• বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০, ২৪ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

ডাকসুর একবছর

ভিপিকে না জানিয়েই খরচ হয়ে যায় কোটি টাকা!

প্রকাশ:  ১২ মার্চ ২০২০, ০৪:৫২ | আপডেট : ১২ মার্চ ২০২০, ০৫:১৭
ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ-ডাকসু নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হয়েছে৷ দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০১৯ সালের ১১ মার্চ নানা অনিয়সের মধ্য দিয়ে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়৷ সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ এ নির্বাচনে মোট ২৫টি পদের মধ্যে জিএস এবং এজিএসসহ ২৩টি পদ পায় ছাত্রলীগ৷ আর ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদকের পদ পায় ছাত্র অধিকার পরিষদ, যারা কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল৷ নির্বাচিতরা ২২ মার্চে দায়িত্ব নিলেও ভিপি নুরুল হক নুর গত এক বছরে কার্যত কোণঠাসা ছিলেন৷ ভিপিকে না জানিয়ে তার অনুমোদন ছাড়াই খরচ করা হয়েছে ডাকসু তহবিলের এক কোটি ১১ লাখ টাকা।

ডাকসুর তহবিলে সর্বমোট জমা ছিল এক কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে নানা অনুষ্ঠান, প্রকাশনা ও উন্নয়ন খাতে ব্যয় হয়েছে এক কোটি ১১ লাখ টাকা। তবে এই মোটা অংকের টাকা কোনখাতে কিভাবে বরাদ্দ ও খরচ হয়েছে, এসবের কিছুই জানেন না ভিপি নুর।

ডাকসুর তহবিলের টাকা ব্যয়ে কেউ তার কাছ থেকে কোনো অনুমোদন নেননি বলে দাবি করেছেন ভিপি নুর। তিনি বলেন, ডাকসুর কোনো বৈঠকে এইসব ব্যয় বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়নি৷ আমারও অনুমোদন দূরে থাক, আমাকে জানানোও হয়নি। হয়তো ছাত্রদের জন্যই ব্যয় হয়েছে৷ কিন্তু এতে কোনো স্বচ্ছতা ছিলো না৷ কোনো নিয়ম নীতি মানা হয়নি৷ আমি দরিদ্র ছাত্রদের কল্যাণে ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ চেয়েও পাইনি৷

গত একবছরের অর্জনের কথা জানতে চাইলে কোটা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এই ছাত্রনেতা বলেন, ডাকসু নির্বাচন হওয়াটাই হলো আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। এর ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে পেরেছে। আগে তাদের সঙ্গে কোনো অন্যায় হলে কারও কাছে বলতে পারতো না, এখন তা পারছে। এখন তারা সমস্যার প্রতিকার পাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ২৮ বছর পর তাদের হারানো অধিকার ফিরে পেয়েছেন। সেটা বন্ধ হতে দেয়া হবে না।

নুরুল হক নুর জানান. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র হলেও অগামীতে ডাকসু নির্বাচন করার আর ইচ্ছে নেই৷ তিনি বলেন, নতুন নেতৃত্বকে জায়গা করে দিতেই আর নির্বাচন করবো না । তবে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবো। লেজুড়বৃত্তিমুক্ত স্বাধীন ছাত্র রাজনীতির জন্য আমি কাজ করে যেতে চাই। এদিকে ডাকসুর কার্যক্রমে কোনোধরনের অসচ্ছতা ছিল বলে মানতে রাজি নন ডাকসুর এজিএস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন৷ তিনি বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবেই ডাকসুর তহবিলের টাকা ছাত্রদের কল্যাণে খরচ হয়। ভিপি নিজেই আসলে কোনো বরাদ্দ নিতে চাননি৷ ডাকসুর প্রধান নির্বাহী হিসেবে অবশ্যই তার বরাদ্দ নেয়ার সুযোগ ছিলো৷ কিন্তু তিনি ছাত্রদের সার্বিক কল্যাণ না চেয়ে কারো সাইকেলের জন্য অথবা শিক্ষা সফরের জন্য টাকা চেয়েছেন৷

ভিপি নুরের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন বলেন, তিনি আসলে ছাত্র রাজনীতি করেননি৷ দূতাবাস কেন্দ্রিক রাজনীতি করেছেন৷ তিনি এখান থেকে জাতীয় রাজনীতির প্রতিষ্ঠা চেয়েছেন৷ নিজের ভবিষ্যতের কথাই তিনি ভেবেছেন। ডাকসুর অনেক কর্মসূচিতে ডেকেও তাকে আমরা পাইনি।

ডাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এক বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করতে হবে। কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে অবশ্যই পরবতী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন তারিখ নির্ধারণের কথাও বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ডাকসু আবার সচল হয়েছে। কোনোভাবেই এর গতি রুদ্ধ করতে দেওয়া হবে না।শিক্ষার্থীদের ভোটের অধিকারের প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কোনো ছাড় দিতে রাজি না আমরা। ভোটের অধিকার নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলবে; প্রশাসনের লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত নেতৃত্বের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে সেটি আমরা কোনো অবস্থাতে কামনা করি না।

ডাকসুর ভিপি এবং এজিএসসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি বিষয়ে একমত। তারা মনে করেন, ডাকসু সচল হওয়ার ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থানের পরিবেশ আগের চেয়ে ভালো হয়েছে৷ কথা বলার সুযোগ বেড়েছে, শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে সচেতনতাও বেড়েছে৷ কিন্তু আরো যা অর্জন সম্ভব ছিলো তা হয়নি সমন্বয়হীনতার কারণে৷ এজন্য নূরের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের অবস্থানকে দায়ি করেন অনেকে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, ভিপি নিজেই তার অবস্থানকে বিতর্কমুক্ত রাখতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেননি।

পূর্বপশ্চিম এনই

ডাকসু,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,ভিপি নুর,ছাত্রলীগ,এজিএস সাদ্দাম
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close