভবনের সামনে মেইন রোডে আর্মির আট-দশটা গাড়ি। একটা গ্রুপ গেল গোবিন্দ চন্দ্র দেবের (জিসি দেব) বাংলোর দিকে। বাসাটি ছিল রাস্তার অপর পাশে। আরেকটা গ্রুপ আসল আমাদের বাসায়। আরেকটা গ্রুপ গেল শিব মন্দিরের দিকে। আর কিছু অংশ গাড়ি নিয়ে রাস্তায় অবস্থান করছিলো।

    ১০-১২ জনের একটা গ্রুপ আমাদের বাসায় চলে এলো। নিচে এসে জিজ্ঞেস করল বাবার কথা। মধু দা কোথায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্টাফ। ড্রাইভারের চাকরি করত। নাম ছিল তোতা মিয়া। হয়ত রাজাকার মাইন্ডের ছিল। সেই এসে বাসা দেখিয়ে দিয়েছে। বলেছে এ বাসায় থাকে। তখন তারা দোতলায় এসে বাসার দরজায় আঘাতের পর আঘাত শুরু করে। দরজা খোলার পর জানতে চায় বাবা কোথায়। বাবা কোথায় থাকে?

    বাবা তখন ৪ তলায় ছিলেন। বলা হলো যে উপরে থাকে। তখন চলে গেল চার তলায়। ওদের ঊর্দু ভাষায় দরজা খুলো, দরজা খুলো, বলার শব্দ শোনা গেল। বাবা দরজা খুলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা বাবাকে ঘিরে ধরে। বাবাকে হাতকড়া পড়িয়ে পাশের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। চারিদিক থেকে বাবাকে ঘিরে দাঁড়ায়। বাবা হাত উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এরপর আমাদের ঘরে প্রবেশ করল মাত্র একজন সৈন্য। আর বাকি সবাই গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলো। ওই একজন পুরো বাসায় সবকিছু তছনছ করে ফেলল। কাজি নজরুল ইসলামের ছবি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি, বাবার সাথে তৎকালীন ভিসি আবু সাঈদ স্যারের ছবিসহ সবকিছু তছনছ করে ফেলল। র্যা গ ডে’তে ছাত্রছাত্রীদের সাথে বাবাও যে আনন্দের শামিল সেই ছবিগুলো সব নষ্ট করে দিল। ওই একজনই তাণ্ডব চালায় পুরো বাসায়। আর সবাই বাইরে গেটে দাঁড়িয়ে ছিল।

    ছয় মাস আগে বিয়ে করেছে আমার বড় ভাই রনজিৎকুমার দে। বাবা খুব শখ করে উনাকে বিয়ে করিয়েছেন। বউদি রীনা রানী দে পাশের রুমে ছিলেন। তিনি ছিলেন খুব সহজ সরল। গ্রামের মেয়েরা যেমন হয় আর কি। ঘরের ভেতরে যখন যায় বউদি তখন বসা। ওই অবস্থায় বউদিকে ধরতে যায় সেই সৈন্য। বউদি ছুটোছুটি শুরু করেন। বোন ছিল গেটের সামনে দাঁড়ানো। সে ভাইকে ডাক দেয়। দাদা, দাদা, বউদিকে মেরে ফেলতেছে। বড় ভাই এসে বলল হাত তোল, হাত তোল। কথাটি বলার সঙ্গে সঙ্গে বড় ভাইয়ের বুকে গুলি। ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়লেন তিনি। এক পর্যায়ে বউদি বসে পড়লেন। ঘোমটা দিয়ে বসে আছেন তিনি। ওই অবস্থায়ই বৌদিকেও গুলি। ভাই-বৌদি দুজনেই মারা গেলেন।

    এরপর বাবাকে মারতে যায়। বাবাকে যখন মারতে যায় তখন আমার মা বাবাকে জড়িয়ে ধরেন। কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, আমারতো সবই শেষ করে দিলে। আমার স্বামীকে মেরো না। ওই অবস্থায় মায়ের সমস্ত শরীর গুলি করে ঝাঁঝরা করে দিয়েছে। মা মারা গেলেন। মাকে মারার সময় দুইটা গুলি বাবার পায়ে লাগে। পরে বাবাকে ওইভাবে রেখে ওরা সবাই চলে গেল। এক ঘণ্টা পরে দুইজন বাঙালিকে নিয়ে আসল। ওরা লাশগুলোকে সরিয়ে নিল। পরে বাবাকে নিয়ে গেল। সামনে পেছনে পাকিস্তানি সৈন্যরা। আমি ওদের পায়ে ধরে বাবাকে নিয়ে যেতে বাধা দিই। সৈন্যদের একজন পায়ের বুট দিয়ে আমাকে জোরে লাথি মারে। পরে ওরা বাবাকে নিয়ে গেল জগন্নাথ হলের মাঠে। ওদিকে জগন্নাথ হল বাংলো থেকে নিয়ে আসে দর্শন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক গোবীন্দ চন্দ্র (জিসি) দেবকে। তিনিও গুলিবিদ্ধ ছিলেন। বাবা ও জিসি দেবসহ ছাত্র-শিক্ষকদের এক লাইনে দাঁড় করাল। সবাইকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করল।

    এরপর ওখানেই মাটি খুঁড়ে বিরাট গর্ত করলো। আর ওখানেই মাটি চাপা দেয় সবাইকে। বিশ্ববিদ্যালয়েরই ৪-৫ জন কর্মচারী, যাদেরকে দিয়ে লাশ টানিয়েছিল তাদেরকে দিয়েই মাটি খোঁড়ানো হয়েছে।

    পুরো বাসা রক্তে ভরা। এ অবস্থায় আমরা পুরো পরিবার দুদিন ছিলাম বাসায়। পরে আমরা চলে যাই দেশের বাড়ি বিক্রমপুরে। ওখানে আমার বড় বোন আর বড় দুলাভাই ছিল। সেখানে গিয়েও শান্তিতে থাকতে পারিনি। পরে আমার বাবার এক বন্ধু আমাদের সাভারে নিয়ে যায়। তিনি ১২ দিন রাখার পর আবার বিক্রমপুর পৌঁছে দিলে তারপরও থাকা সম্ভব হয়নি। রাজাকারদের সহযোগিতা নিয়ে ওখানেও খোঁজাখুঁজি। পরে রাতের অন্ধকারে ভারতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। সাতদিন-সাত রাত হেঁটে ভারতের ত্রিপুরায় উঠি। ওখানে ক্যাম্পে ছিলাম কিছু দিন। তারপর আত্মীয়দের বাসায় থাকলাম কিছুদিন। এভাবে দেশ স্বাধীন হওয়ার আগ পর্যন্ত ছিলাম। দেশ স্বাধীন যেদিন হয়েছে সেদিনই বাংলাদেশে চলে আসলাম।'

    শেষ কথা :

    মধুর ক্যান্টিন বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক উত্থানের, প্রতিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক নাম। এই ক্যান্টিন থেকেই স্বাধিকার-স্বাধীনতার আন্দোলনের কর্মসূচি, পরিকল্পনা করেন তৎকালীন ছাত্রনেতারা। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ থেকে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সিরাজুল আলম খান, তোফায়েল আহমেদ, আবদুর রাজ্জাক, মতিয়া চৌধুরী, রাশেদ খান মেনন, মাহবুবউল্লাহ প্রমূখ এউ মধুর ক্যান্টিন থেকেই বিভিন্ন কর্মসূচী প্রদান করেন।

    এই মধুর ক্যান্টন থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ওঠে, প্রতিবাদ ওঠে জিয়াউর রহমান আর এরশাদের সেনা-স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধেও। ৮০'র দশকে ছাত্র আন্দোলনের বারুদে আগুন ধরানোর কাজে ছাত্রনেতারা এই মধুর ক্যান্টিনেরই আশ্রয় নেন।

    মধুর কেন্টিন নিয়ে খুব প্রচলিত একটা কথা ছিল যে, এখানে না এলে যোগ্য রাজনীতিবিদ হওয়া যায় না। তখনকার ছাত্র রাজনীতির দিকে তাকালে এটি স্বীকার করতেই হয় যে, রাজনীতি করা বা দেশকে একেবারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার ইচ্ছেটা হলো - যে কোনো সময়ের সবচেয়ে সাহসী ইচ্ছে। আর সেজন্য থাকা চাই- স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি আর উন্নত মানসিকতা; চাই - নির্ভীক মত প্রকাশের সাহস আর অন্যের যুক্তিসংগত মত গ্রহণ করার মতো উদারতা। মধুর কেন্টিনে ঠিক এই চর্চাটাই একসময় নিয়মিত হতো। যেখানে বসার জন্য বা আলোচনা করার জন্য প্রয়োজন ছিল সততা, যোগ্যতা আর বিস্তৃত বিষয়ে পড়াশোনার মাধ্যমে অর্জিত স্বচ্ছ জ্ঞান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মধুর কেন্টিন অপেক্ষায় আছে সময়ের সেসব সাহসী সন্তানদের জন্য।

    লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা ও কলামিস্ট

    পূর্বপশ্চিম- এনই

    মধুর কেন্টিন
    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close